নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার বেড়াবাড়ী গ্রামে জমিতে চাষাবাদকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একই পরিবারের সাত-আটজন সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোটা, সাবল ও লোহার রডের আঘাতে আহতদের কারো ভেঙেছে হাত, আবার কারো মাথা ও শরীরজুড়ে পেয়েছেন ১২ থেকে ২৬টি সেলাই। ঘটনাটি ঘটে গত শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকালে।
আহত পরিবারের অভিযোগ, তাদের ক্রয়কৃত ও ২৫ বছর ধরে ভোগদখলকৃত ২৫ শতক জমিতে প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক গম রোপণের চেষ্টা করলে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এ ঘটনায় কৃষক মোমিনের ছেলে শামীম রেজা বাদী হয়ে ২৫ নভেম্বর মোহনপুর থানায় ১৩ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নং: ১১)। এ মামলায় ১ নং এবং ৫ নং আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
রোববার (৩০ নভেম্বর) দুপুর ২টায় নগরীর অলোকার মোড়ে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে পুরো ঘটনাটি তুলে ধরেন মামলার বাদী শামীম রেজাসহ আহত পরিবার সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, মূল ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিতে এবং ভুক্তভোগীদের নাজেহাল করতে অভিযুক্তরা পাল্টা মামলা দিয়ে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করছে।
এজাহার ও লিখিত বক্তব্যে জানা যায়, ২১ নভেম্বর সকাল ৬টার দিকে অভিযুক্তরা দলবদ্ধভাবে শামীমদের জমিতে গম রোপণ করতে শুরু করে। এসময় বাধা দিতে গেলে প্রথমেই হামলার শিকার হন শামীমের পিতা মোমিন (৬০)। পেছন থেকে কোদালের আঘাতে তার মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বল্লম দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত করা হয়।
চিৎকার শুনে এগিয়ে গেলে শামীমের চাচা রহমত আলী (৫০), ভাই মেহেদী হাসান রনি এবং ছোট ভাই আবির হোসেন জনি (১৭) ও হামলার শিকার হন। লোহার রডের আঘাতে জনির বাম হাত ভেঙে যায়। রনির মাথার পেছনে হাসুয়ার আঘাতে ১২টি সেলাই দিতে হয়েছে। মোমিনের শরীরজুড়ে লেগেছে ২৬টি সেলাই। মোট সাত-আটজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান বলেন, এ ঘটনায় দুইজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তারা বর্তমানে জামিনে রয়েছে। বাদীর স্বাক্ষরিত এজাহারের ভিত্তিতেই মামলার ধারা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে আহতদের মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়া গেলে সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ধারা যুক্ত করা হবে।
সংবাদ প্রেরক বিটিসি নিউজ এর নিজস্ব প্রতিনিধি ইফতেখার আলম (বিশাল) / রাজশাহী। #

















