BTC News | বিটিসি নিউজ

আজ- শনিবার, ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১লা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

আজ- ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

তেল রপ্তানি ছাড়াই কতদিন টিকতে পারবে তেহরান?

তেল রপ্তানি ছাড়াই কতদিন টিকতে পারবে তেহরান?

বিটিসি আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গত ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে আমেরিকার শুরু করা নৌ-অবরোধ দেশটির তেল অর্থনীতির জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, তেল রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেলেও ইরান বড়জোর দু’মাস পর্যন্ত বর্তমান উৎপাদন মাত্রা বজায় রাখতে পারবে। এর পরেই তাদের বাধ্য হয়ে তেল উৎপাদন কমিয়ে দিতে হবে, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

বর্তমানে এই অবরোধের ফলে ইরান থেকে প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যার প্রধান ক্রেতা চীন।

ইতিমধ্যে আমেরিকার নৌবাহিনী আটটি ইরান-সংশ্লিষ্ট তেলের ট্যাংকারকে বাধা দিয়েছে। বুধবার ‘রিচ স্টারি’ নামক চীনের মালিকানাধীন একটি বড় ট্যাংকারকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ফিরে যেতে দেখা গেছে।

এছাড়া ওমান উপসাগরের চাবাহার বন্দর থেকে বের হওয়ার চেষ্টাকালে মার্কিন ডেস্ট্রয়ার দুটি ট্যাংকারকে আটকে দিয়েছে।

আঞ্চলিক যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেলের সরবরাহ ইতিপূর্বেই ব্যাহত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইরানের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলে বাজারের সংকট আরও ঘনীভূত হবে।

বর্তমানে ইরান দৈনিক প্রায় ৩৫ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করে, যার মধ্যে ২০ লাখ ব্যারেল তাদের নিজস্ব শোধনাগারগুলোতে ব্যবহৃত হয়। রপ্তানি পথ বন্ধ হওয়ায় বাড়তি তেল ইরানকে এখন তাদের স্থলভাগের স্টোরেজ ট্যাংকে জমা রাখতে হবে।

পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘এফজিই নেক্সট্যান্ট ইসিএ’-এর তথ্য অনুযায়ী, ইরানের মোট ১২ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল ধারণক্ষমতার মধ্যে বর্তমানে ৯ কোটি ব্যারেলের মতো খালি স্টোরেজ রয়েছে।

এই হিসেবে তারা আগামী দুই মাস উৎপাদন সচল রাখতে পারবে। তবে যদি দৈনিক ৫ লাখ ব্যারেল উৎপাদন কমিয়ে দেওয়া হয়, তবে এই মেয়াদ তিন মাস পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব।

অন্যদিকে, ‘এনার্জি অ্যাসপেক্টস’- এর মতে ইরানের হাতে মাত্র ৩তিন কোটি ব্যারেল খালি স্টোরেজ আছে।

তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বর্তমান হারে রপ্তানি বন্ধ থাকলে মাত্র ১৬ দিনের মাথায় ইরানের সব ট্যাংক ভর্তি হয়ে যাবে।

এনার্জি অ্যাসপেক্টস-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা রিচার্ড ব্রোঞ্জ মনে করেন, এপ্রিল মাসে প্রভাব খুব বেশি না পড়লেও অবরোধ মে মাস পর্যন্ত গড়ালে ইরানকে বড় আকারে উৎপাদন কমাতে হবে।

বিপাকে পড়া ইরান এখন তাদের বন্দরে থাকা বড় তেলের জাহাজগুলোকে ‘ভাসমান স্টোরেজ’ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। এতে করে উৎপাদন একেবারে বন্ধ করার প্রক্রিয়াকে কিছুটা পিছিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।

তবে, দীর্ঘমেয়াদী অবরোধ চললে চীনের মতো বড় বাজার হারানো এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

আমেরিকার এই সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ ইরান কীভাবে মোকাবিলা করবে, তা এখন দেখার বিষয়।

স্থল ও জলভাগের স্টোরেজ পূর্ণ হয়ে গেলে ওপেকের অন্যতম এই সদস্য রাষ্ট্রটির সামনে উৎপাদন কমানো ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবে না, যার প্রভাব সরাসরি গিয়ে পড়বে সাধারণ ভোক্তাদের পকেটে। #

এইরকম আরও খবর

সর্বশেষ খবর

ব্রেকিং নিউজ
অবশেষে লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি শুরু তেল রপ্তানি ছাড়াই কতদিন টিকতে পারবে তেহরান? হরমুজ প্রণালি বন্ধে বিশ্ব অর্থনীতিতে গুরুতর প্রভাব পড়েছে : ম্যাখোঁ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ইরানের নতুন নির্দেশনা খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত ভারতীয় শরণার্থীর অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় আবেদন খারিজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাহিদা বাড়ায় সিঙ্গাপুরের রপ্তানিতে বড় উত্থান পাকিস্তান কি পারবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে পরমাণু সমঝোতায় আনতে? চাঁদার টাকা না দেওয়ায় পুঠিয়ায় মুদি দোকানদারকে ছুরিকাঘাতে হত্যা হজ ক্যাম্প পরিদর্শন ও হজের প্রথম ফ্লাইট উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী কুষ্টিয়ায় শিশুদের খেলাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষ, আটক-২১, হাতুড়ির আঘাতে অভিভাবক আহত