পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর বাউফলের বগা ফেরিঘাট এলাকায় একটি বাসের প্রায় একাংশ ফেরির বাইরে থাকার ছবি ভাইরাল হয়েছে। ছবিতে দেখা যায়, সাকুরা পরিবহনের ওই বাসটির পেছনের অংশ ফেরির বাইরে অবস্থান করছে।
এ ঘটনায় ফেরির সুপারভাইজার ও চালক-কর্মচারীদের সতর্ক করেছেন মোবাইলকোর্টের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে মোবাইলকোর্টের মাধ্যমে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সোহাগ মিলু বগা ফেরির সুপারভাইজার ও চালক-কর্মচারীদের বিশেষভাবে সতর্ক করেন।
জানা গেছে, শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রুমেন শিকদার নামে একজন এ ছবি নিজের ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করেন।
ক্যাপশনে তিনি বলেন, ‘আর একটা দৌলতদিয়ার ঘটনা হয়তো বাউফল বগা ফেরিঘাটে ঘটে যেতে পারত আজকে। বগা ফেরি ঘাট বাউফল থেকে ঢাকা গামী সাকুরা পরিবহন গাড়ির ৩ অংশের দুই অংশ ফেরির মধ্যে বাকি একাংশ ঝুঁকিপূর্ণ নদীর মধ্যে, দুর্ঘটনা এখানে ঘটে যেতে পারত আরেকটা দৌলতদিয়ার মতো ঘটনা হতো’।
রুমেন শিকদার বলেন, ‘আমার এক কাছের ছোটভাই ছবিটি তুলে আমাকে পাঠায়। ছবিতে দেখা যায় সাকুরা পরিবহনের বাসটি ঝূঁকিপূর্ণ অবস্থায় ফেরির বাইরে নদীর দিকে একটি অংশ রেখে বাউফলের বগা প্রান্ত থেকে দুমকী (চর গরবদি) প্রান্তের দিকে যাচ্ছিল। আর এরকম দৃশ্য এই ফেরি পারাপারে অহরহই চোখে পড়ে। বগা সেতুর দাবিতে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন থেকে আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছে। সবার সতর্কতার জন্যই আমি আমার পেজে ছবিটি পোস্ট দিই।’
ফেরির দায়িত্বরত সুপারভাইজার মো. হাসান বিটিসি নিউজকে জানান, মোবাইলকোর্টের মাধ্যমে সতর্ক করার কথা জেনেছেন তিনি। দুপুর ১২টা থেকে তার শিফটের দায়িত্ব শুরু হয়েছে। আগের দিন ওই বাসটি পারাপারের সময় মো. সেলিম সুপারভাইজার এবং চালক হিসেবে আবু সালেহ ও শহীদ নামে দুইজন দায়িত্বে ছিলেন। এখন মো. শাহীন ও শাহআলম নামে অপর দুই জন চালকের দায়িত্বে রয়েছেন।
হাসান বলেন, ‘যতটুকু জানতে পেরেছি বাসের কর্মচারীরা জোর করেই ওভাবে ফেরিতে বাস নিয়ে উঠে পড়ে। ফেরির দায়িত্বে থাকা লোকজন ওই বাসটিকে ফেরিতে ওঠাতে চায়নি।’
মোবাইলকোর্টের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সোহাগ মিলু বিটিসি নিউজকেবলেন, ‘আগের দিনের ঘটনা। সরেজমিন বাসটিকে পাওয়া যায়নি। তাই বাসের কর্মচারী বা ফেরির লোকজনকে জরিমানা কিংবা অন্য কোনো সাজা প্রদান করা সম্ভব হয়নি। ওই ফেরির সুপারভাইজার, চালক ও কর্মচারীদের ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপদের পটুয়াখালী জেলা নির্বাহী পরিচালক মো. জামিল আক্তার লিমন বিটিসি নিউজকে বলেন, ‘অনেক সময় বাসের ড্রাইভারগণ জোর-জবরদস্তিতে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করে থাকেন। আমরা আমাদের দায়িত্বে থাকা সাবডিবিশন, সাবএসিটেন্ট ইঞ্জিনিয়ারসহ ফেরির দায়িত্বে থাকা সকলকে এ ধরনের কাজের পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে সেই নির্দেশনা দিয়েছি।
সংবাদ প্রেরক বিটিসি নিউজ এর পটুয়াখালী প্রতিনিধি মো. নজরুল ইসলাম নজরুল। #















