BTC News | বিটিসি নিউজ

আজ- শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

আজ- ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

চিকিৎসা নাকি নিষ্ঠুরতা? অপারেশন মাঝপথে রেখে পালালেন ডা. সায়েম

চিকিৎসা নাকি নিষ্ঠুরতা? অপারেশন মাঝপথে রেখে পালালেন ডা. সায়েম

‎‎​লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাট জেলা শহরের বিসিক শিল্প নগরী এলাকায় অবস্থিত ‘আয়েশা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে’ এক রোগীর হাত অর্ধেক অপারেশন করে চিকিৎসক পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয় জনতা ক্লিনিকটি ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে।
‎​
‎ভুক্তভোগীর স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ২ মে লালমনিরহাট সদর উপজেলার জনৈক এক রিকশাচালকের হাতের টিউমার অপারেশনের জন্য আয়েশা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। এনেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ ডা. সায়েম নিজেই অপারেশন করার দায়িত্ব নেন। দুপুর ২টায় রোগীকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ডা. সায়েম ওটি থেকে বেরিয়ে এসে জানান, টিউমারটি হাতের রগের সাথে জড়িয়ে আছে, যা অপারেশন করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। এরপর তিনি রোগীকে দ্রুত ঢাকায় রেফার করার পরামর্শ দিয়ে তড়িঘড়ি করে ক্লিনিক থেকে সটকে পড়েন।
‎​
‎ভুক্তভোগী রোগীর ভাতিজা অভিযোগ করে বিটিসি নিউজকে বলেন, ডাক্তার সায়েম আগে রিপোর্ট দেখে বলেছিলেন তিনি এই অপারেশন করতে পারবেন। কিন্তু ওটি-তে হাতের কবজি অর্ধেক কাটার পর তিনি বলেন এটা তার দ্বারা সম্ভব না। তার অদক্ষতার কারণে আমার চাচার হাত এখন পঙ্গু হওয়ার পথে। তিনি একজন এনেসথেসিয়া ডাক্তার হয়ে কেন সার্জারি করতে গেলেন? আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

‎​তিনি আরও জানান, রোগী একজন দরিদ্র রিকশাচালক এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকের পক্ষ থেকে কোনো দায়িত্বশীল ভূমিকা না পেয়ে তারা ক্লিনিক ঘেরাও করতে বাধ্য হয়েছেন।
‎​
‎স্থানীয়দের অভিযোগ, ডা. সায়েম মূলত একজন এনেসথেসিস্ট হলেও অধিক মুনাফার লোভে জেলার বিভিন্ন ক্লিনিকে নিয়মিত সার্জন হিসেবে অপারেশন করে থাকেন। এর আগেও তার বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসা ও মাঝপথে অপারেশন রেখে পালিয়ে যাওয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। বিসিক এলাকায় অবস্থিত সুমনের মালিকানাধীন এই ক্লিনিকে এ ধরনের অপেশাদার কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

‎এ বিষয়ে জানতে আয়েশা ক্লিনিকের মালিক সুমনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে ক্লিনিকটির অবস্থান বিসিক এলাকায় হওয়ায় সেখানে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
‎​
‎ঘটনার পর থেকে ক্লিনিক মালিক সুমন ও অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. সায়েমের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ভুক্তভোগী পরিবার এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

‎এ ব্যাপারে ​জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুল হাকিম বিটিসি নিউজকে জানান, কোনো এনেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞের পক্ষে পূর্ণাঙ্গ সার্জারি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বিষয়টি খতিয়ে দেখে অভিযুক্ত চিকিৎসক ও ক্লিনিকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদ প্রেরক বিটিসি নিউজ এর লালমনিরহাট প্রতিনিধি হাসানুজ্জামান হাসান। #

এইরকম আরও খবর

সর্বশেষ খবর

ব্রেকিং নিউজ
জবাবদিহিমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসন গড়ে তোলার আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর রাজশাহী সীমান্তে বিপুল পরিমান ট্যাপেনটাডল জব্দ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা দিল পদ্মা অয়েল সমুদ্রপথে বিদেশ যাত্রা বন্ধ করতেই হবে : প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী সাধারণ মানুষের সেবায় কোনো হয়রানি নয় : গৃহায়ণমন্ত্রী এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় মত প্রকাশ করা সমস্যার: নুসরাত ভারত ছাড়ছেন খামেনির মৃত্যুতে উচ্ছ্বাস করা সেই অভিনেত্রী বিচ্ছেদের গুঞ্জনে নীরবতা ভাঙলেন অভিনেত্রী মৌনি প্রবল ঝড়ে লন্ডভন্ড ভারতের উত্তরপ্রদেশ, নিহত-৮৯ জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে : এলজিআরডি মন্ত্রী