বিটিসি আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘মানবতার নিকৃষ্টতম অপরাধী’ আখ্যা দিয়ে তাকে ‘অপহরণ’ করার মাধ্যমে আদালতের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল ‘জিও নিউজ’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিতর্কিত ও সাহসী মন্তব্য করেন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী আসিফ স্পষ্ট করেই বলেন যে, সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনী যেভাবে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গেছে, নেতানিয়াহুর ক্ষেত্রেও তেমন পদক্ষেপ নেওয়া হলে তিনি পূর্ণ সমর্থন দেবেন। তার মতে, তুরস্কও চাইলে নেতানিয়াহুকে অপহরণ করতে পারে এবং এর জন্য পাকিস্তানিরা দোয়া করছে।
খাজা আসিফ তার এই আহ্বানের পক্ষে যুক্তি হিসেবে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কথা উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের নভেম্বরে আইসিসি গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহু এবং ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল।
আসিফ মনে করেন, আইসিসি যেহেতু ব্যবস্থা নিয়েছে, এখন বিভিন্ন দেশের দায়িত্ব হলো ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। তিনি ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরতাকে ইতিহাসের নজিরবিহীন ট্র্যাজেডি হিসেবে বর্ণনা করে বলেন যে, গত কয়েক হাজার বছরে কোনো সম্প্রদায় ফিলিস্তিনিদের মতো এমন নির্যাতনের শিকার হয়নি।
সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের এই মন্ত্রী নেতানিয়াহুকে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন যে, যারা তাকে সমর্থন দিচ্ছে তাদেরও শাস্তির আওতায় আনা উচিত। তার এই মন্তব্যের পরপরই অনুষ্ঠানটিতে বিরতি দেওয়া হয় এবং উপস্থাপক জানান যে খাজা আসিফ আর আলোচনায় থাকছেন না।
এদিকে তুরস্ক ও ইসরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছে। তুরস্ক ইতিমধ্যে ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধের পাশাপাশি আকাশপথ ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নেতানিয়াহুর কঠোর সমালোচনা করে আসছেন।
বিশ্ব রাজনীতিতে গত ৩ জানুয়ারি কারাকাস থেকে নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সেই নজিরকে সামনে রেখেই পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব করলেন।
তার মতে, মানবতার স্বার্থে এই ধরনের ‘অপহরণ’ বৈধ হওয়া উচিত। খাজা আসিফের এই বক্তব্য ইসরায়েল এবং পাকিস্তানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের শত্রুতাকে আরও উসকে দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে এর সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা-কল্পনা। #















