বিটিসি আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রবল তুষারপাত ও ভারি বর্ষণের কবলে পড়ে গত তিন দিনে আফগানিস্তানে অন্তত ৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এএনডিএমএ) জানিয়েছে, বুধবার (২১ জানুয়ারি) থেকে শুক্রবার পর্যন্ত মধ্য ও উত্তরাঞ্চলের প্রদেশগুলোতে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে ১১০ জন আহত হওয়ার পাশাপাশি ৪৫৮টি ঘরবাড়ি আংশিক বা পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে।
এবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নিহতদের বেশিরভাগই বাড়িঘরের ছাদ ধসে এবং তুষারপাতের কবলে পড়ে মারা গেছেন। এছাড়া হিমাঙ্কের নিচে নেমে যাওয়া তাপমাত্রায় ফ্রস্টবাইট বা ‘ঠাণ্ডার কামড়ে’ অনেকের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
দুর্যোগের কারণে আফগানিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ সালাং মহাসড়কসহ বেশ কিছু প্রধান সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোর সঙ্গে কাবুলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পারওয়ান প্রদেশের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজ ও যাতায়াত মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
এছাড়া উজবেকিস্তান থেকে আমদানিকৃত বিদ্যুতের একটি প্রধান ট্রান্সমিশন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রাজধানী কাবুলসহ প্রায় ১২টি প্রদেশ বর্তমানে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে। আফগানিস্তানের রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি ডিএবিএস জানিয়েছে, প্রকৌশলী দল প্রস্তুত থাকলেও তুষারপাতের কারণে রাস্তা বন্ধ থাকায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছাতে পারছে না।
আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ কান্দাহারেও বৃষ্টির তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় জরুরি বিভাগের তথ্যমতে, গত বুধবার প্রবল বাতাস ও বৃষ্টির সময় একটি বাড়ির ছাদ ধসে ছয়টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
তুষারপাতের ফলে অনেক গবাদিপশু মারা গেছে এবং অসংখ্য দোকানপাট ধসে পড়েছে। বামিয়াং প্রদেশের পাহাড়ি পথে আটকা পড়া পর্যটক ও বাসিন্দাদের কাছে জরুরি খাবার পৌঁছে দিচ্ছে উদ্ধারকারী দল। এএনডিএমএ-র এক মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাসিন্দাদের জরুরি প্রয়োজন ছাড়া তুষারাবৃত সড়কে যাতায়াত না করার জন্য বিশেষভাবে পরামর্শ দিয়েছেন।
দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত আফগানিস্তানের জন্য এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ এক নতুন মানবিক বিপর্যয় ডেকে এনেছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশটির ৪ কোটি জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকেরই জরুরি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন হবে।
যদিও তুষারপাত দেশটির কৃষির জন্য আশীর্বাদ হতে পারত, কিন্তু পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাবে তা এখন প্রাণঘাতী সংকটে রূপ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক সহায়তার পরিমাণ দিন দিন কমে আসায় এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা জান্তা সরকারের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। #

















