খুলনা ব্যুরো: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপন এবার পেয়েছে ভিন্ন এক মাত্রা। বৈশাখী মেলায় প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নেপালি শিক্ষার্থীরা, যারা নিজেদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও খাবারের সমাহার নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন উৎসবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চৈত্র সংক্রান্তি ও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। ১৩ এপ্রিল বাঙালি ঐতিহ্যবাহী খেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ঘুড়ি উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখে রয়েছে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, মেলা ও দিনব্যাপী বিভিন্ন স্টল। উৎসবকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরাজ করছে প্রাণবন্ত উৎসবমুখর পরিবেশ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে আয়োজিত মেলায় বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অংশ নিয়েছেন নেপালি শিক্ষার্থীরাও। তাদের স্টলে থাকছে নেপালের ঐতিহ্যবাহী খাবার ও সংস্কৃতির নানা উপকরণ, যা দর্শনার্থীদের জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করছে।
নেপাল থেকে এসে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন আসলাম আনসারি, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।
তিনি বলেন, একজন নেপালি শিক্ষার্থী হিসেবে এখানে আমাদের দেশের সংস্কৃতি তুলে ধরতে পারা সত্যিই গর্বের। এই স্টলের মাধ্যমে আমরা আমাদের ঐতিহ্য ও পরিচয় সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করতে চাই এবং বাংলাদেশি বন্ধুদের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই।
নেপালি স্টলে দর্শনার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে দেশটির জনপ্রিয় খাবার সেল রুটি, মোমোস, ইয়োমারি, মুস্তাংয়ের আলু, ছোইলা, সাদেকো চাউচাউ ও গিলো চটপটি। পাশাপাশি প্রদর্শিত হচ্ছে নেপালের ঐতিহ্যবাহী টুপি, হাতে তৈরি সামগ্রী এবং সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক।
আয়োজকরা বিটিসি নিউজকে জানান, এমন বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশে নিজেদের দেশকে তুলে ধরতে পারা নেপালি শিক্ষার্থীদের জন্য আনন্দের বিষয়। তারা সকলকে স্টলে এসে আড্ডা, গল্প ও সংস্কৃতি বিনিময়ের আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের উদ্যোগে সম্প্রতি নেপালি শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলা ভাষা প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও শুরু হয়েছে, যাতে তারা একাডেমিক ও দৈনন্দিন জীবনে সহজে যোগাযোগ করতে পারেন।
অফিসটির পরিচালক প্রফেসর ড. মো. আশিক উর রহমান বিটিসি নিউজকে বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৪০ জন নেপালি শিক্ষার্থী রয়েছে। তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে পহেলা বৈশাখে অংশ নিতে আগ্রহ দেখায়। আমরা তাদের সহযোগিতা করেছি, যাতে তারা নিজেদের সংস্কৃতি তুলে ধরতে পারে।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সংস্কৃতি ও আমাদের আন্তরিকতা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়লে ভবিষ্যতে আরও বেশি বিদেশি শিক্ষার্থী এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আগ্রহী হবে। #















