বিটিসি বিনোদন ডেস্ক: সময়টা ছিল ২০০৬ কিংবা ২০০৭ সাল। অমিতাভ রেজা চৌধুরী পরিচালিত এসিআই এরোসল-এর একটি বিজ্ঞাপন তখন দর্শকের চোখে বেশ আলাদা করে ধরা দিয়েছিল।
বিজ্ঞাপনটির গল্পে দেখা যায়—মশার উৎপাত এতটাই বেড়েছে যে তারা বইয়ের পাতায় আঁকা অলঙ্করণ ও লেখার ভেতরেও ঢুকে পড়ছে। এসিআই এরোসল ব্যবহার করতেই সেই মশাগুলো কাগজের স্কেচ থেকে উড়ে যায়, যেন মুছে গেল।
সে সময় এই বিজ্ঞাপনের স্পেশাল ইফেক্ট দর্শকের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছিল।
ওই বিজ্ঞাপনটিতে বই পড়তে থাকা ছোট্ট মেয়েটিই আজকের সাদনিমা বিনতে নোমান। শিশুশিল্পী হিসেবে এটিই ছিল তাঁর প্রথম কাজ। এরপর গ্রামীণফোন, প্রাণসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনে নিয়মিত দেখা গেছে তাঁকে।
তবে কিছু সময় পর অভিনয় থেকে দীর্ঘ বিরতি নেন তিনি।
শিক্ষাজীবনে সাদনিমা রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শেষ করেন। পরে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে যোগ দেন। কিন্তু অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা তাঁকে বেশিদিন দূরে থাকতে দেয়নি।
তাই আবারও ক্যামেরার সামনে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।
গত বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালের ভালোবাসা দিবসে ‘মনেরই রঙে রাঙিয়ে’ নাটকের মাধ্যমে তাঁর অভিনয়ে পুনরাগমন ঘটে। সেখানে ‘জুঁই’ চরিত্রে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করলেও তাঁর কাজ নজরে পড়ে নির্মাতা পার্থ সরকারের।
সেই সূত্রেই তিনি ‘গোল্ডফিশ’ নাটকে প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান।
এরপর প্রায় ছয়টি নাটকে কাজ করলেও সেগুলো এখনো প্রচারে আসেনি।
এরই মধ্যে গত বছরের অক্টোবরে মুক্তি পায় তাঁর প্রথম ওয়েব ফিল্ম ‘লিটল মিস ক্যাওস’, যা অন্তর্জালে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং তাঁকে নতুন করে পরিচিতি এনে দেয়।
বর্তমানে সাদনিমা আরো প্রায় হাফ ডজন নাটকের শুটিং শেষ করেছেন। নিয়মিতই পাচ্ছেন নতুন কাজের প্রস্তাব।
তবে ‘যা পাচ্ছি তাতেই সায় দেব’— এই মানসিকতায় বিশ্বাসী নন তিনি। ভালো গল্প ও চরিত্র না হলে কাজ করতে রাজি হন না। তাই বেছে বেছে এগোচ্ছেন নিজের পথচলায়।
কালের কণ্ঠকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাদনিমা বিনতে নোমান বলেন, “শিশুশিল্পী হিসেবেই শোবিজে আমার আগমন। এসিআই এরোসলের বিজ্ঞাপনটি তখন খুব জনপ্রিয় হয়েছিল। এরপর পড়াশোনার জন্য অনেকদিন কাজ করা হয়নি। বিরতির পর আবার অভিনয়ে ফিরি।
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে নাটকে অভিষেক হয়। সাত-আট মাসে প্রায় ছয়টি কাজ করলেও মাত্র একটি নাটকই রিলিজ হয়েছে। বাকিগুলোর ব্যাপারে আমিও কিছু জানি না। তবে ওয়েব ফিল্মটা করে দর্শকদের কাছ থেকে অনেক ভালোবাসা পেয়েছি।”
ওয়েব ফিল্মটির পর আরও প্রায় সাতটি নাটকের শুটিং শেষ করেছেন তিনি। সেগুলো আসন্ন ঈদে মুক্তি পেতে পারে বলে জানান সাদনিমা।
কাজ বাছাইয়ের বিষয়ে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট। তিনি বলেন, “প্রস্তাব অনেক আসে, কিন্তু কোয়ালিটিফুল কাজ না হলে যুক্ত হতে চাই না। কম কাজ করব, কিন্তু ভালো কাজ করব— এই জায়গায় কোনো কম্প্রোমাইজ নেই। আমার কোনো তাড়াহুড়া নেই, ধীরেসুস্থেই এগোতে চাই।”
এখন পর্যন্ত তাঁর অভিনীত কাজগুলোতে সাদনিমার বিপরীতে দেখা গেছে খায়রুল বাসার, সাদ নাওভি ও পার্থ শেখকে। তবে ভবিষ্যতে সিনিয়র শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছার কথাও জানান তিনি।
বর্তমানে নাটকের ব্যস্ত অভিনেতা ফারহান আহমেদ জোভান, তৌসিফ মাহবুব, ইয়াশ রোহান বা ইরফান সাজ্জাদদের সঙ্গে এখনো কাজের সুযোগ হয়নি তাঁর।
এ বিষয়ে সাদনিমার মন্তব্য, “আমি তো কাজ করতে চাই। সিনিয়রদের সঙ্গে কাজ করলে শেখার সুযোগ বেশি থাকে। কিন্তু তাঁদের কারো কাছ থেকে এখনো কোনো প্রস্তাব আসেনি।”
এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, “হয়তো নিজেকে সেভাবে হাইলাইট করতে পারিনি, কিংবা আমাকে হয়তো তারা চেনেন না। এছাড়া আমার তো কাজ খুব বেশি রিলিজ হয়নি যেটা দেখে তাদের আমাকে কোয়ালিফাইড মনে হতে পারে। তাঁদের নজরে পড়ার মতো কিছু এখনো করতে পারিনি।”
চাকরির পাশাপাশি অভিনয় করায় শুধু উইকেন্ডেই সময় দিতে পারেন সাদনিমা। সে হিসেবে মাসে চারটি কাজই তাঁর জন্য যথেষ্ট। তবে বিশেষ কোনো প্রজেক্ট বা ভালো গল্প হলে সময় ম্যানেজ করে কাজ করার চেষ্টা করেন।
নতুন বছর শুরু হলেও বিশেষ কোনো বড় পরিকল্পনা নেই তাঁর। এই ধীর গতিতেই এগোতে চান। গেল সপ্তাহেই সাদ নাওভির সঙ্গে জুটি বেঁধে একটি নতুন নাটকের শুটিং শেষ করেছেন সাদনিমা। আপাতত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাঁর শিডিউল নেই। #















