বিটিসি আন্তর্জাতিক ডেস্ক: একসময়ের জমজমাট পর্যটননগরী কিউবা এখন এক গভীর অন্ধকার আর হাহাকারের নাম। জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট আর আমেরিকার কঠোর নিষেধাজ্ঞায় থমকে গেছে দেশটির ১ কোটি মানুষের জীবন।
তেলের অভাবে বিদ্যুৎ নেই, রাস্তায় গাড়ি নেই, এমনকি বাজারে পর্যাপ্ত খাবারও মিলছে না। ২০১৫ সালে ওবামা আমলের সেই সোনালি দিনগুলো হারিয়ে কিউবা এখন কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে।
একদিকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে স্কুল-হাসপাতাল, অন্যদিকে আয়ের পথ হারিয়ে দেশ ছাড়ার পথ খুঁজছে সাধারণ মানুষ।
ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং কিউবার মিত্র দেশগুলোর (যেমন ভেনেজুয়েলা) তেল সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশটি এখন গভীর সংকটে। দ্বীপটিতে জ্বালানি তেল প্রায় শেষ, আর এই অভাব পুরো দেশকে স্থবির করে দিয়েছে।
সারা দেশ দিনের বেশির ভাগ সময় অন্ধকারে থাকছে।
তেলের অভাবে গাড়ি চলছে না, এমনকি রান্নার গ্যাস পাওয়াও দুষ্কর হয়ে পড়েছে। কিউবা তাদের বেশির ভাগ খাবার বিদেশ থেকে আমদানি করে। কিন্তু এখন টাকা ও তেলের অভাবে গ্রামাঞ্চল থেকে শহরে খাবার পৌঁছাতে পারছে না। দোকানের তাক প্রায় খালি।
জ্বালানি বাঁচাতে স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে। অনেক হাসপাতাল তাদের জরুরি সেবা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। আবর্জনার গাড়ি না চলায় রাস্তায় ময়লার স্তূপ জমেছে। পর্যটক নেই বললেই চলে।
বড় বড় আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং নামকরা উৎসবগুলো স্থগিত করা হয়েছে।
আমেরিকা বলছে, কিউবার সরকারকে তাদের পুরনো অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙে দিতে হবে। অন্যদিকে কিউবার প্রেসিডেন্ট জনগণকে সৃজনশীলভাবে টিকে থাকার এবং অল্প খাবারে অভ্যস্ত হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
সাধারণ কিউবানরা এখন দেশ ছাড়ার কথা ভাবছেন। ম্যান্ডি প্রুনার মতো যারা একসময় বিলাসবহুল জীবনযাপন করতেন, তারা এখন নিজেদের গাড়ির লাইসেন্স জমা দিয়ে দিচ্ছেন। তাদের কাছে এখন একটাই প্রশ্ন— খাবার আর তেল ছাড়া তারা কত দিন বাঁচবেন? #















