বিটিসি স্পোর্টস ডেস্ক: বাছাইপর্বে একটিও গ্রুপ ম্যাচ না জিতেও কোনোমতে বিশ্বকাপে ফিরেছে সুইডেন। তবে বিশ্বকাপের মূল পর্বে প্রিমিয়ার লিগের তারকা আলেকজান্ডার ইসাক এবং ভিক্টর গিওকেরেসকে নিয়ে গড়া আক্রমণভাগ নিয়ে বিশ্বকাপের কঠিন গ্রুপ ‘এফ’ পার করে দেবে বলে আশা করছে তারা।
গ্রাহাম পটারের দল বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডস, জাপান ও তিউনিসিয়ার মুখোমুখি হবে। ১৯৩৪ সালে অভিষেক হওয়া দেশটি ১৯৫৮ সালে রানারআপ এবং ১৯৯৪ বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিল।
এবার উয়েফা নেশনস লিগে তাদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে তারা প্লে-অফের মাধ্যমে ৪৮-দলের বর্ধিত টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ পায়। ইউক্রেনকে হারানোর পর পোল্যান্ডের বিপক্ষে নাটকীয় ৩-২ গোলের জয়ের মাধ্যমে তারা প্লে-অফে জায়গা করে নেয়।
স্ক্যান্ডিনেভিয়ানরা শেষবার প্লে-অফে ইতালিকে হারিয়ে বিশ্বকাপে খেলেছিল। এরপর তারা রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত ২০১৮ সালের কোয়ার্টার-ফাইনালে পৌঁছে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে যায়।
৩২ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে তৃতীয় স্থান অর্জনের পর এই আসরে এটাই ছিল সুইডেনের সেরা পারফরম্যান্স। এবার সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে পেছনের দরজা দিয়ে বিশ্বকাপে সুযোগ কাজে লাগাতে চায় তারা।
বাছাইপর্বে তাদের দুর্দশা সত্ত্বেও, যার কারণে গত অক্টোবরে আগের কোচ জন ডাল টমাসনকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। পটারের অধীনে টুর্নামেন্টে অনেক দূর যাওয়ার ব্যাপারে আশা প্রবল।
সুইডিশ ক্লাব ওস্টারসুন্ডসে খ্যাতি অর্জনকারী এই ইংরেজ, প্রিমিয়ার লিগের দল ওয়েস্ট হ্যাম থেকে বরখাস্ত হওয়ার পরপরই জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন।
পটার বলেন, এটি একটি বিধ্বস্ত দল ছিল। আক্ষরিক অর্থেই একাধিক দিক থেকে। এটি দেখায় যে ফুটবল কীভাবে বদলে যেতে পারে। কিন্তু ভোরের আগে সবচেয়ে অন্ধকার থাকে।
একজন কোচ হিসেবে আমাকে সঠিক পরিবেশ তৈরি করতে হয়। খেলোয়াড়দের সাহস জোগাতে ও ভয় দূর করতে সাহায্য করার চেষ্টা করতে হয় এবং সবসময় খেলাটাকে উপভোগ করার চেষ্টা করতে হয়।
আর্সেনালের হয়ে গিওকেরেস ফর্মে ফিরতে শুরু করেছেন এবং ইউক্রেনের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকের পর পোল্যান্ডের বিপক্ষে স্মরণীয় শেষ মুহূর্তের জয়সূচক গোলটি করেছেন।
অন্যদিকে নিউক্যাসল থেকে বড় অঙ্কের বিনিময়ে লিভারপুলে যোগ দেওয়ার পর চোটে জর্জরিত প্রথম মৌসুম কাটানোর পর ইসাক এখনও পুরোপুরি ফিট হওয়ার চেষ্টা করছেন।
মিডফিল্ডার লুকাস বার্গভাল বলেন, অবশ্যই সময়টা কঠিন ছিল, শরৎকালটা ছিল অবিশ্বাস্যরকম কঠিন, আমাদের জীবনের অন্যতম অন্ধকারতম সময়। কিন্তু এখন ইউক্রেনের বিপক্ষে আমরা আশার আলো দেখতে পেয়েছি এবং দল হিসেবে কাজ করে আমরা অসাধারণ ভালো খেলছি।
সুইডেন ১৪ জুন মেক্সিকোর গুয়াদালুপে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের টুর্নামেন্ট শুরু করবে। এরপর ছয় দিন পর হিউস্টনে নেদারল্যান্ডস এবং ২৫ জুন টেক্সাসের আর্লিংটনে জাপানের মুখোমুখি হবে। #













