BTC News | বিটিসি নিউজ

আজ- শুক্রবার, ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৯শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

আজ- ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

যুদ্ধবিরতির পরও থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভূখণ্ড দখলের অভিযোগ কম্বোডিয়ার

যুদ্ধবিরতির পরও থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভূখণ্ড দখলের অভিযোগ কম্বোডিয়ার

বিটিসি আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরও থাইল্যান্ডের সামরিক বাহিনী কম্বোডিয়ার ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ওয়াশিংটনে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিস্ফোরক দাবি করেন।

গত ডিসেম্বরে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সীমান্ত পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত ‘ভঙ্গুর’ বলে বর্ণনা করেছেন তিনি। একই সঙ্গে বিরোধপূর্ণ সীমান্তে স্থায়ী শান্তি ফেরাতে থাইল্যান্ডকে দ্রুত যৌথ সীমানা কমিশন বা জেবিসি-র কাজ শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন কম্বোডিয়ান নেতা।

ট্রাম্পের নবগঠিত ‘বোর্ড অফ পিস’–এর বৈঠকে যোগ দিতে বর্তমানে ওয়াশিংটনে অবস্থান করছেন হুন মানেত। রয়টার্সকে দেওয়া আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে তার প্রথম এই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন যে, থাইল্যান্ডের সৈন্যরা অনেক এলাকায় কম্বোডিয়ার ভূখণ্ডের বেশ গভীরে অবস্থান করছে।

এটি এমনকি থাইল্যান্ডের নিজস্ব দাবিকৃত সীমানারও লঙ্ঘন। মানেতের অভিযোগ অনুযায়ী, থাইল্যান্ড সরকার অনেক জায়গায় শিপিং কন্টেইনার এবং কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে কম্বোডিয়ার এলাকা দখল করে রেখেছে, যার ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজ ঘরে ফিরতে পারছেন না। তিনি একে সার্বভৌমত্বের ওপর চরম আঘাত হিসেবে অভিহিত করে বলেন যে, এটি কোনো নিছক অভিযোগ নয় বরং মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র।

থাইল্যান্ড অবশ্য শুরু থেকেই কম্বোডিয়ার এমন দাবি অস্বীকার করে আসছে। থাই কর্তৃপক্ষের মতে, সীমান্ত পরিস্থিতি শান্ত রাখার অংশ হিসেবেই তারা সেখানে নির্দিষ্ট অবস্থানে সেনা মোতায়েন রেখেছে এবং কোনো ভূখণ্ড দখলের অভিপ্রায় তাদের নেই। গত বছর জুলাই মাসে দুই দেশের ৮১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তে সাম্প্রতিক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছিল, যার ফলে লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়।

এরপর ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর মধ্যস্থতায় অক্টোবর ও ডিসেম্বর মাসে দুই দফা অস্ত্রবিরতি চুক্তি হলেও সীমানা নির্ধারণ নিয়ে বিরোধ এখনো মেটেনি। হুন মানেত আশা প্রকাশ করেছেন যে, গত ৮ ফেব্রুয়ারির থাই নির্বাচন শেষ হওয়ার পর এখন অন্তত কারিগরি পর্যায়ে দুই দেশ সীমানা মাপজোকের কাজ শুরু করতে পারবে।

২০২৩ সালে বাবা হুন সেনের কাছ থেকে ক্ষমতা গ্রহণের পর ৪৮ বছর বয়সী হুন মানেতের নেতৃত্বে ওয়াশিংটন ও নমপেনের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট পয়েন্টে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা মানেত চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখেই আমেরিকার সঙ্গে নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করতে আগ্রহী।

সাক্ষাৎকারে তিনি মানবাধিকার ও সাইবার স্ক্যাম সেন্টার দমনের বিষয়েও তার সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে কম্বোডিয়া থেকে পরিচালিত অনলাইন প্রতারণা চক্র বন্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন ও অপরাধীদের দেশান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া শান্তি চুক্তিটি শেষ পর্যন্ত কতটুকু টিকে থাকে, তা এখন প্রতিবেশী এই দুই দেশের পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে। #

এইরকম আরও খবর

সর্বশেষ খবর

ব্রেকিং নিউজ
শিক্ষকরাই দেশে সুশিক্ষিত নাগরিক গড়ে তুলতে পারেন — এমপি- মহিত তালুকদার আদমদীঘিতে মাদক কারবারির জেল-জরিমানা ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’, থাকবে সরকারি ছুটি ১৫ ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতার পরিবর্তনের চেয়ে মানসিকতার পরিবর্তন বেশি জরুরি : প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের সাক্ষাৎ সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর সঙ্গে মা‌র্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক কসবায় ২২শত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ জামালপুরে অনলাইনে কবিরাজীর নামে প্রতারণা, ২৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কারসহ কন্টেন্ট ক্রিয়েটর গ্রেফতার বকশীগঞ্জে সাড়ে ১২শ কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ