বিটিসি আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন কংগ্রেসের একটি প্যানেলকে দেওয়া সাক্ষ্যে বলেছেন, দণ্ডিত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইনের অপরাধ সম্বন্ধে আগে তার কোনো ধারণাই ছিল না।
বৃহস্পতিবার তিনি প্রয়াত এ নিপীড়কের সঙ্গে অতীত সংশ্লিষ্টতা থাকায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে তলব ও শুনানিতে প্রশ্নের মুখোমুখি করতেও আইনপ্রণেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
“সত্য বেরিয়ে এসেছে দেখতে চাই আমি,” এপস্টেইন নিয়ে তদন্ত চালানো কংগ্রেসনাল কমিটির কয়েক ঘণ্টাব্যাপী রুদ্ধদ্বার শুনানিতে সাক্ষ্য দেওয়ার পর হিলারি এমনটাই বলেন।
শুক্রবার তার স্বামী, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনেরও সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
এই দম্পতি এর আগে কংগ্রেসনাল কমিটির পরোয়ানাকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যা দিয়ে অগ্রাহ্য করেছিলেন। কিন্তু পরে তারা সাক্ষ্য দিতে রাজি হন। এর ফলে তাদের কংগ্রেস ‘অবমাননার’ দায়ে অভিযুক্ত হওয়ার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত কাটল।
ক্লিনটন দম্পতি ও ট্রাম্প এপস্টেইনের সঙ্গে অতীতে সম্পর্ক থাকার কথা স্বীকার করলেও কোনো অন্যায় করার কথা অস্বীকার করে আসছেন।
প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটির সঙ্গে বৃহস্পতিবার ছয় ঘণ্টার আলাপচারিতা শেষে হিলারি সাংবাদিকদের জানান, তার সাক্ষ্য জনসমক্ষে না আসায় তিনি ‘হতাশ’।
“তাহলে আমাকে এখানে এসে ব্যাখ্যা দেওয়া লাগতো না,” বলেন এ সাবেক ফার্স্ট লেডি।
শুনানিতে ওভারসাইট কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমার তদন্তের ধরন নিয়ে যে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন এবং কোথায় কোথায় নজর দেওয়া দরকার সে বিষয়ে তার (হিলারি) কথা শুনেছেন, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার প্রশংসাও করেছেন।
এপস্টেইন বা তার দণ্ডিত সহযোগী গিসলেইন ম্যাক্সওয়েল নিয়ে জবানবন্দি দিতে আর কাউকে না ডাকায় কংগ্রেসের ওভারসাইট কমিটির রিপাবলিকান সদস্যদের কড়া সমালোচনাও করেন তিনি।
তার স্বামী বিল ক্লিনটন বলছেন, এপস্টেইনের অপরাধ সম্বন্ধে তার কোনো ধারণা ছিল না, এবং দুই দশক আগেই তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন তিনি।
প্রেসিডেন্ট পদ থেকে বিদায় নেওয়ার পর বিভিন্ন দাতব্য কাজ করতে দিয়ে এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে ওঠে বলে দাবি তার। প্রয়াত এ বিনিয়োগকারীর সঙ্গে যোগাযোগ থাকায় অনুশোচনাও ব্যক্ত করেছেন তিনি। এপস্টেইন ২০১৯ সালে নিউ ইয়র্ক সিটির কারাগারে মারা যান।
বৃহস্পতিবার নিজেদের বাড়ির কাছে নিউ ইয়র্কের চাপাকুয়ায় শুনানির আগেই সূচনা বক্তব্যের একটি কপি এক্সে প্রকাশ করেন হিলারি।
সেখানে এপস্টেইন ও ম্যাক্সওয়েলকে নিয়ে তিনি বলেন, “তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্বন্ধে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। এপস্টেইনের সঙ্গে আমার কখনো দেখা হয়েছে বলে মনে করতে পারছি না আমি। আমি কখনো তার বিমানে উঠিনি, তার দ্বীপ, বাসা বা অফিসেও যাইনি। এর বাইরে আর কিছু যোগ করার নেই আমার।”
এপস্টেইন সংক্রান্ত নথিতে ট্রাম্পের নাম বারবার আসায় প্রেসিডেন্টকে তলব করে তাকে শপথের অধীনে জিজ্ঞাসাবাদ করতে প্রতিনিধি পরিষদের কমিটিকে আহ্বানও জানান তিনি।
ক্লিনটন দম্পতির নামও এপস্টেইন সংক্রান্ত তদন্ত নথিতে বারবার এসেছে। নাম থাকলেও প্রকাশিত নথিগুলোতে তাদের কোনো ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার ইঙ্গিত মেলেনি।
মার্কিন আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার অধিবেশনের একটি ছবি বাইরে ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর বৃহস্পতিবার হিলারির সাক্ষ্যগ্রহণ খানিকক্ষণের জন্য বন্ধ রাখা হয়।
কলোরাডোর কংগ্রেসওম্যান লরেন বোবার্টের তোলা ওই ছবি বাইরে চলে আসাকে ‘পুরোপুরি আইনবিরুদ্ধ’ বলছেন কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যরা।
বোবার্ট বিবিসিকে বলছেন, সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই তিনি ওই ছবি তুলেছিলেন এবং সেটি রক্ষণশীল এক ইনফ্লুয়েন্সারকে পাঠিয়েছিলেন।
হিলারি পরে জানান, বোবার্টের কর্মকাণ্ডের পর আইনপ্রণেতারা আর কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করছেন কিনা তা নিশ্চিত হতে তার দল শুনানি কিছুক্ষণের জন্য থামিয়ে রাখতে বাধ্য হয়। #


