বিটিসি আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় সন্ন্যাসীদের পরিচালিত একটি স্কুল ধ্বংসের খবর পাওয়া গেছে। চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন অবকাঠামোতে প্রতিনিয়ত নৃশংস হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।
এ অবস্থায় যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বললেন, কোথায় সেই যুদ্ধবিরতি?
লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানায়, সীমান্তবর্তী ইয়ারুন গ্রামে ইসরায়েলি বাহিনী বিস্ফোরণের মাধ্যমে মঠ ও সন্ন্যাসীদের স্কুল গুঁড়িয়ে দেয়।
এর আগে ওই এলাকায় বাড়িঘর, দোকানপাট, সড়কসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে পুরো বসতি এলাকা ধ্বংসের লক্ষ্য নিয়ে অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েল।
দেশটির কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, গাজায় চালানো অভিযানের ধ্বংসযজ্ঞের পুনরাবৃত্তি লেবাননেও ঘটানোর চেষ্টা চলছে। খ্রিস্টান অধ্যুষিত এলাকাগুলোও এই হামলা থেকে রেহাই পাচ্ছে না।
গত মাসে দক্ষিণ লেবাননে যিশুখ্রিস্টের একটি মূর্তি ভাঙার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ারও সৃষ্টি হয়।
এদিকে যুদ্ধবিরতির দাবির মধ্যেই সরাসরি আলোচনার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন স্পিকার নাবিহ বেরি।
চলমান হামলার মধ্যে আলোচনায় বসার কোনো যৌক্তিকতা নেই। লেবাননের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী যে নীতিতে এগোচ্ছেন, সে বিষয়ে সংশয় প্রকাশও করেন তিনি।
এক সাক্ষাৎকারে বেরি অভিযোগ করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পঘোষিত কথিত ‘যুদ্ধবিরতি’ বাস্তবে কোনো প্রভাব ফেলেনি; বরং এর সুযোগে ইসরায়েল হামলা আরো বাড়িয়েছে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “কোথায় সেই যুদ্ধবিরতি? ইসরায়েল কি শহর ধ্বংস, বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া, নারী-শিশু ও বয়স্কদের হত্যা বন্ধ করেছে?’’
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘‘আহতদের উদ্ধার বা ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের সহায়তায় অ্যাম্বুল্যান্স দলকে কি কাজ করতে দিচ্ছে?”
চলমান এই পরিস্থিতিতে লেবাননে যুদ্ধবিরতির বাস্তবতা ও আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। #















