BTC News | বিটিসি নিউজ

আজ- মঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৯ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

আজ- ২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কিয়েভে রাশিয়ার ব্যাপক হামলার হুমকি, বিদেশি নাগরিকদের শহর ছাড়ার নির্দেশ

কিয়েভে রাশিয়ার ব্যাপক হামলার হুমকি, বিদেশি নাগরিকদের শহর ছাড়ার নির্দেশ

বিটিসি আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বৃহত্তম বিমান হামলা চালানোর কয়েকদিন পর ফের ব্যাপক হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নতুন এই হামলার মূল লক্ষ্য হবে কিয়েভের ‘আলোচনা কেন্দ্র ও সামরিক কমান্ড পোস্ট’ এবং ড্রোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ।

মঙ্গলবার (২৬ মে) বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

এই হুমকির পরপরই কিয়েভে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিক ও কূটনীতিবিদদের দ্রুত শহর ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে মস্কো। একই সঙ্গে স্থানীয় নাগরিকদের প্রশাসনিক ও সামরিক ভবনগুলো থেকে দূরে থাকার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।

এদিকে রাশিয়ার এই হুমকিকে ‘নির্লজ্জ ব্ল্যাকমেইল’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইউক্রেন।

দেশটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, বিদেশি নাগরিকদের শহর ছাড়ার এই সতর্কবার্তা দিয়ে মস্কো মূলত এটিই স্বীকার করে নিচ্ছে যে, তাদের এই বোমাবর্ষণের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলকে আতঙ্কিত করা।

ইউক্রেন আরো জানায়, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কিয়েভে এক সপ্তাহের জন্যও রুশ হামলা বন্ধ হয়নি। ফলে মস্কোর পক্ষ থেকে সামগ্রিক নিরাপত্তার যে হুমকি, তা আগের মতোই রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে নিজেদের পশ্চিমা মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউক্রেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, গত শনিবার রাতে রাশিয়ার চালানো এক বিশাল হামলায় কিয়েভসহ বিভিন্ন এলাকায় ৪ জন নিহত এবং প্রায় ১০০ জন আহত হয়েছেন।

মস্কোর দাবি, গত শুক্রবার রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা পূর্ব ইউক্রেনের স্টারোবিলস্ক শহরের একটি ছাত্রাবাসে ইউক্রেনীয় বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে হামলা চালায়, যাতে ২১ জন নিহত হন।

মূলত সেই হামলার জবাব দিতেই শনিবারে এই বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করা হয়েছে এবং সামনে আরো হামলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

তবে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে, তারা ওই এলাকায় রাশিয়ার একটি অভিজাত ড্রোন ইউনিটের ওপর হামলা চালিয়েছিল।

শনিবার রাতের হামলাটি ছিল এই যুদ্ধের অন্যতম বৃহত্তম বিমান হামলা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, কিয়েভের আকাশজুড়ে সারা রাত ধরে একের পর এক বিস্ফোরণ ও অগ্নিকুণ্ডলী জ্বলছে।

এই হামলায় রাশিয়া কয়েক ডজন ব্যালেস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং শত শত ড্রোন ব্যবহার করেছে। এ ছাড়া কিয়েভ থেকে ৯০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত বিলা তেরকভা এলাকায় পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন একটি হাইপারসনিক ‘ওরেপনিক’ ক্ষেপণাস্ত্রও নিক্ষেপ করে রুশ বাহিনী।

এই হামলায় ঐতিহাসিক চেরনোবিল মিউজিয়াম, ন্যাশনাল আর্ট মিউজিয়াম অব ইউক্রেন, শপিং মল, কাঁচাবাজার এবং লুকানিভকা এলাকার বেশ কিছু আবাসিক ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যায় রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে ফোন করে কিয়েভ থেকে আমেরিকান কূটনীতিবিদদের সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানান।

এই ফোনালাপের পর রুবিও এক বিবৃতিতে বলেন, ইউক্রেন বা রাশিয়া—যার পক্ষ থেকেই হোক না কেন, এই হামলাগুলো মনে করিয়ে দেয় এটি একটি অত্যন্ত ‘ভয়াবহ যুদ্ধ’ এবং এটি বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধ অবসানে যেকোনো ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত এবং আশা করি কোনো এক পর্যায়ে সেই সুযোগ তৈরি হবে।’ #

এইরকম আরও খবর

সর্বশেষ খবর

ব্রেকিং নিউজ