বিটিসি স্পোর্টস ডেস্ক: চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালে কোথাও হলো গোল উৎসব, কোথাও আবার রক্ষণাত্মক কৌশলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। তবে ধরন যেমনই হোক, দারুণ সব লড়াইয়ের সাক্ষী হলো ফুটবলপ্রেমীরা। আর এর মধ্য দিয়ে রেকর্ড বইয়ে নতুন সব সংখ্যা যোগ হলো।
বায়ার্ন মিউনিখ ও রেয়াল মাদ্রিদের দুই লেগের লড়াইয়ে গোল হয়েছে ১০টি; ৬-৪ গোলে জিতেছে বায়ার্ন।
আতলেতিকো মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার দুই লেগে গোল হয়েছে পাঁচটি; আতলেতিকোর জয় ৩-২ ব্যবধানে।
লিভারপুল ও পিএসজির মধ্যে দুই লেগ মিলিয়ে গোল হয়েছে চারটি; পিএসজির জয় ৪-০ গোলে।
দুই লেগের আর্সেনাল-স্পোর্তিং লড়াইয়ে একবারই বল জালে জড়িয়েছে; আর্সেনালের জয় ১-০ ব্যবধানে।
দ্বিতীয় লেগ: বায়ার্ন মিউনিখ ৪- ৩ রেয়াল মাদ্রিদ
• এই নিয়ে ১৪ বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি-ফাইনালে উঠল বায়ার্ন মিউনিখ, ছাড়িয়ে গেল এতদিন যৌথভাবে তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা বার্সেলোনাকে। সর্বোচ্চ ১৭ বার সেমি-ফাইনাল খেলেছে রেয়াল মাদ্রিদ।
• উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সবশেষ পাঁচ নকআউট পর্বের দেখায় এবারই প্রথম রেয়াল মাদ্রিদকে বিদায় করতে পারল বায়ার্ন।
• ইউরোপের এই শীর্ষ প্রতিযোগিতায় এই নিয়ে তৃতীয়বার কোয়ার্টার-ফাইনালের দুই লেগেই হারল রেয়াল মাদ্রিদ- গত মৌসুমে আর্সেনালের বিপক্ষে এবং ১৯৬৬-৬৭ মৌসুমে ইন্টার মিলানের বিপক্ষে এই তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছিল তাদের।
• চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে কেবল দ্বিতীয় দল হিসেবে ম্যাচে তিনবার পিছিয়ে পড়েও জিতল বায়ার্ন। প্রথমবার এই কীর্তি গড়েছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ২০০৩ সালের এপ্রিলে, রেয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষেই কোয়ার্টার-ফাইনালে।
রেয়ালের হয়ে হ্যাটট্রিক করেছিলেন দা ফেনোমেনন রোনালদো, আর ক্ষুব্ধ ডেভিড বেকহ্যাম বদলি নেমে ইউনাইটেডের শেষ দুটি গোল করে ব্যবধান গড়ে দেন। ম্যাচটি ৪-৩ ব্যবধানে হারলেও, দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৫ গোলে জিতেছিল রেয়াল।
• সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এখন টানা চার ম্যাচে জয়হীন রেয়াল মাদ্রিদ, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের পর যা তাদের সর্বোচ্চ জয়খরা। ওই সময় দলটির কোচ ছিলেন হুলেন লোপেতেগি, অক্টোবরের শেষ দিকে ছাঁটাই হন তিনি।
• ইউরোপিয়ান কাপ বা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এক আসরে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ১০টি (বা তার বেশি) অ্যাওয়ে গোল করার কীর্তি গড়লেন এমবাপে।
• উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এমবাপের মোট গোল হলো ৬৮টি, বয়স ২৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ (এই তালিকায় চূড়ায় লিওনেল মেসি-৭৬ গোল)।
দ্বিতীয় লেগ: আর্সেনাল ০-০ স্পোর্তিং
• টানা দ্বিতীয় মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি-ফাইনালে উঠল আর্সেনাল, যেখানে এর আগে কেবল দুইবার এই প্রতিযোগিতার শেষ চারে খেলেছিল তারা।
• এই নিয়ে তৃতীয়বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বে ১-০ গোলের অগ্রগামিতায় পরের ধাপে উঠল আর্সেনাল; প্রতিযোগিতাটির ইতিহাসে অন্য কোনো দল তা পারেনি।
দ্বিতীয় লেগ: আতলেতিকো মাদ্রিদ ১- ২ বার্সেলোনা
• এই নিয়ে সবশেষ সাত মৌসুমের মধ্যে ষষ্ঠবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি-ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হলো বার্সেলোনা। ২০১৫ সালের পর এই শিরোপা জিততে পারেনি তারা।
• ২০১৭ সালের পর, প্রথমবার প্রতিযোগিতাটির সেমি-ফাইনালে উঠল আতলেতিকো মাদ্রিদ।
• দিয়েগো সিমেওনের কোচিংয়ে চতুর্থবার সেমি-ফাইনালে উঠল আতলেতিকো মাদ্রিদ (২০১৩-২০১৪, ২০১৫-১৬, ২০১৬-১৭, ২০২৫-২৬)। সিমেওনে অধ্যায়ের আগে ক্লাবটি সেমি-ফাইনালে খেলেছিল কেবল তিনবার (১৯৫৮-৫৯, ১৯৭০-৭১, ১৯৭৩-৭৪)।
• চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সবশেষ ১৫ ম্যাচের প্রতিটিতে গোল হজম করেছে বার্সেলোনা; প্রথম স্প্যানিশ ক্লাব হিসেবে এই প্রতিযোগিতায় টানা ১৫ ম্যাচে জাল অক্ষত রাখতে ব্যর্থ তারা।
• গত মৌসুমের শুরু থেকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে মোট ৪৪টি গোল খেয়েছে বার্সেলোনা, এই সময়ে যেকোনো দলের চেয়ে বেশি।
• চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে ২০ গোলে অবদান রেখেছেন ইয়ামাল (১৮ বছর ২৭৫ দিন বয়সে); ১১টি গোল ও ৯টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি।
এক আসরে সবচেয়ে কম বয়সে ১০ বা এর বেশি গোলে অবদান রাখা খেলোয়াড়ও এখন তিনি (৬ গোল, ৪ অ্যাসিস্ট), ভেঙে দিলেন ২০১৯-২০ আসরে আর্লিং হলান্ডের রেকর্ড (১৯ বছর ২১২ দিন)
দ্বিতীয় লেগ: লিভারপুল ০- ২ পিএসজি
• ইউরোপিয়ান কাপের নকআউট পর্বে এই নিয়ে তৃতীয়বার দুই লেগেই গোল করতে ব্যর্থ হলো লিভারপুল-আগের দুইবার এই তেতো অভিজ্ঞতা হয়েছিল তাদের ১৯৭৮-৭৯ আসরে প্রথম রাউন্ডে নটিংহ্যাম ফরেস্টের বিপক্ষে এবং ২০০৫-০৬ আসরের শেষ ষোলোয় বেনফিকার বিপক্ষে।
• চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এই নিয়ে সবশেষ ছয় মৌসুমে দ্বিতীয় শিরোপাধারী দল হিসেবে সেমি-ফাইনালে উঠল পিএসজি, ২০২২-২৩ আসরে রেয়াল মাদ্রিদের পর প্রথম।
• প্রথম ফরাসি ক্লাব হিসেবে টানা তিন মৌসুমে সেমি-ফাইনালে উঠল পিএসজি। #















