কুমিল্লা ব্যুরো: কুমিল্লার একটি লেভেল ক্রসিংয়ে ট্রেন ও বাসের সংঘর্ষে ১২ জন নিহতের ঘটনায় দায়িত্বে থাকা দুই গেটম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা বিটিসি নিউজকে জানান, এ ঘটনায় রেলওয়ের পক্ষ থেকে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলাদা একটি তদন্ত কমিটিও করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. রেজা হাসান।

তদন্ত কমিটিগুলোকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
ঈদের দিন শনিবার ভোররাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ারবাজার লেভেল ক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ‘ঢাকা মেইল’ ট্রেনটি ক্রসিং অতিক্রম করার সময় চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরগামী একটি যাত্রীবাহী বাস রেললাইনে উঠে পড়লে সংঘর্ষ হয়।
ঘটনাস্থলেই অন্তত ১২ জন প্রাণ হারান এবং আরও আটজন আহত হন। দুর্ঘটনার পর ট্রেনটি বাসটিকে প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়, ফলে বাসটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

দুর্ঘটনার সময় ক্রসিংয়ে দায়িত্বে থাকা গেটম্যান মেহেদী ও হেলালকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
আহতদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার অজয় ভৌমিক জানিয়েছেন, অধিকাংশ আহতের মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে এবং তাদের মধ্যে দুজনকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া অপেক্ষাকৃত কম আহত ১৮ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

দুর্ঘটনার প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর আখাউড়া থেকে একটি উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। সকাল ১০টার দিকে বাসটি রেললাইন থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ শুরু হয়।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, গেটম্যানের অবহেলার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
সংবাদ প্রেরক বিটিসি নিউজ এর কুমিল্লা ব্যুরো প্রধান আব্দুল্লাহ আল মানছুর। #















