BTC News | বিটিসি নিউজ

আজ- বুধবার, ২১শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২রা শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

আজ- ২১শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাংলাদেশে বেগম জিয়ার নাম আজীবন স্বর্ণাক্ষরে লিখা থাকবে : মিলন

বাংলাদেশে বেগম জিয়ার নাম আজীবন স্বর্ণাক্ষরে লিখা থাকবে : মিলন

নিজস্ব প্রতিবেদক: দলের এবং বিএনপির চেয়ারম্যান ও পবাবাসীর হয়ে তিনি সালাম জানিয়ে বক্তব্য শুরু করেন। তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এমন একজন মহিয়সী নারী ছিলেন। যার জন্য দেশবাসী কাঁদছে। তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় সারাদেশের কোথাও না কোথাও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেই মহিয়সী নারী এমন কোন নির্যাতন নাই তিনি সহ্য করেননি। এমন কোন অত্যাচার নাই যে তাঁকে করা হয়নি। তিনি অল্প বয়সে স্বামীহারা হয়েছিলেন। এরপর কনিষ্ঠপুত্রকে হারিয়েছেন।

এই মহিয়সী নারীর নাম বাংলাদেশের ইতিহাসে আজীবন স্বর্ণাক্ষরে লিখা থাকবে বলে রোববার বিকেলে তিনবারের সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দামকুড়া ইউনিয়নের সকল স্তরের জনগণের আয়োজনে হাজী বাদল উদ্দীন হাফেজিয়া মাদ্রাসার মোড়, কাদিপুর তাফসীর মাঠে দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং পবা-মোহনপুরের বিএনপি মনোনিত ধানের শীষের প্রার্থী এডভোকেট শফিকুল হক মিলন এসব কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ১৯৪৫ সালে তিনি জন্ম গ্রহন করেছিলেন। আর ১৯৬০ সালে তাঁর মেজর জিয়াউর রহমানের সাথে মাত্র পনের বছল বয়সে বিয়ে হয়েছিলো। আর ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হয় তখন তার বয়স ছিলো মাত্র বিশ বছর। সে সময়ে মেজর জিয়াউর রহমান পাকিস্তানের হয়ে ভারতের বিপক্ষে যুদ্ধে অবতীর্ন হয়েছিলেন। সেই যুদ্ধে ভারত পরাজিত হয়েছিলো। সেনা সদস্য যাদের বাড়িতে আছে, আর সেই সদস্য যদি যুদ্ধে যায় তাহলে ঐ পরিবারের সদস্যদের অবস্থাটা কি হয় তা ঐ পরিবারের সদস্যরাই জানেন। বেগম জিয়া তখন থেকেই তিনি নিজেকে প্রস্তুত করেছিলেন। মাত্র বিশ বছর বয়সে তিনি কঠিন সময় পার করেছেন। একজন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তা যদি সেই দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করেন। তাহলে সেই সদস্যর কি অবস্থা হতে পারে তা সবাই অনুমান করতে পারে।

বেগম জিয়া সেই যৌবন বসয়ে জীবন সংগ্রামে নেমে গিয়েছিলেন। তিনি সে সময়ে বিবিসির এক সাক্ষাতকারে বলেছিলেন তাঁকে সংসার খরচ করার জন্য মাত্র দুই হাজার করে টাকা দেয়া হতো। ঐ টাকা দিয়ে তিনি সংসার চালাতেন। কারন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন সততার প্রতিক। আর তাঁর দুই সন্তান বাবার পুরাতন প্যান্ট কেটে হাফপ্যান্ট বানিয়ে পড়তেন বলে জানান তিনি। তাঁর জীবদ্দশায় অন্যান্য নারীরা যেভাবে সংস্রা চালাতো তাঁকেও সেভাবে চালাতে হয়েছে।

এরপর ১৯৭১ সালে শুরু হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ। এই যুদ্ধে অংশগ্রহন ও পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে বাঁচাতে মেজর জিয়াউর রহমান পূর্ব পাকিস্তানে চলে আসেন। এরপর তিনি কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। নিজ দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করেছিলেন। একজন সামরিক সদস্য যদি তার দেশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন তাহলে সে দেশ তাঁকে কি বলে আখ্যাদেয় তা সবাই জানে। সে অবস্থাতেই বেগম জিয়া চট্টগ্রামকে নিরাপদ মনে না করে সেখান থেকে জাহাজে করে ঢাকাতে চলে আসেন। সেখান থেকে তিনি তাঁর দুই সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় পৌঁছালে পাকিস্তানী বাহিনীর নিকট তাঁরা আটক হন। তাঁর স্ত্রী হয়ে তিনি দীর্ঘ নয়মাস সেখানে তিনি আটক ছিলেন। সেখানে তাঁকে অনেক নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। তবৃুও তিনি দমে যাননি। সেখান নিজেকে আরো দৃঢ়চিত্তের করে গড়ে তুলেছিলেন বলে জানান মিলন।

বেগম জিয়া দীর্ঘ নয়মাস অনেক কষ্ট করেছেন। সেজন্য তিনিও একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাঁকে যেভাবে কিভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এরপর প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানেক ১৯৮১ সালের ৩০ মে হত্যা করা হয়েছিলো। সে সময়ে বিএনপির অবস্থা অত্যন্ত খারাপের দিকে ধাবিত হচ্ছিল। এ অবস্থায় পার্টির অন্যান্য সদস্যদের অনুরোধে দলকে এবং দেশের মানুষকে বাঁচাতে দলের হাল ধরেছিলেন। প্রথমে তিনি সহ-সভাপতি হয়েছিলেন। পরে তিনি চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হন সেইথেকে তিনি দীর্ঘ ৪১ বছর একই পদে ছিলেন তিনি। তিনি এরপর স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন। সে সময়ে তিনি অনেক নির্যাতন সহ্য করেছেন। কারাবরণ করেছেন। কিন্তু অন্যায়ের সাথে তিনি আপোস করেননি। অন্য দলের মত বেইমানী ও মেনাফেকী করেননি। এজন্য তিনি আপোসহীন নেত্রী হিসেবে খেতাব পেয়েছিলে।

মিলন বলেন, এই স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে তিনি সফল হন। তিনি কোন উপনিবেশিক শত্রুর নিকট কোন মাথানত করেননি। এরপর ১৯৯১ সালে নির্বাচন হলে জনগণ তাঁকে ভোট দিয়ে সংসদ সদস্য নির্চাচিত করে। সেইসাথে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহন করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়ে প্রেসিডেন্সি প্রথা বিলুপ্তি করে সংসদীয় প্রথা চালু করেন। প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় তিনি তাঁর স্বামীর রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার জন্য আপ্রান চেষ্টা করে গেছেন। তিনি মেয়েদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সুবিধার্থে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি আলেম ওলামাদের ভালবাসতেন। তিনি প্রথমে পঞ্চল শ্রেণি, পরে দ্বাদশ পর্যন্ত অবৈতিনক করেছিলেন। তিনি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে তিনি শহীদ জিয়ার ১৯দফা বাস্তবায়নে কাজ করে গেছেন।

তিনি বলেন বেগম জিয়ার স্মৃতি বিজরীত বসত ভিটা উচ্ছেদ করা হয়েছিলো। এমনকি বুল্ডরোজার দিয়ে তাঁর বাড়ি মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া হয়েছিলো। তাঁর কারাগার কক্ষে ইঁদুর ও তেলাপোকা ছেড়ে দেয়া হয়েছিলো। শত নির্যাতন করেও তিনি তিনি দেশের মানুষকে ও দেশকে বাঁচাতে একটি স্লোগান দিয়েছিলেন দেশ বাঁচাও,দেশের মানুষ বাঁচাও বলে উল্লেখ করেন তিনি। সেখানেই তাঁর অবস্থার অবনতি হয়। এরপর সেখান থেকে পিজি হাসপাতালে নেয়া হয় চিকিৎসা প্রদানের জন্য। কিন্তু সেখানে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের যেতে দেয়া হয়নি। বিদেশে গুরুতর অসুস্থ হলেও তিনি দেশের বাহিরে যেয়ে চিকিৎসা করার অনুমতি পাননি। এরপর প্রায়ই ঢাকার এভার কেয়ার হাসপাতালে যাতায়াত করতেন। কিন্তু হেয়ে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর দেশের মানুষকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন বেগম খালেদা জিয়া।

তিনি বলেন, তাঁর মৃত্যু সবাইকে একতাবদ্ধ হতে শিখিয়ে গেছে। কারণ তাঁর জানাযায় বিশ্বের ২৬টি রাষ্ট্র থেকে নেতৃবৃন্দ এসেছিলেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পরে বিশ্বে এমন কোন নেতার জানাযায় এত লোক হয়নি বলে জানান তিনি। দেশে তাঁকে সর্বোচ্চ সম্মান দেয়া হয়েছে। আল্লাহ কাউকে সম্মান দিলে কেই তা কেড়ে নিতে পারেনা। জানাযায় দেশের সমস্ত আলেম ওলামা তাঁর খাটিয়া ধরে নিয়ে গিয়েছিলো। তাঁকে জানাযা শেষে তাঁর স্বামীর পাশে জিয়া উদ্যোনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশেই তাঁকে দাফন করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বেগম জিয়া, আরাফাত রহমান কোকো, জুলাই যুদ্ধে সকল শহীদ ও দীর্ঘ সতের বছরে স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সকল মৃত মুসলিম ব্যক্তির আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। সেইসাথে যারা অসুস্থ আছেন তাদের সুস্থতা কামনা করে আসছে নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে সবাইকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন। বক্তব্য শেষে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন দামকুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এনামুল হক কনক। সদস্য সচিব নওশাদ আলীর তত্বাবধানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য, নওহাটা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও পৌর সাবেক মেয়র শেখ মকবুল হোসেন, জেলা বিএনপির সদস্য শাজাহান আলী, জেলা বিএনপির সদস্য ও পবা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল হালিম, পবা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মোজাদ্দেদ জামানী সুমন, পবা উপজেলা যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তাইজুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল রানা, রেজাউল করিম ও সিরাজুল ইসলামসহ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী, সাধারণ জনগণ ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। #

এইরকম আরও খবর

সর্বশেষ খবর

ব্রেকিং নিউজ
এবার ভোট গণনায় দেরি হতে পারে : প্রেস সচিব এবারের নির্বাচন ভবিষ্যতের জন্য আদর্শ তৈরি করবে : প্রধান উপদেষ্টা বেগম জিয়াকে দেশে সর্বোচ্চ সম্মানীত একজন নারী : মিলন ১২ ফেব্রুয়ারি ৩০০ আসনেই নির্বাচন, আজ রাত থেকে শুরু ব্যালট ছাপা : প্রেস সচিব নির্বাচনকে সামনে রেখে পরীক্ষা শুরু হলো, ১২ ফেব্রুয়ারি হবে ফাইনাল : প্রধান উপদেষ্টা বিএনপি নেতাকর্মীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আরো সক্রিয় হতে হবে – দুলু চাঁপাইনবাবগঞ্জে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীরমুক্তিযোদ্ধার মরদেহ দাফন জেলার শিবগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতে মসলা ব্যবসায়ীকে অর্থদন্ড রাজশাহীতে আরএমপির মাদকবিরোধী অভিযানে ৪ জন গ্রেপ্তার; হেরোইন, চোলাই মদ, ট্যাপেন্টাডল ও ইয়াবা উদ্ধার আটোয়ারী সরকারি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ