নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থেকে সদ্য চেয়ারম্যান এর দায়িত্ব নিয়েছেন তারেক রহমান। তিনি দীর্ঘ সতের বছর লল্ডনে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন। তিনি দেশে এসেই আবার সবাইকে মনে করে দিয়েছেন কোন প্রতিহিংসা নয়। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে একসাথে আগামীর বাংলাদেশ গড়তে হবে। এবিষয়ে তিনি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলে রোববার দুপুরে পবা উপজেলা দলিল লেখক সমিতির আয়োজনে বিএনপি সাবেক চেয়ারপার্সন বেগম তিনবারের সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং পবা-মোহনপুরের বিএনপি মনোনিত ধানের শীষের প্রার্থী এডভোকেট শফিকুল হক মিলন এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শিখিয়ে গেছেন কিভাবে সবাইকে এক কাতারে আনা যায়। বেগম জিয়াকে পতিত সরকার শত চেষ্টা করেও দেশ থেকে বিতারিত করতে পারেনি। কারণ তিনি বলতেন এ দেশ ছাড়া তাঁর কোথাও কিছু নাই। বেগম জিয়া ছিলেন একজন সাধারণ গৃহিনী। ১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হত্যার পরে সবার অনুরোধে তিনি ১৯৮২ সালে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। প্রবেশ করেই তিনি দলের হাল ধরেন। প্রথমে তিনি সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এবং পরে সিনিয়র চেয়ারপার্সন হন।
তিনি আরো বলেন, বেগম জিয়া সাবেক স্বৈরশাসক হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদকে আন্দোলন করে ক্ষমতাচ্যুত করেন। এ সময়ে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা ও জামায়াতের আমির গোলাম আজম বেইমানী ও মোনাফেকী করে এরশাদের সাথে নির্বাচনে অংশগ্রহন করে। কিন্তু বেগম জিয়া কারো সাথে আতাঁত বা যোগসাজস না করে একাই জনগণতে সাথে নিয়ে আন্দোলণ করে এরশাদকে বিতারিত করেছিলেন। সেই থেকে দেশের জনগণ তাঁকে আপোসহীন নেত্রী হিসেবে উপাধি দিয়েছিলো। এরপর ১৯৯১ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি এমপি নির্বাচিত হন। সেইসাথে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দািয়ত্ব গ্রহন করেন।
মিলন আরো বলেন, বেগম জিয়া শুধু এদেশের প্রধানমন্ত্রী নয়। তিনি মাদার অব ডেমোক্রেসী হিসেবে সারাবিশ্বে পরিচিতি পেয়েছেন। সেইসাথে তিনি বিশ্ব নেতায় পরিণত হয়েছেন। এই মহিয়সী নারী গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর সবাকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। তাঁর মৃত্যুর পরে জানাযায় কত লোক হয়েছিলো তা কেউ গণনা করতে পারেনি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বিশ্বের ছাব্বিশটি দেশের নেতৃবৃন্দ তাঁর জানায়ায় এসেছিলেন। সেইসাথে বিশ্বের বহু দেশের নেতৃবৃন্দ শোক জানিয়েন। অথচ এই বিশ্বনেত্রীকে পতিত সরকারের অবৈধ প্রধানমন্ত্রী খুনি হাসিনা বিনা কারণে বিনা দোষে সম্পূর্ন রাজনৈতিকভাবে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছিলো। সেখানে তাঁকে নানাভাবে নির্যাতন করা হতো। তাঁকে সঠিকভাবে চিকিৎসা করতে দেয়া হতোনা বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, বেগম জিয়াকে তিলে তিলে মেরে ফেলতে কারাগারে স্লোপয়জোনিং করা হয়েছিলো। তিনি গুরুতর অসুস্থ হলেও চিকিৎসা করা হতোনা। পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসার জন্য আবেদন করলে খুনি হাসিনা বলতো, বয়স হয়েছে চিকিৎসা দিয়ে কি হবে। কয়দিন পরেতো মরেই যাবে। এভাবে তাচ্ছিল্য করে কথা বলতো বলে জানান তিনি। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে হাসিনা প্রাণভয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ায় দেশের উপর থেকে মস্তবড় একটি পাথর সরে যায়। দেশ আবারও রাহুমুক্ত হয়। এরপর বেগম জিয়াকে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসকরা বলেন অনেক দেরী হয়ে গেছে।
সেখানকার ডাক্তার বলেছিলেন আরো ৬-৮ বছর আগে নিয়ে আসলে তার অপারেশন করা যেত। এররপর থেকে তিনি সর্বাদা ডাক্তারের তত্বাবধানে থাকতেন। প্রায়ই তাঁকে এভার কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হতো। এ থেকেই বোঝা যায় বেগম জিয়ার মৃত্যুর জন্য প্রত্যক্ষভাবে দায়ী হচ্ছে শেখ হাসিনা। তিনি তাঁর বিচার দাবী করেন। সেইসাথে বেগম জিয়া, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, ছেলে আরাফাত রহমান কোকোসহ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী, জুলাই-আগস্টে নিহত শিশু থেকে বড় সবার রুহের মাগফিরাত কামনা এবং যারা অসুস্থ আছেন তাদের সুস্থতা কামনা কওে দোয়া করে বক্তব্য শেষ করেন। বক্তব্য শেষে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
পবা উপজেলা দলিল লেখক সমিতি চত্বরে অত্র সমিতির সভাপতি আনারুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাব রেজিষ্টার শাহিন আলী, বিএনপি রাজশাহী জেলার সদস্য, নওহাটা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র শেখ মকবুল হোসেন, নওহাটা পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক, ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবু সুফিয়ান, জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম ডনি, পবা উপজেল স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মোস্তাক আহমেদ ছোট, নওহাটা পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিজান।
পবা উপজেলা দলিল লেখক সমিতির দপ্তর সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান, সহ-সভাপতি নূরুন্নবী, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লিটনসহ অত্র সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যান্য সদস্য এবং সাধারণ সদস্য ও বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীবৃন্দ। #














