বাগমারা প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাগমারায় বেসরকারী আঁত-তাবারা মডেল হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে নুরুল ইসলাম (৫০) নামের এক ভুয়া চিকিৎসককে আটক করা হয়েছে।
আটককৃত চিকিৎসককে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড করেছেন ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী বিচারক ও সহকারী কমিশনার (ভুমি) সাইফুল ইসলাম ভুঁঞা। একই সাথে বৈধ কাগজপত্র ও ভুয়া ডক্তিার দিয়ে চিকিৎসা পরিচালনায় হাসপাতালের মালিক মশিউর রহমানকে দুই লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়।
ভ্রাম্যমান আদালত সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভার গোডাউন মোড়ে বেসরকারী আঁত-তাবারা মডেল হাসপাতালে প্রায় দুই মাস পূর্ব থেকে রাজশাহীর বহরমপুর এলাকায় প্রতারক নুরুল ইসলাম নামের এক ভুয়া প্রতারক ডাঃ মোঃ রফিকুল ইসলাম নাম ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা দিয়ে আসছেন।
বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসলে রোববার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে সহকারী কমিশনার (ভুমি) সাইফুল ইসলাম ভুঁঞা উক্ত হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানের সময় ভুয়া চিকিৎসক নুরুল ইসলাম ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারককে উপযুক্ত কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন। এক পর্যায়ে তিনি কিশোরগঞ্জের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জনৈক রফিকুল ইসলাম পরিচায় দিলে ভ্রাম্যমান আদালত সেখানে খোঁজখবর নেন। ওই হাসপাতালে রফিকুল ইসলাম নামের কোন চিকিৎসক নেই বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভ্রাম্যমান আদালতকে জানান।
ভ্রাম্যমান আদালতের তোপের মুখে তিনি নিজের দোষ স্বীকার করেন। নিজ মুখে অপরাধ স্বীকার করায় ভ্রাম্যমান আদালত অভিযুক্ত ভুয়া চিকিৎসক নুরুল ইসলামকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড করেন।
নুরুল ইসলাম রাজশাহীর বহরমপুর এলাকার বাসিন্দা।
তিনি রাজশাহী কলেজ থেকে এইচ,এস,সি পর্যন্ত পড়াশুনা করেছেন বলে ভ্রাম্যমান আদালতকে জানিয়েছেন।
আদালতে উপযুক্ত কাগজপত্র না থাকায় ও ভুয়া চিকিৎসক দিয়ে নিউরো বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বানিয়ে চিকিৎসা দেয়ার অভিযোগে দুই লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার সময় সহকারী কমিশনার (ভুমি) সাইফুল ইসলাম ভুঁঞা ছাড়া উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ শফিউল্লাহ নেওয়াজ, আরএমও এএসএম সায়েমসহ আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক ও সহকারী কমিশনার (ভুমি) সাইফুল ইসলাম ভুঁঞা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আঁত-তাবারা মডেল হাসপাতালের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ওই অভিযোগের ভিত্তিতেই সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। চিকিৎসকের সব কিছু ভুয়া প্রমানিত হওয়ায় তাকে ৬ মাসের কারাদন্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড করা হয়।
সংবাদ প্রেরক বিটিসি নিউজ এর বাগমারা প্রতিনিধি মো: আফাজ্জল হোসেন / রাজশাহী। #















