নবীগঞ্জ প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ জেলার সবচেয়ে আলোচিত আসন হিসেবে উঠে এসেছে হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল)। এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া ও দলের বিদ্রোহী প্রার্থী স্বতন্ত্র থেকে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়া। এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় শেখ সুজাত মিয়াকে ইতিমধ্যে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হলেও মাঠে তার অবস্থানের ব্যাপক সারা পাওয়া যাচ্ছে।
অপরদিকে, সদ্য বিএনপিতে যোগ দিয়েই দলীয় মনোনয়ন পাওয়ায় শুরু থেকেই সারা দেশে আলোচনার তুঙ্গে রয়েছেন ড. রেজা কিবরিয়া। প্রবাসী অধ্যুষিত এই আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে লড়ছেন।
বিএনপির প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া ছাড়াও আলোচনায় রয়েছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মাওলানা সিরাজুল ইসলাম মিরপুরী, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মদ বদরুর রেজা এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) এর প্রার্থী কাজী তোফায়েল আহমেদ।
তবে ভোটের মাঠে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া ও বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়ার মধ্যে।
হবিগঞ্জ জেলার ৪টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে হবিগঞ্জ-১ আসনকে ঘিরেই। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই সরগরম হয়ে উঠছে নির্বাচনী মাঠ। প্রতিদিন কাক ডাকা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সভা-সমাবেশ, গণসংযোগ ও নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থীরা।
তবে বিএনপির দলীয় ও বিদ্রোহী দুই প্রার্থীর কারণে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, এবং ভোটারদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। পদ হারানোর আশঙ্কায় অনেক নেতা প্রকাশ্যে ড. রেজার পক্ষে মাঠে থাকলেও তৃণমূল পর্যায়ে অনেক কর্মীকে দেখা যাচ্ছে শেখ সুজাতের সঙ্গে কাজ করতে।
এতে করে ভোটের মাঠে অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনা আরও বাড়ছে বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা।
স্থানীয় ভোটারদের মতে, ধানের শীষের প্রার্থীর বিপরীতে অন্য কোনো বড় দলের শক্তিশালী প্রার্থী না থাকলেও নিজ দলের বিদ্রোহী শেখ সুজাতই এখন রেজার জন্য গলার কাটা।নির্বাচনের শুরুতে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে শেখ সুজাত মিয়া নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন—এমন গুঞ্জন থাকলেও শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত তিনি তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি।
এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে আসন্ন নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন বলে ঘোষণা দেন।
জামায়াত ইসলামী সমর্থীত প্রার্থী শাহজাহান আলী শেষ মুহূর্তে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ায় জামায়াতপন্থী কিছু ভোট শেখ সুজাতের দিকে যেতে পারে এমন ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন সাধারণ ভোটার ও তরুণরাই জয়-পরাজয়ে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
রাজনৈতিক জীবনে শেখ সুজাত মিয়া ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সংসদে যান। এরপর ২০১১ সালে আওয়ামীলীগের সাংসদ দেওয়ান ফরিদ গাজীর মৃত্যুর পর উপ-নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হোন।
এবার তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এ আসনে নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছেন।
অন্যদিকে, ড. রেজা কিবরিয়া ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সমর্থিত এবং গণফোরাম মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার পুত্র হওয়ায় রয়েছে ব্যক্তিগত ইমেজ, তাছাড়া এলাকায় উনার পারিবারিক জনভিত্তি রয়েছে।
হবিগঞ্জ-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬৬ হাজার ৯২১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৬ হাজার ৫৭৬ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৩০ হাজার ৩৪০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৫ জন।
সব মিলিয়ে প্রভাবশালী দুই নেতার মুখোমুখি অবস্থানে হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনের নির্বাচনী লড়াই জেলার মধ্যে সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন এই আসনটি ফলাফল পেতে ভোট গণনার শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত ভোটারদের মুখিয়ে থাকতে হবে।
সংবাদ প্রেরক বিটিসি নিউজ এর নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি মো: আলাল মিয়া। #

