বিটিসি স্পোর্টস ডেস্ক: দুই পাশেই বিব্রতকর ভুল করলেন দুই গোলরক্ষক। গোলের পর গোল হলো, বারবার বদলাল ম্যাচের মোড়। রোমাঞ্চকর লড়াইটি যখন অতিরিক্ত সময়ের পথে, তখনই বড় আঘাত পেল রেয়াল মাদ্রিদ, পরিণত হলো ১০ জনের দলে। এরপর, আরও দুটি গোল করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি-ফাইনালে পৌঁছে গেল বায়ার্ন মিউনিখ।
আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় বুধবার রাতে কোয়ার্টার-ফাইনালের ফিরতি লেগে ৪-৩ গোলে জিতে শেষ চারে পা রাখল স্বাগতিকরা। প্রথম দেখায় ২-১ ব্যবধানে জয়ী বায়ার্ন দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৪ অগ্রগামিতায় এগিয়ে গেল।
প্রথমার্ধে হয় গোল উৎসব। প্রতিপক্ষের ভুলের সুযোগে যার শুরুটা করেন আর্দা গিলের। পরে আরেকটি দারুণ গোল করেন তিনি। দুইবার পিছিয়ে পড়ে আলেকসান্দার পাভলোভিচ ও হ্যারি কেইনের গোলে সমতায় ফেরে বায়ার্ন।
কিলিয়ান এমবাপের গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় রেয়াল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে আর কিছু করতে পারেনি তারা। উল্টো শেষ সময়ে তাদের জালে বল পাঠান লুইস দিয়াস ও মাইকেল ওলিসে।
পুরো ম্যাচে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সময় বল দখলে রেখে গোলের জন্য ২১ শট নিয়ে ৯টি লক্ষ্যে রাখতে পারে বায়ার্ন। মূলত পাল্টা আক্রমণ-নির্ভর ফুটবল খেলা রেয়াল মোট ১২টি শট নিয়ে পাঁচটি লক্ষ্যে রাখতে পারে।
ম্যাচের শুরুতেই যেভাবে তালগোল পাকান মানুয়েল নয়ার, সত্যিই অবিশ্বাস্য। মাঝমাঠ থেকে সতীর্থের ব্যাকপাস পেয়ে, পোস্ট ছেড়ে অনেকটা এগিয়ে ডান দিকে আরেক সতীর্থকে খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করেন জার্মান গোলরক্ষক, কিন্তু বলে ঠিকঠাক গতি ছিল না। মাঝপথে বল ধরেই দারুণ বাঁকানো শট নেন গিলের, বল ক্রসবার ঘেঁষে জড়ায় জালে।
ম্যাচের ঘড়িতে সময় তখন ৩৫ সেকেন্ড! চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রেকর্ড চ্যাম্পিয়নদের হয়ে সবচেয়ে দ্রুততম গোলের নতুন রেকর্ড গড়লেন তুর্কি মিডফিল্ডার।
ওই ধাক্কা সামলে নিতে অবশ্য একদমই দেরি করেনি বায়ার্ন। পাঁচ মিনিট পরই ম্যাচে সমতা টেনে, দুই লেগ মিলিয়ে আবার এগিয়ে যায় তারা।
জসুয়া কিমিখের কর্নারে একেবারে গোলমুখে হেডে গোলটি করেন পাভলোভিচ। আয়ত্ত্বের মধ্যে হলেও, উড়ে আসা বলের গতি বুঝতে পারেননি রেয়াল গোলরক্ষক আন্দ্রি লুনিন।
আসরে প্রথম ১১ ম্যাচে ৩৪টি এবং এবারের বুন্ডেসলিগায় এখন পর্যন্ত রেকর্ড ১০৫টি গোল করা বায়ার্ন ক্রমেই চাপ বাড়াতে থাকে।
২৬-২৭তম মিনিটে পরপর তিনটি কর্নার পায় বায়ার্ন। প্রথমটিতে ফের বলের গতি-প্রকৃতি বুঝতে ব্যর্থ হন লুনিন, দ্বিতীয়টিতে অবশ্য কিমিখের জোরাল শট ঝাঁপিয়ে রুখে দেন ইউক্রেইনের গোলরক্ষক।
তৃতীয় কর্নারটি ঠেকিয়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ শাণায় রেয়াল এবং দুর্দান্ত গোলে দলকে আবার ম্যাচে এগিয়ে নেন গিলের।
ডি-বক্সের বাইরে ব্রাহিম দিয়াস ফাউলের শিকার হলে ফ্রি কিক পায় রেয়াল এবং অসাধারণ বাঁকানো শটে রক্ষণ দেয়ালের ওপর দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন ‘তুরস্কের মেসি।’ নয়ার ঝাঁপিয়ে বলে হাত ছোঁয়ালেও আটকাতে পারেননি।
৩৭তম মিনিটে লুনিন আরেকটি দারুণ সেভ করলেও, পরের মিনিটে ফের গোল হজম করে রেয়াল। উপামেকানোর পাস ডি-বক্সে ফাঁকায় পেয়ে কোনাকুনি শটে মৌসুমে গোলের হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন কেইন।
তিন মিনিট পর ভিনিসিউস জুনিয়রের দারুণ শট গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও, বাধা পায় ক্রসবারে। অবশ্য পরের মিনিটেই দলকে আবার এগিয়ে নেন এমবাপে। ব্রাজিলিয়ান তারকার পাস ডি-বক্সে পেয়ে প্লেসিং শটে দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৪ সমতা টানেন ফরাসি ফরোয়ার্ড।
এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এমবাপের গোল হলো সর্বোচ্চ ১৫টি, মৌসুমে সব মিলিয়ে ৩৯ ম্যাচে ৪০টি।
দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণাত্মক শুরু করে বায়ার্ন। প্রথম আট মিনিটের প্রায় পুরোটাই খেলা হয় রেয়ালের অর্ধে। এরপর পাল্টা আক্রমণে ম্যাচে প্রথম কর্নার পায় সফরকারীরা। ওই কর্নারের পর, সতীর্থের ক্রস ডি-বক্সে পেয়ে ভলি করেন এমবাপে, দারুণ ক্ষীপ্রতায় সেটা আটকে দেন নয়ার।
একটু পর রক্ষণের দুর্বলতায় বিপদে পড়তে যাচ্ছিল রেয়াল। ডি-বক্সে ফাঁকায় বল পেয়ে যান লুইস দিয়াস, তবে শট নিতে একটা মুহূর্ত দেরি করেন তিনি, পেছন থেকে বল কেড়ে নেন ট্রেন্ট অ্যালেকজ্যান্ডার-আর্নল্ড।
৬৮তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে শট নেন ওলিসে, কোনোমতে এক হাত দিয়ে বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে বাইরে পাঠান লুনিন। একটু পর পাল্টা আক্রমণে এমবাপের পাস ছয় গজ বক্সের বাইরে পেলেও, সুবর্ণ সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেননি ভিনিসিউস।
নির্ধারিত সময়ের চার মিনিট বাকি থাকতে ১০ জনের দলে পরিণত হয় রেয়াল। ৬৮তম মিনিটে ব্রাহিম দিয়াসের বদলি নামার ১০ মিনিটের মাথায় প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন কামাভিঙ্গা। আর আট মিনিট পর কেইনকে অহেতুক ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন ফরাসি মিডফিল্ডার।
এরপরই রেয়ালের সব প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে। ৮৯তম মিনিটে দিয়াসের জোরাল শটে বল একজনের পা ছুঁয়ে একটু দিক পাল্টে জালে জড়ায়, দুই লেগ মিলিয়ে এগিয়ে যায় বায়ার্ন।
আর চার মিনিট যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে ওলিসের গোলে রেকর্ড ১৫ বারের ইউরোপ চ্যাম্পিয়নদের সব আশা শেষ হয়ে যায়। একটু পরই বাজে শেষের বাঁশি।
উল্লাসে ফেটে পড়ে বায়ার্ন শিবির। আর হতাশায় নুইয়ে পড়ে রেয়াল মাদ্রিদ।
ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে শিরোপাধারী পিএসজির মুখোমুখি হবে জার্মান চ্যাম্পিয়নরা। #















