বিটিসি আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাল্টাপাল্টি হামলায় আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ময়দান। ইউক্রেনের খারকিভ অঞ্চলে দুই পক্ষের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই ইউক্রেনীয় পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
একইসঙ্গে, ওডেসা ও সুমি অঞ্চলে ভয়াবহ ড্রোন ও ক্ষেপনাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মস্কো। জবাবে, রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানে হামলার দাবি করেছে ইউক্রেন।
চলতি সপ্তাহেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মেয়াদকাল চার বছর পূর্ণ হবে। তবে সহিংসতা কমার বিপরীতে দিন দিন যেন আরও তীব্র হচ্ছে।
স্থানীয় সময় শনিবারও (২১ ফেব্রুয়ারি) দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি হামলা চালায়। ইউক্রেনের খারকিভে মুখোমুখি সামরিক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে মস্কো-কিয়েভের সেনারা।
এ অভিযানে রাশিয়ার নিরাপত্তাকর্মীসহ বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন।
রাশিয়ার ড্রোন হামলায় খারকিভের বেসামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়। বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন প্রায় ৯৯ হাজার গ্রাহক।
একইসঙ্গে, ইউক্রেনের ওডেসা ও সুমি অঞ্চলে রুশ ড্রোন হামলায় বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবনে পুড়ে যায়। আগুনে ভস্ম হয় বেশকিছু যানবাহন।
জবাবে, রাশিয়ার প্রত্যন্ত উদমুর্তিয়া অঞ্চলে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনকারী কারখানায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করে ইউক্রেন। এই কারখানায় ছোট-পরিসরের ইসকান্দার এবং আন্তঃমহাদেশীয় টোপোল-এম ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা হচ্ছিল।
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানায়, হামলায় কারখানার এলাকায় আগুন ধরে যায়। উদমুর্তিয়ার রাজধানী ইজেভস্কের বিমানবন্দর এবং আশপাশের অঞ্চলের শহরের বিমানবন্দরগুলো বন্ধ রাখা হয়। একদিনেই রাশিয়া-ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী দেড়শ’র বেশি সম্মুখ যুদ্ধে জড়িয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, রুশ তেল পরিবহনে জড়িত ২২৫ জাহাজের ক্যাপ্টেনের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে কিয়েভ।
তিনি আরও জানান, যারা রাশিয়াকে যুদ্ধের অর্থ জোগাতে সহায়তা করছে, তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ধারাবাহিকভাবে আরোপ করা হবে। যুদ্ধে ইউক্রেন কখনোই হারবে না বলেও দাবি করেছেন জেলেনস্কি।
এরমধ্যেই রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য রয়েছে যে ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী ও বিশেষ পরিষেবাগুলো টেলিগ্রামে দেয়া তথ্য দ্রুত সংগ্রহ করে সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে।
তারা দাবি করেছে, রুশ সেনাদের টেলিগ্রামের একাউন্টে গোপনে অনুপ্রবেশ করেই হামলার লক্ষ্য নির্ধারণ করছে ইউক্রেনীয় সেনারা। এর প্রেক্ষিতে ডিসেম্বর থেকে টেলিগ্রামের গতি কমিয়ে দেয় রুশ কর্তৃপক্ষ। #















