বিটিসি আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় কিউবার রাজনৈতিক ব্যবস্থা কিংবা প্রেসিডেন্টের মেয়াদের মতো বিষয়গুলো কোনোভাবেই আলোচনার টেবিলে স্থান পাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে হাভানা।
শুক্রবার (২০ মার্চ) ওয়াশিংটন কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেলকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে এমন খবরের প্রেক্ষাপটে কিউবা এই কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে।
কিউবার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্লোস ফার্নান্দেজ ডি কসিও এক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করেছেন, কিউবার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কাঠামো বা কোনো সরকারি কর্মকর্তার পদমর্যাদা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা করার কোনো সুযোগ নেই। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত তেল অবরোধের ফলে কিউবা চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়লেও তারা সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপস করতে রাজি নয়।
প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল বর্তমানে কিউবার ওপর সম্ভাব্য মার্কিন ‘আগ্রাসন’ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। হাভানায় মানবিক সহায়তা নিয়ে আসা বিদেশি কর্মীদের একটি দলের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন যে, কিউবা কেবল হাত গুটিয়ে বসে নেই, বরং যেকোনো ধরনের বাহ্যিক আক্রমণ প্রতিহত করতে তারা ‘অভেদ্য প্রতিরোধ’ গড়ে তুলতে প্রস্তুত।
উল্লেখ্য, ইউএসএ টুডে এবং নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হয়েছে যে, ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার সঙ্গে একটি অর্থনৈতিক চুক্তির প্রস্তাব দিচ্ছে যেখানে বাণিজ্য বিধিনিষেধ শিথিলের বিনিময়ে মিগুয়েল দিয়াজ-কানেলের পদত্যাগ নিশ্চিত করার শর্ত রাখা হয়েছে। তবে এই প্রস্তাবে ফিদেল ও রাউল কাস্ত্রোর পরিবারের সদস্যদের প্রভাব অক্ষুণ্ণ রাখার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাবটি অনেকটা ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর যুক্তরাষ্ট্র সেখানে কোনো বিরোধী দলীয় সরকারকে বসানোর পরিবর্তে তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে সহযোগিতা করছে।
কিউবার ক্ষেত্রেও ওয়াশিংটন হয়তো একই ধরনের কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ খুঁজছে। তবে কিউবার শাসনব্যবস্থা বর্তমানে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত না থেকে কমিউনিস্ট পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা, সরকারি কর্মকর্তা এবং সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে বিস্তৃত। ২০১৮ সালে দায়িত্ব নেওয়া ৬৫ বছর বয়সী দিয়াজ-কানেলের ক্ষমতা অপসারণের এই মার্কিন চেষ্টা কিউবান কর্তৃপক্ষ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে।
উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডি কসিও দুই দেশের মধ্যে আলোচনার স্থান বা সময় নিয়ে বিস্তারিত কিছু না জানালেও তিনি উল্লেখ করেছেন যে, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এর মধ্যে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অবরোধের ফলে সৃষ্ট ক্ষতিপূরণ এবং ১৯৫৯ সালের বিপ্লবের পর কিউবায় জাতীয়করণ হওয়া মার্কিন নাগরিকদের সম্পদের দাবির মতো জটিল বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ডি কসিও মনে করেন, এসব বৈধ ও জটিল সমস্যার সমাধানের জন্য সংলাপ প্রয়োজন, কিন্তু সেটি কোনোভাবেই দেশের রাজনৈতিক আদর্শ বা নেতৃত্বের পরিবর্তনের শর্তে হতে পারে না। বর্তমানে হাভানা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে এই স্নায়ুযুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে চলা ইরান যুদ্ধের আবহে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। #















