নিজস্ব প্রতিবেদক: ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, বিগত আওয়ামী শাসনামলে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন চালানো সেই ‘হেলমেট বাহিনী’ এখন ‘গুপ্ত বাহিনীতে’ রূপান্তর হয়েছে। তারাই বর্তমানে দেশে মব (উচ্ছৃঙ্খল জনতা) সৃষ্টি করে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে।
শুক্রবার দুপুরে রাজশাহীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে জেলা বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিনু অভিযোগ করেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার পতনের পর সেই হেলমেট বাহিনীর সদস্যরা এখন গুপ্ত বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। দেশের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির পেছনে তাদের হাত রয়েছে।
তিনি বলেন, “স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন। আমাদের ঘোষণা সবার আগে বাংলাদেশ। আমরা কোনো ‘প্রভু’ নয়, বরং ‘বন্ধুত্বে’ বিশ্বাস করি। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষই আমাদের মূল শক্তি।”
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিএনপি কোনো মন্ত্রী, এমপি বা মেয়রের দল নয়; এটি সম্পূর্ণভাবে কর্মীদের দল। কর্মীরাই এই দলের প্রাণশক্তি।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের খাস জমি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে অনেক খাস জায়গা রয়েছে। আমরা চাইলে সেসব দখল করে অফিস করতে পারতাম। কিন্তু বিএনপি দখলবাজিতে বিশ্বাস করে না। আমরা দলের মহাসচিবের নামে জায়গা কিনে বৈধভাবে স্থায়ী অফিস নির্মাণ করব।”
পবা-মোহনপুরের সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন তার বক্তব্যে বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো ধরনের ধৃষ্টতা মেনে নেওয়া হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন এমপি।
তিনি বলেন, যারা দিল্লি বা পিন্ডির স্বপ্ন দেখেন, তাদের এখনই সাবধান হওয়া উচিত। বাংলাদেশের মানুষ কারও কাছে মাথা নত করবে না, বরং সবার চোখে চোখ রেখে মাথা উঁচু করে দেশ পরিচালনা করবে।
তিনি বলেন, দেশবাসীর প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা যারা বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ, ইসলামী মূল্যবোধ এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী, তারা স্বৈরাচারের দোসরদের সাবধান করে দিতে চাই। দেশের মানুষ দেশ রক্ষার জন্য অতীতের মতো আবারো সুদৃঢ়ভাবে মাঠে নামবে না, এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই।”
আলোচনা সভায় তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অবদানের কথা স্মরণ করে তাদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, “সেদিন তারা যেভাবে নির্বিচারে হত্যার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, তার ফলেই স্বাধীনতা সম্ভব হয়েছিল। বাংলাদেশে দেশপ্রেমিকের কোনো অভাব নেই।”
পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “আমাদের সমস্ত দেশের সাথে বন্ধুত্ব থাকবে, কিন্তু কোনো প্রভু থাকবে না। কেউ আমাদের চোখ রাঙাতে পারবে না।”
দেশপ্রেমের চেতনায় বলীয়ান এবং দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এমপি মিলন।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদের সভাপতিত্বতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম মার্শাল।
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক বিশ্বনাথ সরকার।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য দেবাশীষ রায় মধু। জেলা বিএনপির সদস্য সৈয়দ মোহাম্মদ মহসিন প্রমূখ্য।
সংবাদ প্রেরক বিটিসি নিউজ এর নিজস্ব প্রতিনিধি ইফতেখার আলম (বিশাল) / রাজশাহী। #















