বিটিসি আন্তর্জাতিক ডেস্ক: থাইল্যান্ডে মাত্র এক দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো ভয়াবহ ক্রেন দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ব্যাংককের উপকণ্ঠ সামুত সাখোন এলাকায় একটি এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ চলাকালীন বিশালাকৃতির একটি ক্রেন মহাসড়কের ওপর ভেঙে পড়ে অন্তত ২ জন নিহত হয়েছেন।
এর মাত্র এক দিন আগে দেশটির নাখোন রাটচাসিমা প্রদেশে অন্য একটি ক্রেন দুর্ঘটনায় ২২ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল। পরপর দুই দিনে একই ধরনের ঘটনায় দেশটিতে নির্মাণ নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
সামুত সাখোন এলাকায় ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনার ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ক্রেনটি সরাসরি চলন্ত মহাসড়কের ওপর আছড়ে পড়ে কয়েকটি গাড়িকে দুমড়েমুচড়ে দেয়। এর ফলে চারদিকে ধুলোবালি ও ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে।
অন্যদিকে, বুধবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে একটি ক্রেন চলন্ত ট্রেনের ওপর ভেঙে পড়ার ঘটনায় ৬০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছিলেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই দুটি ভয়াবহ দুর্ঘটনাই ঘটেছে থাইল্যান্ডের অন্যতম বৃহৎ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ‘ইটালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট’ কোম্পানির অধীনে। কোম্পানিটির নির্মাণ নিরাপত্তা ও গাফিলতি নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতে নির্মাণাধীন সাইটে দুর্ঘটনার ঘটনা অত্যন্ত সাধারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার পেছনে দুর্বল নিরাপত্তা মানদণ্ড ও আইনের শিথিল প্রয়োগকে দায়ী করা হচ্ছে। গত সাত বছরে ব্যাংকক থেকে দেশের দক্ষিণাঞ্চল পর্যন্ত একটি রাস্তা উন্নয়ন প্রকল্পে অন্তত ১৫০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার যেখানে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সেই এক্সপ্রেসওয়েটি গত কয়েক বছরের অসংখ্য দুর্ঘটনার কারণে স্থানীয়ভাবে ‘মৃত্যু সড়ক’ বা ‘ডেথ রোড’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। গত বছরের মার্চে ভূমিকম্পের সময় ব্যাংককের একটি আকাশচুম্বী ভবন ধসে পড়ার পেছনেও এই একই কোম্পানি দায়বদ্ধ ছিল বলে জানা গেছে।
এই ধারাবাহিক দুর্ঘটনার পর থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল জানিয়েছেন, তিনি নির্মাণকাজে ‘অবহেলা’র বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
ইতিমধ্যে স্টেট রেলওয়ে অব থাইল্যান্ড ঘোষণা করেছে যে তারা ইটালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছে। বারবার বড় ধরনের জীবনহানির পরেও একই কোম্পানির অধীনে এমন অনিরাপদ নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাওয়া নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির সাধারণ নাগরিক ও অধিকার কর্মীরা এখন দায়ীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন। #















