বিশেষ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি: হাম-রুবেলা টিকা ক্যাম্পেইন বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে স্বাস্থ্য বিভাগের মতবিনিময় হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। রবিবার বিকেলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই মতবিনিময় সভা হয়।
সভায় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন সিভিল সার্জন ডাঃ সাহাব উদ্দিন।
এসময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সিভিল সার্জন।
এসময় এসময় বক্তব্য রাখেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি হোসেন শাহনেওয়াজ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ টেলিভিশন জার্নালিস্ট এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রফিকুল আলম, সিনিয়র সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন দিলু, শহীদুল হুদা অলক, নাসিম মাহমুদ, মনোয়ার হোসেন জুয়েল, ফয়সাল মাহমুদসহ অন্যান্যরা।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াকর্মীরা।
মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, সভায় জানানো হয়, দেশব্যাপী হাম-রুবেলা নির্মূল কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে টানা ১১ দিনব্যাপী জেলায় পরিচালিত হবে এই বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম। এতে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
লক্ষ্যমাত্রা ২ লক্ষাধিক শিশু কে এই টিকা প্রদান। জেলায় মোট ২,০১,৮৯৭ জন শিশুকে টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উপজেলা ভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর: ৫২,৯১০ জন, শিবগঞ্জ: ৭৩,০৭৭ জন, গোমস্তাপুর: ৩৫,৩২০ জন, নাচোল: ১৪,৯৬২ জন, ভোলাহাট: ৯,৪২৫ জন, পৌরসভা: ১৬,২০৩ জন। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে-সদর হাসপাতালে থাকবে ১টি কেন্দ্র, প্রতিটি উপজেলায় ১টি করে স্থায়ী কেন্দ্র, পাশাপাশি ১,১৪৯টি অস্থায়ী ক্যাম্পে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
মোট ১১ দিনের মধ্যে ৮ দিন কমিউনিটি পর্যায়ে এবং ৩ দিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টিকা প্রদান করা হবে।
সভায় টিকাদান কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরেন শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ কামাল উদ্দিন। তিনি বলেন, “হাম ও রুবেলা অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। একটি শিশু আক্রান্ত হলে দ্রুত অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। তাই শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করা জরুরি।”
WHO প্রতিনিধি ডাঃ ফারহানা ইসলামও সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
হাম (Measles) একটি মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ, যা উচ্চ জ্বর, ত্বকে লাল ফুসকুড়ি, কাশি ও চোখ লাল হওয়া, নিউমোনিয়া ও মস্তিষ্কের জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা না নিলে শিশুরা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য হুমকি তৈরি হয়।
সভায় উপস্থিত সাংবাদিকরা টিকাদান কার্যক্রম সফল করতে সচেতনতামূলক প্রচারণা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। টিকা ক্যাম্পেইন বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের বার্তা-“একটি শিশুও যেন টিকার বাইরে না থাকে।”
অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, নির্ধারিত কেন্দ্রে গিয়ে সময়মতো সন্তানকে টিকা দিয়ে নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার। #















