বিটিসি আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্চে সিঙ্গাপুরের রপ্তানি দ্রুত বেড়েছে। বিশেষ করে ইলেকট্রনিক পণ্যের রপ্তানি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এর কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাহিদা।
ফেব্রুয়ারির শেষে ইরান যুদ্ধ শুরু হলেও মার্চে সিঙ্গাপুরের নন-অয়েল ডোমেস্টিক এক্সপোর্ট (এনওডিএক্স) টানা সপ্তম মাসের মতো বৃদ্ধি পেয়েছে।
এন্টারপ্রাইজ সিঙ্গাপুরের তথ্য অনুযায়ী, মার্চে এনওডিএক্স আগের বছরের তুলনায় ১৫.৩ শতাংশ বেড়েছে। ফেব্রুয়ারিতে এই বৃদ্ধি ছিল ৪ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস ছিল ৮.১ শতাংশ, কিন্তু বাস্তবে প্রবৃদ্ধি আরো বেশি হয়েছে। জেস্টার কোহ বলেন, এখন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের বড় কোনো প্রভাব রপ্তানি খাতে দেখা যায়নি।
তবে পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানি কিছুটা কমেছে, আর তেল আমদানিও সামান্য হ্রাস পেয়েছে
তিনি আরো বলেন, এপ্রিল ও মে মাসের তথ্য আসলে বোঝা যাবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রকৃত প্রভাব কতটা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধেও ইলেকট্রনিক পণ্যের চাহিদা সিঙ্গাপুরের রপ্তানির জন্য একটি ভালো দিক হয়ে থাকবে। মার্চ মাসে ইলেকট্রনিক রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ৭৪ শতাংশ বেড়েছে।
এর মূল কারণ হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাহিদা বৃদ্ধি এবং আগের বছরের কম বেসলাইন।
সবচেয়ে বেশি উন্নতি হয়েছে সেমিকন্ডাক্টর বা ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটে। এগুলো ১১৩.৮ শতাংশ বেড়েছে।
মার্চ মাসে মোট ৩.১ বিলিয়ন ডলারের ইলেকট্রনিক রপ্তানির মধ্যে ১.৭ বিলিয়ন ডলার এসেছে শুধু চিপ থেকে।
ব্যক্তিগত কম্পিউটার রপ্তানি বেড়েছে ৫৭.৩ শতাংশ এবং ডিস্ক মিডিয়া পণ্য বেড়েছে ৭৮.৩ শতাংশ।
তবে ইলেকট্রনিক নয় এমন রপ্তানি ০.৬ শতাংশ কমেছে, যদিও ফেব্রুয়ারির তুলনায় এই পতন অনেক কম ছিল।
চুয়া হাক বিন এবং ব্রায়ান লি বলেন, এআই চালিত খাতে খরচ বাড়লেও তা এখনো মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব থেকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েনি।
তারা আরো বলেন, ইলেকট্রনিক রপ্তানির এই ভালো পারফরম্যান্স নন-ইলেকট্রনিক খাতে কিছু ক্ষতি পুষিয়ে দেবে। কারণ জ্বালানি দামের বৃদ্ধি এবং কাঁচামালের সমস্যায় অন্যান্য শিল্প কিছুটা চাপের মুখে আছে।
সেলিনা লিং বলেন, বিশ্বের বড় চিপ কম্পানি টিএসএমসি ২০২৬ সালের আয়ের পূর্বাভাস বাড়িয়েছে, কারণ এআই চিপের চাহিদা খুব দ্রুত বাড়ছে। এটি দেখায় যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের ভবিষ্যৎ এখনো ইতিবাচক।
চুয়া হান তেং বলেন, সিঙ্গাপুরের ইলেকট্রনিক রপ্তানি আগামী দিনেও ভালো থাকবে, কারণ বিশ্বজুড়ে এআই-এর চাহিদা বাড়ছে। বিশেষ করে মেমোরি চিপ এবং সার্ভার পণ্যের চাহিদা শক্তিশালী।
তবে নন-ইলেকট্রনিক রপ্তানিতে বড় পতন দেখা গেছে। জাহাজ ও নৌযানের কাঠামোগত রপ্তানি ৯৯.৮ শতাংশ কমেছে। খাদ্য প্রস্তুত পণ্য ৪২ শতাংশ কমেছে এবং ওষুধ রপ্তানি ১৮.৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
সিঙ্গাপুরের শীর্ষ ১০ বাজারের মধ্যে হংকং, তাইওয়ান এবং চীনে রপ্তানি বেড়েছে, কিন্তু ইন্দোনেশিয়া, ইউরোজোন, যুক্তরাষ্ট্র এবং থাইল্যান্ডে রপ্তানি কমেছে।
হংকং-এ রপ্তানি ৯৯.৪ শতাংশ বেড়েছে, মূলত সেমিকন্ডাক্টর চালানের কারণে, এটি ১৭৬ শতাংশ বেড়েছে। এ ছাড়া নন-মুদ্রা স্বর্ণ রপ্তানিও বেড়েছে।
তাইওয়ানে রপ্তানি বেড়েছে মূলত চিপ ও বিশেষায়িত যন্ত্রপাতির কারণে। চীনে রপ্তানি বেড়েছে বিশেষ রাসায়নিক, বিশেষ যন্ত্রপাতি এবং সেমিকন্ডাক্টরের চাহিদার কারণে।
সিঙ্গাপুরের রপ্তানি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এখনো কমছে। মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি ২.৭ শতাংশ কমেছে, যদিও ফেব্রুয়ারিতে এই পতন ছিল অনেক বড়, ৪৪.৮ শতাংশ।
চুয়া হান তেং বলেন, বিশ্বজুড়ে এআই ও ইলেকট্রনিক্স খাতে প্রবৃদ্ধি চললেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বাণিজ্যে কিছু ঝুঁকি রয়ে গেছে।
তিনি জানান, এখনই কিছু সমস্যা দেখা যাচ্ছে, উৎপাদন খরচ বাড়ছে এবং পণ্য সরবরাহে দেরি হচ্ছে। যদি হরমুজ প্রণালি দ্রুত খুলেও যায়, তবুও স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থা ফিরতে সময় লাগবে।
কারণ নিরাপত্তা উদ্বেগ, দুর্বল আস্থা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের অবকাঠামোগত ক্ষতি এখনো রয়ে গেছে।
চুয়া হাক বিন বলেন, এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সরবরাহ সমস্যা দেখা যাচ্ছে রাসায়নিক খাতে। প্লাস্টিকের দাম বাড়লে অনেক শিল্পের উৎপাদন খরচ বেড়ে যেতে পারে। এ ছাড়া হিলিয়ামের ঘাটতি সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। কারণ কাতার বিশ্ব হিলিয়াম সরবরাহের বড় অংশ দেয়।
তিনি আরো বলেন, নন-ইলেকট্রনিক রপ্তানি যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের প্রভাবেও চাপের মধ্যে আছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি এখনও কমছে।
২০২৬ সালে সিঙ্গাপুর সরকার রপ্তানি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ২শতাংশ থেকে ৪শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছিল। তখন এআই ও বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রতি আশা ছিল বেশি।
সেলিনা লিং বলেন, তিনি এখনো পুরো বছরের রপ্তানি বৃদ্ধির পূর্বাভাস বজায় রেখেছেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে যদি বৈশ্বিক চাহিদা কমে যায়, তাহলে রপ্তানি আবার কমতে পারে।
তিনি আরো বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার কারণে বাজারে কিছুটা ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে এবং জ্বালানি দামের স্থিতিশীলতার আশা দেখা যাচ্ছে। তবে অনিশ্চয়তা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। #















