নিজস্ব প্রতিবেদক: তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি সাবেক চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের উন্নয়ন ও কল্যাণে জীবন উৎসর্গ করে গেছেন। কারণ শত নির্যাতন সহ্য করেও তিনি দেশে থেকেছেন। কখনো দেশ ছেড়ে পালালনি। আপোসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় হরিয়ান ইউনিয়ন এলাকাবাসীর আয়োজনে শুক্রবার বিকেলে হরিয়ান সুগারমিল মাঠে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং পবা-মোহনপুরের বিএনপি মনোনিত ধানের শীষের প্রার্থী এডভোকেট শফিকুল হক মিলন এসব কথা বলেন।
দোয়া মাহফিলে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকোসহ মহান মুক্তিযুদ্ধে যে সমস্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা, যারা শহীদ হয়েছেন, চলমান আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন এবং জুলাই-আগস্টে যে সকল কমলমতি শিশু ও জুলাই-আগস্ট যুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং যারা অসুস্থ আছেন তাদের জন্য দোয়া প্রার্থনা করে তিনি বলেন, বেগম জিয়াকে কারাগারে যেমন স্লোপয়জোনিং করে তিলে তিলে মেরে ফেলেছে খুনি হাসিনার সরকার। তিনি সুস্থ অবস্থায় হেটে হেটে কারাগারে গেলে বের হন হুইল চেয়ারে করে।
তিনি বলেন, কারাগারে অসুস্থ হলেও তাঁকে চিকিৎসা করতে দেয়া হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে বার বার আবেদন করলেও পতিত সরকারের অবৈধ প্রধানমন্ত্রী, অবৈধ আইনমন্ত্রীসহ অন্যান্যরা হাস্যরস করে আবেদন গ্রহন করেননি। এরপর তাঁকে কারাগার থেকে মুক্তি দিলেও গৃহবন্দি করে রাখা হয়। সে সময়েও তাঁকে বিদেশে চিকিৎসা করতে দেয়া হয়নি। যার ফল হচ্ছে ২০২৫ সালের ৩০ডিসেম্বর। তিনি ঢাকার এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেশ ও বিশ্ববাসীকে কাঁদিয়ে আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। তাঁর এই মৃত্যুর জন্য পতিত সরকারের খুনি হাসিনা দায়ী বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বেগম জিয়া ১৯৪৫ সালে জন্ম গ্রহন করেছিলেন। বাংলার রাখালরাজা, বাংলাদেশের উন্নয়নের রুপকার বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাবেক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যখন মেজর ছিলেন সে সময়ে ১৯৬০ সালে কিশোরী বয়সে বেগম খালেদা জিয়ার সাথে বিয়ে হয়েছিলো। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হলে মেজর জিয়াউর রহমান পাকিস্তানের হয়ে ভারতের বিপক্ষে যুদ্ধে অবতীর্ন হয়েছিলেন। সে সময়ে বেগম জিয়ার বয়স হয়েছিলো মাত্র বিশ বছর। এই বয়সে তিনি নানা ধরনের ধকর সহ্য করেছেন।
তিনি বলেন, সেনা সদস্য যাদের বাড়িতে আছে, আর সেই সদস্য যদি যুদ্ধে যায় তাহলে ঐ পরিবারের সদস্যদের অবস্থাটা কি হয় তা ঐ পরিবারের সদস্যরাই জানেন।
তিনি আরো বলেন, ১৯৭১ সালে শুরু হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ। এই যুদ্ধে অংশগ্রহন ও পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে বাঁচাতে মেজর জিয়াউর রহমান পূর্ব পাকিস্তানে চলে আসেন। এরপর তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। একজন সামরিক সদস্য যদি তার দেশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন তাহলে সে দেশ তাঁকে কি বলে আখ্যাদেয় তা সবাই জানে। সে অবস্থাতেই বেগম জিয়া পাকিস্তান থেকে চট্টগ্রামে চলে আসেন। এরপর সেখান থেকে তিনি তাঁর দুই সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় পৌঁছালে পাকিস্তানী বাহিনীর নিকট তিনি আটক হন।
এসময়ে মেজর জিয়াউর রহমান পাকিস্তানী এক অফিসারকে বলেছিলেন আমি জানি আমার স্ত্রী এবং সন্তানেরা আপনাদের কাছে আটক আছে। যদি তাদের কোন অমর্যাদা হয় তাহলে আপনাদেরকে ক্ষমা করা হবেনা বলে হঁশিয়ারী দেন। বেগম জিয়া পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর নিকট আটক অবস্থা থেকে তিনি দৃঢ়চেতা হিসেবে নিজেকে তৈরী করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। এরপর প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালে শহীদ হওয়ার পরে সবার অনুরোধে তিনি রান্নাঘর থেকে রেড়িয়ে বিএনপির হাল ধরেন এবং স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন। সেইসাথে অন্যান্য দল বেইমানী ও মেনাফেকী করলেও তিনি জনগণকে সাথে নিয়ে একাই নেতৃত্ব দিয়ে এরশাদের পতন ঘটান। এরপর ১৯৯১ সালে নির্বাচনের মাধ্যেমে তিনি সংসদ সদস্য নির্চাচিত হন এবং সেইসাথে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহন করেন।
মিলন বলেন, বেগম জিয়া ক্ষমতায় আসার পরে দেশের সংস্কার কাজ শুরু করেছিলেন। তিনি প্রেসিডেন্সি ব্যবস্থা রোধ করে পার্লামেন্ট সরকার ব্যবস্থা চালু করেন। সে সময় থেকেই তিনি নারী শিক্ষা ও নারীদের স্বাবলম্বী করতে অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। নারীদের ক্ষমতায়িত করতে তিনি অনেক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহন করেছিরেন। শুধু তাইনয় তিনি মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়, বয়স্ক ও বিধবা ভাতাসহ সামাজিক নিরাপত্তাবলয়ে অনেক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহন করেছিলেন। তিনি বাংলাদেশ গড়ার জন্য সব কিছু করে গেছেন।
তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, দুই একদিনের মধ্যে ভারমুক্ত হয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান হবেন। তাঁর হয়ে সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি। তিনি বলেন, পবার বিএনপির সকল নেতা আজকে এক কাতারে এসে বসেছেন। সবাই ধানের শীষের জন্য একাট্টা হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, তারেক রহমান কর্তৃক যে ৩১ দফা দিয়েছেন তা বাস্তবায়ন করলে আর কোন সংস্কার করার দরকার নাই। তিনি বলেন, ঐ ৩১ দফায় নারীর ক্ষমতায়নের কথা উল্লেখ করা হয়েচে। উল্লেখ রয়েছে কৃষিকার্ড ও ফ্যামেলি কার্ড প্রদান করা হবে। তারেক জিয়া ন্যায় ও সততার ভিত্তিতে আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এবং বিশ্বনবীর শাসন কার্য পরিচালনা করবেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কারিগরী ও বাস্তবমুখী শিক্ষা চালু এবং চতুর্থ শ্রেণি হতে সকল শিক্ষার্থীর জন্য খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হবে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, তাঁর মৃত্যু সবাইকে একতাবদ্ধ হতে শিখিয়ে গেছে। কারণ তাঁর জানাযায় বিশ্বের ২৬টি রাষ্ট্র থেকে নেতৃবৃন্দ এসেছিলেন। আর জানাযায় কত লোক হয়েছিলো তা কেউ এখন পর্যন্ত পরিমাপ করে বলতে পারেনি। আর ভবিষ্যতের পারবেনা বলে উল্লেখ করেন তিনি। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পরে বিশ্বে এমন কোন নেতার জানাযায় এত লোক হয়নি বলে জানান তিনি। শেষে দোয়া ও মোনাজাত কার হয়।
হরিয়ান ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব বাদশা মিয়ার সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সদস্য শাহাজান আলী, পবা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সদস্য আলী হোসেন, সদস্য সচিব জেলা বিএনপির সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, জেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সদস্য রুকুনুজ্জামান আলম, পবা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ, আব্দুল হালিম, রাবি ফিসারিজ বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. দেলোয়ার হোসেন, হরিয়ান ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান ও এডভোকেট আবু মোহাম্মদ তারেক।
আরো উপস্থিত ছিলেন, হরিয়ান ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মামসুল আলম, কাটাখালী পৌর বিএনপির সদস্য সচিব নাজমুল হক, হরিয়ান ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান বাবু, সাদু মেম্বর, মুকুল আলী ও মোয়াজ্জেম হোসেন, জেলা ওলামা দলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম, জেলা জিসাস এর সভাপতি ফিরোজ কবীর রেন্টু, সাবেক সভাপতি রজব আলী ও সাবেক মেম্বর আক্কাস আলী ও হরিয়ান ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল মতিন কাসেমীসহ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের সখল পর্যায়ের নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ জনগণ। দোয়া শেষে তবারক বিতরণ করা হয়। #















