প্রেস বিজ্ঞপ্তি: কৃষিপ্রতিবেশ, জলবায়ু ন্যায্যতা ও খাদ্য সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। বরে›ন্দ্র অঞ্চলে পানি সংকট, মাটির উর্বরতা হ্রাস, রাসায়নিক কীটনাশক কৃষির অত্যাধিক বিস্তার এবং জীববৈচিত্র্য হ্রাসের ফলে স্থানীয় কৃষক, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকা ক্রমেই ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কমিউনিটি পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত বাজেটসহ সকল পরিকল্পনায় কৃষিপ্রতিবেশ, জলবায়ু ন্যায্যতা ও খাদ্য সার্বভৌমত্ব বিষয়ক পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।
আজ (১৩ এপ্রিল ২০২৬) সোমবার রাজশাহীর পবা উপজেলার দর্শনপাড়া ইউনিয়নের বিলনেপালপাড়ায় কৃষিপ্রতিবেশ, জলবায়ু ন্যায্যতা ও খাদ্য সার্বভৌমত্ব নিশ্চিতকরণে এক জনসংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক (ইঅজঈওক) ও গ্রিন কোয়ালিশন রাজশাহী এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সংলাপে নিরাপদ কৃষি চর্চাকারী কৃষক-কৃষাণী, স্থানীয় নারী প্রতিনিধি, যুব প্রতিনিধি এবং ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।
সংলাপে বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে রাসায়নিক কৃষির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা শুধু পরিবেশের জন্যই নয়, জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। কৃষিপ্রতিবেশভিত্তিক কৃষি পদ্ধতি, স্থানীয় বীজ সংরক্ষণ, পানি ব্যবস্থাপনা এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষা নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত প্রয়োজন।
বক্তারা আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে খরা, তাপপ্রবাহ ও পানিসংকট দিন দিন বাড়ছে, যা সরাসরি কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলছে। এই প্রেক্ষাপটে ইউনিয়ন পরিষদের আগামী বাজেট পরিকল্পনায় কৃষিপ্রতিবেশ, জলবায়ু ন্যায্যতা ও খাদ্য সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
পবা উপজেলার গ্রিন কোয়ালিশনের সাধারণ সম্পাদক বলেন- আমাদের ইউনিয়নগুলোর পরিকল্পনায় এলাকার পরিবেশ উন্নয়নসহ নিরাপদ কৃষি নিয়ে পরিকল্পনা ও বাজেট বরাদ্দ বাড়াতে হবে। ইউনিয়নের শতবছরী বৃক্ষগুলো তালিকা করে সুরক্ষা করতে হবে।
কৃষিপ্রতিবেশ চর্চা কারী কৃষাণী সুলতানা থাতুন বলেন- নিজের আশাপাশের উপকরণ যেমন ভার্মীকম্পোস্ট সার, জৈব সার, জৈববালাই তৈরী করে শস্য ফসলে ব্যভহার করলে রাসায়নিক কীটনাশক কিনতে অর্থ খরচ করতে হয়না। এর পলে পরিবেশ ভালো থাকে এবং দেশের অর্থ সাশ্রয় হয়।
সংলাপ শেষে সাত দফা দাবিনামা দর্শনপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধির হাতে তুলে দেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন- দর্শনপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত সদস্য- মো: তোফাজ্জল হোসেন, মো. মোজাম্মেল হক, মো: জাহাঙ্গীর আলম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চলনা করেন বারসিক বরেন্দ্র অঞ্চলের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো: শহিদুল ইসলাম।
সংলাপ থেকে ইউনিয়ন পরিষদের প্রতি নিম্নোক্ত দাবিসমূহ উত্থাপন করা হয়:
১. ইউনিয়ন পরিষদের বার্ষিক বাজেট ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় কৃষিপ্রতিবেশভিত্তিক কর্মসূচি অস্তর্ভুক্ত করতে হবে;
২. রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার কমাতে সচেতনতা ও বিকল্প জৈব পদ্ধতির প্রসার ঘটাতে হবে;
৩. পানি সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় স্থানীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে;
৪. ইউনিয়ন পরিকল্পনায় পরিবেশ ও জলবায়ু ঝুঁকি বিবেচনা করে টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে;
৫. নারী, যুব ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে।
৬. শতবছরী এবং বড় বড় বৃক্ষগুলো সংরক্ষণ সরকারিভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।
৭. খরায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক-কৃষাণীর জন্য খরা ভাতা চালুর উদ্যোগ নিতে হবে।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, জনগণের অংশগ্রহণমূলক সংলাপ ও যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে একটি জলবায়ু সহনশীল, পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ খাদ্যের সবুজ ইউনিয়ন গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
সংবাদ প্রেরক মো: শহিদুল ইসলাম, আঞ্চলিক সমন্বয়কারী, বারসিক। #















