খুলনা ব্যুরো: খুলনার বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে ট্রাস্টি বোর্ডের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছেন খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আলী আজগর লবী।
এ সময় তার সঙ্গে থাকা বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ডা. রফিকুল হক বাবলুকে নাজেহাল করার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (১২ এপ্রিল) বেলা ১২টার দিকে নগরীর শিরোমনিতে অবস্থিত হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, এমপির সফরকালে তার সঙ্গে থাকা কিছু নেতাকর্মী ডা. বাবলুকে পদত্যাগের জন্য চাপ দেন এবং তাকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’সহ বিভিন্ন কটূক্তি করেন। একপর্যায়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে শারীরিক ভাবে আঘাতেরও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ।
পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এমপি আলী আজগর লবী ট্রাস্টি বোর্ড ভেঙে দেন এবং নিজেকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন। দ্রুত নতুন কমিটি গঠনের আশ্বাসও দেন তিনি।
বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল একটি অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান, যা ১৯৭৬ সাল থেকে চোখের চিকিৎসা ও অন্ধত্ব প্রতিরোধে কাজ করে আসছে। ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে পরিচালিত এ প্রতিষ্ঠানটি একসময় দেশের প্রখ্যাত চিকিৎসকদের সম্পৃক্ততায় পরিচালিত হলেও পরবর্তীতে দলীয় প্রভাবের অভিযোগ ওঠে।
সবশেষ ২০১৯ সালে গঠিত বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আবদুল খালেক। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই বোর্ডের অধিকাংশ সদস্য আত্মগোপনে চলে যান।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২৪ অক্টোবর নতুন ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়, যেখানে চেয়ারম্যান করা হয় বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসক নেতা ডা. রফিকুল হক বাবলুকে। ১১ সদস্যের ওই বোর্ডে বিএনপি, জামায়াত, ছাত্র প্রতিনিধি ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং মেয়াদ ছিল ২০৩০ সাল পর্যন্ত।
ঘটনার বিষয়ে ডা. রফিকুল হক বাবলু বলেন, এমপি মহোদয়ের আসার কথা ছিল, আমরা প্রস্তুত ছিলাম। তিনি আসার কিছুক্ষণ পর তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা আমাকে উদ্দেশ্য করে অভিযোগ করতে থাকেন এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে এমপি মহোদয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। আমি সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি।
ট্রাস্টি বোর্ডের পরিচালক ও জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি এস এ রহমান বাবুল বলেন, সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। হঠাৎ উত্তেজনা তৈরি হয় এবং কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। ট্রাস্টি বোর্ডের নির্ধারিত মেয়াদ থাকা সত্ত্বেও এভাবে ভাঙা কতটা নিয়মসঙ্গত, তা এমপিই ভালো বলতে পারবেন।
এ বিষয়ে এমপি আলী আজগর লবী বলেন, হাসপাতাল নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ ছিল এবং অনেকের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে তাৎক্ষণিকভাবে কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। শিগগিরই অভিজ্ঞ ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে নতুন ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হবে। #















