বিশেষ (ঢাকা) প্রতিনিধি: দারিদ্র্য দূর করে দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের ভাগ্য পরিবর্তনে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে চাই বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর মাদানী এভিনিউয়ের পিপার ট্রি বিডি ইভেন্ট ভেন্যুতে আয়োজিত জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল (জেসিআই) কার্নিভাল-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি নিজের এই অঙ্গীকারের কথা জানান।
মির্জা ফখরুল বলেন, রাজনীতিতে অনেক কচকচানি কথাই থাকবে। পার্লামেন্টের কথা শুনলে আপনাদের অনেক ভালো লাগবে, অনেকের ভালো লাগবে না। রাস্তায় বিভিন্ন বক্তৃতা শুনলে, কথা শুনলে আপনাদের মনে হবে যে, এটা আবার কী হলো! এটা আমরা আশা করিনি। টেলিভিশনের টকশো আপনাদেরকে বিভ্রান্ত করবে। আরও বেশি বিভ্রান্ত করবে সোশ্যাল মিডিয়া, যে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনারা এখন সবাই আক্রান্ত। এই বিষয়গুলো সম্পর্কে আপনাদের ভাবতে হবে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী বলেন, এখনো আমাদের মাথাপিছু আয় অনেক কম। আমাদের জিডিপি অনেক কম। এখনো আমাদের প্রায় ৪২ ভাগ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। এখনো আমাদের অনেক মানুষ দুবেলা খেতে পান না। এই শহরের ফুটপাথে মানুষ শুয়ে থাকে, পড়ে থাকে পরিবার নিয়ে—তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নাই। এখনো আমাদের অসংখ্য ছেলে-মেয়েরা, শিশুরা লেখাপড়া করতে পারে না, তাদেরকে শ্রম বিক্রি করে বেঁচে থাকতে হয়। এই যে একটা দেশ, এই যে সমাজ, এটাকে পরিবর্তন করার জন্যে আমরা বহুবার চেষ্টা করেছি। আমি কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তিকে দায়ী করতে চাই না, কিন্তু এটা আমাদের সম্পূর্ণ ব্যর্থতা।
প্রতিকূলতার মধ্যেও ৫৬ বছরে আমাইতিবাচক অর্জন অনেক উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘১৯৭১ সালে যখন দেশ স্বাধীন হয়, তখনকার পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেখা যায় যে, আমাদের মানুষের সংখ্যা সাড়ে সাত কোটি এবং খাদ্য ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ২৮ লাখ টন। আজকে ১৮ কোটি মানুষের দেশে খাদ্য ঘাটতি প্রায় নাই বললেই চলে। এটা নিঃসন্দেহে আমাদের অর্জন।
মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি বলেন, আজকে আমি জোর গলায় বলতে পারি, এই স্বপ্নটি দেখেছিলেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি একটি নতুন বাংলাদেশ নির্মাণ করতে চেয়েছেন। একদলীয় ব্যবস্থা থেকে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র নিয়ে এসেছিলেন। তিনি অতি অল্প সময়ের মধ্যে কৃষকদের মধ্যে উৎপাদনের একটি ক্রিয়া জাগিয়ে তুলেছিলেন। অল্প সময়ের মধ্যে তরুণদের মধ্যে উৎপাদনের একটা যজ্ঞ কাজ করতে শুরু করেছিলেন।
তিনি বলেন, একটা দীর্ঘ সংগ্রাম, প্রায় ১৫ বছরের একটা ফ্যাসিস্ট শাসনের পরে যখন আমাদের দম বন্ধ হয়ে আসছিল। যখন আমরা কথা বলতে পারতাম না। যখন আমাদের প্রিয়জন হারিয়ে গেলে, নিখোঁজ হয়ে গেলে তাকে আমরা খুঁজে পেতাম না। গুম হয়ে যেত। যখন আমরা চোখের সামনে দেখলাম ২৪ জুলাইয়ে আমাদের ছোট ছোট ছেলেরা-মেয়েরা প্রাণ দিচ্ছে অকাতরে দেশের পরিবর্তনের জন্য, আমাদের মনে আবার স্বপ্ন জেগে উঠেছে।
তরুণদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, নতুন স্বপ্ন ও উদ্যম নিয়ে দেশ গঠনে এগিয়ে আসতে হবে। দেশের টেকসই উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে তরুণ সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
উল্লেখ্য, ‘জেসিআই বাংলাদেশ’ তরুণদের একটি অলাভজনক বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম, যা নেতৃত্ব উন্নয়ন, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে কাজ করে।
সংবাদ প্রেরক বিটিসি নিউজ এর বিশেষ (ঢাকা) প্রতিনিধি মো: আমিনুল ইসলাম শিকদার। #















