বিটিসি স্পোর্টস ডেস্ক: আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতা এই জয়টিকে কতটা গুরুত্ব দিয়েছেন, তা তার উদযাপনেই স্পষ্ট। কারাবাও কাপ ও এফএ কাপের হতাশাজনক পরাজয়ের পর জমে থাকা সব চাপ যেন এক মুহূর্তেই উড়ে যায় শেষ মুহূর্তে পাওয়া গোলে।
ইনজুরি টাইমের প্রথম মিনিটে কাই হাভার্টজের গোলেই বদলে যায় ম্যাচের ভাগ্য।
বদলি হিসেবে নামা গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির ক্রস থেকে সহজেই বল জালে জড়ান হাভার্টজ, আর তখনই টাচলাইনের দিকে ছুটে গিয়ে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন আর্তেতা।
চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগের ম্যাচের বেশির ভাগ সময়ই হতাশ দেখা যাচ্ছিল আর্তেতাকে।
আর্সেনাল খেলছিল কিছুটা চাপে, আর প্রাণবন্ত স্পোর্টিং সিপি সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে দ্বিতীয় লেগের আগে বড় লিড পেয়ে যেতে পারত।
তবে শেষ পর্যন্ত হাভার্টজের গোলেই সেমিফাইনালের পথে এক ধাপ এগিয়ে যায় আর্সেনাল।
গোলকিপার ডেভিড রায়া ছিলেন দলের অন্যতম নায়ক।
ম্যানচেস্টার সিটি ও সাউথ্যাম্পটনের বিপক্ষে বিশ্রামে থাকার পর এই ম্যাচে একাধিক দুর্দান্ত সেভ করে দলকে বিপদ থেকে বাঁচান তিনি। তার পারফরম্যান্স আর্সেনালের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
দীর্ঘ ১৩ বছর পর চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ আটে উঠেছে আর্সেনাল, যা ২০০৮ থেকে ২০১০ সালের পর তাদের সেরা সাফল্য।
তবে বুকায়ো সাকা, এবেরেচে এজে, জুরিয়েন টিম্বার এবং পিয়েরো হিনকাপির মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি এবং সাম্প্রতিক পরাজয়ের প্রভাব ম্যাচটিকে কঠিন করে তুলেছিল।
ম্যাচের শুরুতেই আর্সেনালের রক্ষণভাগে চাপ তৈরি করে স্পোর্টিং। ওসমান ডিওমান্ডের দুর্দান্ত পাস থেকে ম্যাক্সি আরাউহোর শক্তিশালী শট ডেভিড রায়া আঙুলের ছোঁয়ায় ক্রসবারে পাঠিয়ে দিলে সে যাত্রায় বেঁচে যায় আর্সেনাল।
ভিক্টর গিয়োকেরেসও নিজের সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে খেলতে নেমে শুরুতে খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেননি।
অন্যদিকে মার্টিন ওডেগার্ড কয়েকটি সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। প্রথমার্ধে আর্সেনালের পারফরম্যান্স ছিল অনেকটাই নিষ্প্রভ।
মিডফিল্ডে ডেকলান রাইস এবং মার্টিন জুবিমেন্ডি কিছুটা নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনলেও আক্রমণে সৃজনশীলতার ঘাটতি স্পষ্ট ছিল।
সব মিলিয়ে কঠিন এক ম্যাচে শেষ মুহূর্তের নাটকীয় জয়ে স্বস্তি ফিরে পেয়েছে আর্সেনাল, আর দ্বিতীয় লেগের আগে এগিয়ে থাকায় আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে তাদের। #















