খুলনা ব্যুরো: খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার খর্ণিয়া ইউনিয়নের পাচুড়িয়া গ্রামে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দুইটি পরিবারকে নিঃস্ব করার অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (৩ মে) খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবির বালু মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী তপু রক্ষিত।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এলাকায় কয়েকজন সুবিধাভোগী ব্যক্তি নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে নতুনভাবে প্রভাব বিস্তার শুরু করেন। তারা পূর্বে ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ে থাকলেও বর্তমানে বিএনপির পরিচয়ে এলাকায় আধিপত্য কায়েম করছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, পাচুড়িয়া গ্রামের জহির সরদারের পুত্র আবুল হোসেন সরদার, কুদ্দুস সরদার, কামরুল সরদার ও নজরুল সরদার বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক দল পরিবর্তন করেছেন।
বর্তমানে আবুল হোসেন সরদার খর্ণিয়া ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং কুদ্দুস সরদার সদস্য হিসেবে পরিচিত। অন্য ভাইয়েরা জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক বলে দাবি করা হয়।
এছাড়া একই গ্রামের বক্কার সরদারের পুত্র আকরাম হোসেন মন্টু, ওহাব সরদারের পুত্র বজলু সরদার, রহম সরদারের পুত্র শহীদ সরদার এবং খোরশেদ সরদারের পুত্র শাহজাহান সরদারও এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
তপু রক্ষিত অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা তার বাবা সুকেশ রক্ষিত ও কাকা সুকৃতি রক্ষিতের ৫৩ শতক মাছের ঘের লুট করেছে। পাশাপাশি ২৭ শতক জমির মাছ ও ঘেরের পাড়ের সবজি এবং গত মৌসুমে ১ দশমিক ৫ একর জমির রোরো ফসল লুট করে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ২৭ শতক মাছের ঘের দখলে রেখেছে বলে দাবি করা হয়।
তিনি আরও বলেন, তাদের পৈত্রিক ১৮ শতক জমির ওপর দিয়ে জোরপূর্বক ২০ ফুট চওড়া ইটের সলিং রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মাছ চাষে বাধা দেওয়া হয়েছে। ১৯ শতক জমিতে থাকা ৫০টি উন্নত জাতের পেঁপে গাছ ধ্বংস করা হয়েছে এবং ১৪ শতক রোরো আবাদি জমি দখল করে রাখা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, খামারবাড়ির মাছের খাদ্য, ফ্যান, লাইট ও অন্যান্য আসবাবপত্র লুট করা হয়েছে। রোরো ধান কাটার সময় বাধা দেওয়া হচ্ছে। একাধিকবার বাড়িতে হামলা চালিয়ে দেশত্যাগ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা ২ দশমিক ৯০ শতক খাস জমির ওপর অবৈধভাবে ভবন নির্মাণ করে বসবাস করছে এবং সরকারকে রাজস্ব না দিয়ে প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে।
তপু রক্ষিত বলেন, তার বাবা সুকেশ রক্ষিত ডুমুরিয়া উপজেলার শ্রেষ্ঠ কৃষক হিসেবে সরকারি পুরস্কারপ্রাপ্ত। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তাদের উৎপাদিত ফসল জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হতো।
এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবার তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দখলকৃত সম্পত্তি ফেরত পাওয়ার জন্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। #



