বিটিসি আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সামরিক হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে আসেননি বরং তিনি তার সহযোগীদের তেহরানে একটি ‘চূড়ান্ত হামলার’ প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এর আগে ট্রাম্প ইরানে হামলার প্রস্তুতি স্থগিত রাখার কথা বললেও এখন তিনি নতুন ও সুনির্দিষ্ট সামরিক পরিকল্পনা বা ‘অপশন’ দেওয়ার জন্য হোয়াইট হাউস ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে তাগিদ দিচ্ছেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, আলোচনার সময় ট্রাম্প এই সম্ভাব্য অভিযানকে কয়েকবার ‘চূড়ান্ত হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের নির্দেশ পাওয়ার পর হোয়াইট হাউস এবং পেন্টাগন ইতিমধ্যে বেশ কিছু সামরিক কৌশল তৈরি করেছে। এই পরিকল্পনার মধ্যে কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা নয়, বরং ইরানের বর্তমান সরকার পতনের ছকও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এছাড়া বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোতে সীমিত আকারে আকাশপথে হামলার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত কোন পথটি বেছে নেবেন তা এখনো নিশ্চিত না হলেও, তার রণংদেহী অবস্থান স্পষ্ট।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তজনার মধ্যেই ক্যারিবীয় অঞ্চলে মোতায়েন থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ও অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানগুলো এখন ওই অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হতে শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, এই সামরিক সরঞ্জামগুলো ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের লক্ষ্যে ক্যারিবীয় সাগরে মোতায়েন করা হয়েছিল, যেখান থেকে এখন সেগুলোকে ইরানের কাছাকাছি অবস্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক তৎপরতাকে তেহরানের ওপর মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত চাপ তৈরির অংশ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এই সম্ভাব্য হামলার হুমকির কড়া জবাব দিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, এবার যদি যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের হামলা চালায়, তবে ইরান পাল্টা আক্রমণের ক্ষেত্রে কোনো সীমাবদ্ধতা রাখবে না।
অর্থাৎ হামলার সঙ্গে সঙ্গেই কোনো ধরনের সংযত আচরণ ছাড়াই ইরান সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করবে। এই পাল্টাপাল্টি হুমকির ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি চরম আকার ধারণ করেছে এবং বিশ্ব রাজনীতিতে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। #















