যক্ষ্মা রোগ প্রতিরোধে সভা : চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা নাটাবের সুশীল সমাজের সাথে মতবিনিময়


চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জে যক্ষ্মা রোগ প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে সুশীল সমাজের সাথে মতবিনিময় সভা হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয় যক্ষ্মা নিরোধ সমিতি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার আয়োজনে আজ রবিবার (২২ আগষ্ট) বেলা ১১টায় কাঁঠাল বাগিচাস্থ শিশু শিক্ষা মিলনায়তনে এ মতবিনয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ জাতীয় যক্ষ্মা নিরোধ সমিতি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মনিম উদ দৌলা চৌধুরীর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সিভিল সার্জন ডাঃ জাহিদ নজরুল চৌধুরী। প্রধান আলোচক ছিলেন, জেলা বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডাং মোঃ তৌহিদুল ইসলাম।
বক্তব্য রাখেন ড. প্রফেসর মাযহারুল ইসলাম তরু, নাটাবের রাজশাহী জোনের মাঠ কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ও সভা সঞ্চালনা করেন নাটাব চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য ও শিশু শিক্ষা নিকতনের অধ্যক্ষ মো. আনিসুর রহমান।
সভায় যক্ষ্মা রোগের করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। মতবিনিময় সভায় জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধাগনসহ সুশীল সমাজের ৩০জন প্রতিনিধি অংশ নেন।
সভায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে অংশ নেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জয়নাল আবেদীন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতার হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা একরামুল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোস্তাক হোসেন, প্রফেসর ড. মাজহারুল ইসলাম তরু, প্রভাষক তামান্না তাবাসসুম উর্মি, শিক্ষক হাসিনুর রহমান, শিক্ষক আব্দুর রাকিব, শিক্ষক আবু রায়হান, শিক্ষক লিয়াকত হাসান, চেয়ারম্যান আশরাফুল হক মতু, মাওলানা মোঃ মহসিন উদ্দিন, মাওলানা মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, হাফেজ মোঃ রবিউল আওয়াল, নারী উদ্যোক্তা রাশিদা খাতুন শিশিরসহ সুশীল সমাজের ৩০ জন প্রতিনিধি। বক্তব্য রাখেন, নাটাবের রাজশাহী বিভাগীয় প্রতিনিধি রুহুল আমিন, ড. মাযহারুল ইসলাম তরুসহ অন্যরা।
যক্ষ্মা প্রতিরোধে সরকারের কার্যকরী ভুমিকার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ইমাম, এনজিও কর্মী, সামাজিক সংগঠনসহ সুশীল সমাজের ভুমিকার প্রশংসা করেন প্রধান অতিথি ডাঃ জাহিদ। শেষে দেশের মঙ্গল কামনা করে এবং নাটাবের জেলা সাধারণ সম্পাদক ইকবাল মনোয়ার খান চান্না’র শারিরিক সুস্থতা কামনা করে দোয়া করা হয়।
বক্তারা, যক্ষ্মা রোগ প্রতিরোধে জেলার সুশীল সমাজের প্রতি বিশেষ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে সমাজের সকল শ্রেণী-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসার আহবান জানান। সামাজিকভাবে সচেতনতার মাধ্যমে যক্ষ্মা রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব বলেও মতামত ব্যক্ত করেন আলোচকগণ ও নাটাব নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, যক্ষ্মা রোগ শুধু মানুষের ফুসফুসেই হয়না, হাড়েও হয়। হাড়ে যক্ষ্মা রোগ প্রায় ৪০ থেকে ৪২ শতাংশ হয়। ৫০% লোকের মেরুদন্ডে এই রোগ হয়। ফলে আক্রান্ত রোগী সামনে বা পেছনের দিকে বাঁকিয়ে যায়। আক্রান্ত হলে হাঁটুতে এবং পায়ের গোড়ালীতে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এসব সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসা নিলে সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। যক্ষ্মা রোগীকে সঠিকভাবে ঔষধ সেবনের মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধ করা যায়।
এতে ডটস উল্লেখযোগ্যভাবে ভূমিকার রাখে। মতবিনিময়কালে বক্তারা আরও বলেন, একটানা ৩ সপ্তাহের বেশী কাঁশি হলে চিকিৎসকের কাছে পরামর্শ নিতে হবে। হাঁচি ও কাঁশির মাধ্যমে যক্ষ্মা রোগ সংক্রমন হয় এবং রোগ প্রতিরোধ শক্তি কমে যাওয়া মানুষদের আক্রান্ত করে ফেলে। সাধারণতঃ রোগ প্রতিরোধ কমে মানুষরা এই রোগে বেশী আক্রান্ত হয়। যক্ষ্মা রোগ দেখা দিলে নিয়মিত, পরিমিত ও ক্রমাগত এবং সঠিকভাবে ঔষধ সেবন করাতে হবে। সমাজ থেকে এই রোগ প্রতিরোধে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষদের এগিয়ে আসতে হবে। মানুষের সচেতনতায় পারে কঠিন রোগ য²া থেকে সমাজ তথা দেশকে রক্ষা করতে।
বক্তারা আরও বলেন, মানুষের নখ ও চুল ছাড়া সব স্থানেই যক্ষ্মা রোগ হতে পারে। তাই সমস্যা হলে তাড়াতাড়ি চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ টিবি ক্লিনিকে আধুনিক মেশিনে মাত্র ১ ঘন্টায় যক্ষ্মা রোগ পরীক্ষা করা যায় এবং ফলাফল দেয়া হয়। কোন মানুষকে সন্দেহ হলেই টিবি ক্লিনিকে পাঠিয়ে পরীক্ষা করে নেয়ার অনুরোধ জানান বক্তারা।
বক্তারা আরও বলেন, ডটস্ এর মাধ্যমে সমাজের প্রতিনিধির তত্বাবধানে যক্ষ্মা রোগীকে সঠিকভাবে ঔষধ খাওয়ানো হচ্ছে। জেলার যক্ষ্মার চিকিৎসা পাওয়া যায়, বাংলাদেশের সকল জেলা সদর হাসপাতাল, সিভিল সার্জন অফিস, জেলা টিবি ক্লিনিক, জেলা নাটাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, জেলা ব্র্যাক সেবা সেন্টার, উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র, বক্ষব্যাধী ক্লিনিক ও বক্ষব্যাধী হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারী হাসপাতালে। দীর্ঘদিন চিকিৎসার সেবা নিয়ে ঔষধ সেবন করলে যক্ষ্মা ভালো হয়। নিয়মিত ও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চিকিৎসা না নিলে পরিনতি ভয়াবহ যা এমডিআর রোগীর সংখ্যা বাড়বে বলেও বক্তারা বলেন।
নাটাব যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে তাদের সুস্থ করে তোলার ক্ষেত্রে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। সামাজিক কূসংস্কার, অজ্ঞতা, অবহেলা, অর্থনৈতিক সংকট ও তথ্যের অভাবে যক্ষ্মা রোগীরা চিকিৎসা কেন্দ্রে যেতে চান না, চিকিৎসা নিলেও নিয়মিত ওষুধ সেবন এবং পূর্ণ সময় চিকিৎসাও গ্রহণ করেন না। নাটাব সরবারের ডটস্ কর্মসূচির অংশীদার হিসেবে রোগীদের চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতন করে তোলার ব্যাপারে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে আসছে।
এর আগেও জেলা নাটাবের উদ্যোগে ইমাম, শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধা, আইনজীবী, সাংবাদিক, ক্রীড়া সংগঠক, সাংস্কৃতিক কর্মী, এনজিও কর্মী, সুশীল সমাজ, পরিবহন শ্রমিক ও রিক্সাচালকদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করেছে।
বাংলাদেশ জাতীয় যক্ষ্মা নিরোধ সমিতি (নাটাব) এর জন্ম হয় ১৯৪৮ সালে। জন্মলগ্ন থেকেই জনসচেতনার মাধ্যমে দেশব্যাপী যক্ষ্মা রোগ প্রতিরোধে কাজ করে আসছে বাংলাদেশ জাতীয় যক্ষ্মা নিরোধ সমিতি (নাটাব)।
সংবাদ প্রেরক বিটিসি নিউজ এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি মো: আশরাফুল ইসলাম রঞ্জু। #

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.