নিজস্ব প্রতিবেদক: তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি সাবেক চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপোসহীন নেত্রী। তিনি কখনো অন্যায়ের সাথে আপোস করেননি। আপোস না করায় তাঁকে নানাভাবে নির্যাতিত হতে হয়েছে। তিনি শুধু বিএনপির নেতা নয়। তিনি হচ্ছেন সারা দেশের মানুষের নেত্রী। কারণ তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞর কারনে জনগণের ভালবাসা পেয়েছিলেন। এ এদেশের জনগণের ভাগ্য উন্নয়নে তিনি ছিলেন আলোকবর্তিকা। কারণ তিনি সবাইকে নিয়ে দেশ গড়ে গেছেন।
তাঁর ভিতরে কোন প্রকার হিংসা বিদ্বেষ ছিলোনা বলে সোমবার বিকেলে মোহনপুর উপজেলার মোহনপুর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাকশিমইল ইউনিয়ন বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের আয়োজেনে তিনবারের সফল সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির সাবেক চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং পবা-মোহনপুরের বিএনপি মনোনিত ধানের শীষের প্রার্থী এডভোকেট শফিকুল হক মিলন এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেনম বেগম জিয়ার সর্বদা আলেম ওলামাদের ভালবাসতেন। তাঁদের বিরুদ্ধে কিছু হলে তিনি আগে প্রতিবাদ জানাতেন। দেশে যখন পতিত সরকারের সাবেক স্বৈর প্রধানমন্ত্রী খুনি শেখ হাসিনা আরেশ ওলামাদের জঙ্গী ও সন্ত্রাষী বলে দেশ বিদেশে প্রচার করছিলো এবং তাদের উপরে অমানবিক নির্যাতন শুরু করেছিলোসে সে সময়ে তিনি তীব্র নিন্দা ও পতিবাদ করেছিলেন। শুধু তাইনয় যখন হেফাজতে ইসলামীর উপরে ফ্যাসিস্ট হাসিনা হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিলো তখন তিনি বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীসহ দেশবাসীকে তাঁদের পাশে যাওয়া এবং থাকার অনুরোধ করেছিলে বলে জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, ৩১ ডিসেম্বর যখন বেগম জিয়াকে দাফন করার জন্য জানাযা করা হয়েছিলো সেখানে হাজার হাজার আলেম ওলামা উপস্থিত ছিলেন। তারা দুচোখের পািন ছেড়ে দিয়ে দোয়া করেছেন। তাঁর খাটিয়া ধরে তারা কবর স্থানের দিকে এগিয়ে গেছেন। এটাই হলো ভালবাসা বলে উল্লেখ করেন তিনি। জানাযায় কত লোক হয়েছিলো তা এখনো গণনা করে শেষ করতে পারেনি। এই মহিয়সী নারীকে তাঁর স্বামী বাংলার রাখালরাজা, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশেই তাঁকে দাফন করা হয়েছে। তিনি অত্যন্ত একজন ভাগ্যবতী নারী বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, আগামী ফেব্রয়ারী মাসের ১২ তারিখ দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচন নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র চলছে। অনেক সাংবাদিক তাঁকে নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন করেন। নির্বাচনের পরিবেশ ভাল রাখার দায়িত্ব হচ্ছে নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও আইনশৃংখলা বাহিনীর। তবে নির্বাচন নিয়ে কোন ষড়যন্ত্রই কাজে আসবেনা। নির্বচনী ট্রেন চালু হয়ে গেছে। এই ট্রেন একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কেউ থামাতে পারবেনা। তিনি বলেন এটা কারো ভাবনা নয়। এটা আঠারো কোটি মানুষের ভাবনা। এই দিনটি ফিরিয়ে আনতে বিএনপির বিশ হাজার নেতাকর্মীকে জীবন দিতে হয়েছে। শুধু তাইনয় ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে কমলমতি সন্তানেরা অকাতওে প্রাণ দিয়েছে। তাদের রক্ত এখানো শুকিয়ে যায়নি।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ধর্মকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষকে নানাভাবে নামে প্রতারণা করছে। তারা বলছে বিড়িতে সুখটান দিয়েও দাড়িপাল্লায় ভোট দিলে বেহেস্ত পাওয়া যাবে। আবার কেউ কেউ বলছে দাড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে মরে গেলেই বেহেস্ত নিশ্চিৎ। ধর্ম নিয়ে প্রতারণা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি। সেইসাথে এসব কথায় বিভ্রান্ত না হয়ে একমাত্র আল্লাহকে বিশ্বাস করার কথা জানিয়ে ঐসকল প্রতারকদের থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন তিনি। তিনি বলেন, বিএনপির আন্দোলন এখনো চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি। আগামী নির্বাচনে সবাইকে একতাবদ্ধ থেকে ধানের শীষের পক্ষে থাকার আহ্বান জানান তিনি।
মিলন বলেন, বেগম জিয়া কারাগারে গুরুতর অসুস্থ হলে তাঁকে চিকিৎসা করতে দেয়া হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে বার বার আবেদন করলেও সে সময়ে সরকার তা আমলে নেয়নি। মূলত বেগম জিয়াকে তিলে তিলে মেরে ফেলার জন্য পতিত সরকারের অবৈধ প্রধানমন্ত্রী খুনি হাসিনা জেলের মধ্যে স্লোপয়জোনিং করা হয়েছিলো বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, বেগম জিয়া ১৯৪৫ সালে জন্ম গ্রহন করেছিলেন। বাংলার রাখালরাজ, বাংলাদেশের উন্নয়নের রুপকার বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাবেক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যখন মেজর ছিলেন সে সময়ে ১৯৬০ সালে বেগম খালেদা জিয়ার সাথে বিয়ে হয়েছিলো। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হলে মেজর জিয়াউর রহমান পাকিস্তানের হয়ে ভারতের বিপক্ষে যুদ্ধে অবতীর্ন হয়েছিলেন। সে সময়ে বেগম জিয়ার বয়স হয়েছিলো মাত্র বিশ বছর।
তিনি বলেন, সেনা সদস্য যাদের বাড়িতে আছে, আর সেই সদস্য যদি যুদ্ধে যায় তাহলে ঐ পরিবারের সদস্যদের অবস্থাটা কি হয় তা ঐ পরিবারের সদস্যরাই জানেন। এরপর ১৯৭১ সালে শুরু হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ। এই যুদ্ধে অংশগ্রহন ও পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে বাঁচাতে মেজর জিয়াউর রহমান পূর্ব পাকিস্তানে চলে আসেন। এরপর তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। একজন সামরিক সদস্য যদি তার দেশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন তাহলে সে দেশ তাঁকে কি বলে আখ্যাদেয় তা সবাই জানে। সে অবস্থাতেই বেগম জিয়া পাকিস্তান থেকে জাহাজে করে চট্টগ্রামে চলে আসেন। সেখান থেকে তিনি তাঁর দুই সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় পৌঁছালে পাকিস্তানী বাহিনীর নিকট তাঁরা আটক হন।
এসময়ে মেজর জিয়াউর রহমান পাকিস্তানী এক অফিসারকে বলেছিলেন আমি জানি আমার স্ত্রী এবং সন্তানেরা আপনাদের কাছে আটক আছে। যদি তাদের কোন অমর্যাদা হয় তাহলে আপনাদেরকে ক্ষমা করা হবেনা বলে হঁশিয়ারী দেন। বেগম জিয়া পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর নিকট আটক অবস্থা থেকে তিনি দৃঢ়চেতা হিসেবে নিজেকে তৈরী করেছিলেন। এরপর প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালে শহীদ হওয়ার পরে তিনি বিএনপির হাল ধরেন এবং স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন। সেইসাথে অন্যান্য দল বেইমানী ও মেনাফেকী করলেও তিনি জনগণকে সাথে নিয়ে একাই নেতৃত্ব দিয়ে এরশাদের পতন ঘটান। এরপর ১৯৯১ সালে নির্বাচনের মাধ্যেমে তিনি সংসদ সদস্য নির্চাচিত হন এবং সেইসাথে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহন করেন।
তিনি বলেন, তাঁর মৃত্যু সবাইকে একতাবদ্ধ হতে শিখিয়ে গেছে। কারণ তাঁর জানাযায় বিশ্বের ২৬টি রাষ্ট্র থেকে নেতৃবৃন্দ এসেছিলেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পরে বিশ্বে এমন কোন নেতার জানাযায় এত লোক হয়নি বলে জানান তিনি। তিনি বেগম জিয়া, আরাফাত রহমান কোকো, জুলাই যুদ্ধে সকল শহীদ ও দীর্ঘ সতের বছরে স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সকল মৃত মুসলিম ব্যক্তির আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। সেইসাথে যারা অসুস্থ আছেন তাদের সুস্থতা কামনা করে আসছে নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে সবাইকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন। বক্তব্য শেষে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন বাকশিমইল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলামিন সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য ও মোহনপুর উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আব্দুস সামাদ, জেলা বিএনপির সদস্য ও নওহাটা পৌর সাবেক মেয়ার শেখ মকবুল হোসে, জেলা বিএনপির সদস্য ও পবা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, জেলা বিএ নপির সদস্য কামরুজ্জামান হেনা, মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামিমুল ইসলাম মুন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আর রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক বাচ্চু রহমান, শাহীন আক্তার সামসুজ্জাহা, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজিম উদ্দিন সরকার, কেশরহাট পৌর সভা বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন আলো, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক খুশবুর রহমান।
আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান লিটন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরেফিন কনক, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদ সৈয়দা রুমেনা হক, রাজশাহী মহানগর মহিলাদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাবেক কাউন্সিলর সামসুন্নাহার, মোহনপুর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আতাউর রহমান, মোহনপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাকসহ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ জনগণ। #















