BTC News | বিটিসি নিউজ

আজ- বৃহস্পতিবার, ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৬শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

আজ- ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

তিনবার গ্রিনল্যান্ড কেনার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের!

তিনবার গ্রিনল্যান্ড কেনার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের!

বিটিসি আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই গ্রিনল্যান্ডের ওপর আমেরিকার দখল নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এই আধা স্বায়ত্বশাসিত দ্বীপটি উত্তর আমেরিকা মহাদেশের মধ্যে থাকলেও এটি আমেরিকার অংশ নয়। ইউরোপের ডেনমার্কের একটি অংশ এটি।

ট্রাম্পের বক্তব্য, জাতীয় ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা এবং নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা অত্যন্ত জরুরি।

সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসে মার্কিন বাহিনী।

এরপর আবারও গ্রিনল্যান্ড নিজেদের অধীনে নেওয়ার ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প। ট্রাম্প গত রবিবার সাংবাদিকদের বলেন, “আগামী ২০ দিনের মধ্যে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আলোচনা শুরু হবে।”

ভেনেজুয়েলায় এমন নজিরবিহীন হামলা ও গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের হুমকি ডেনমার্কের নেতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এদিকে, গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ করতে তিনটি পন্থা নিয়ে ভাবছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

এগুলো হলো- ১. সামরিক অভিযান,

২. অর্থের বিনিময়ে ক্রয় করা এবং ৩. মুক্তভাবে সংযুক্ত করে নেওয়া, যেটিকে Freely Associated States (FAS) বলা হয়।

এক্ষেত্রে ভূমিকে গুরুত্ব না দিয়ে মূলত নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়া হয়।

গ্রিনল্যান্ড কেনার আগ্রহ যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ একটি ঐতিহাসিক ধারার অংশ। কিন্তু বিষয়টি খুব বেশি পরিচিত নয়।

গৃহযুদ্ধ পরবর্তী নীরব আলোচনা থেকে শুরু করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১০ কোটি ডলারের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব, বছরের পর বছর ধরে মার্কিন নেতারা গ্রিনল্যান্ডকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল হিসেবে দেখে এসেছেন।

সংক্ষেপে সেই ইতিহাস- রাশিয়ার কাছ থেকে আলাস্কা কেনার পর, পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম সিওয়ার্ডের অধীনে থাকা মার্কিন কর্মকর্তারা আর্কটিক অঞ্চলে বিস্তারের অংশ হিসেবে গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। সিওয়ার্ড উল্লেখ করেন যে, দ্বীপটি কয়লাসহ প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ।

তবে বিষয়টি কখনও আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবে রূপ নেয়নি। কারণ কংগ্রেস তখন আরেকটি আর্কটিক অঞ্চল কেনায় তেমন আগ্রহ দেখায়নি।

উইলিয়াম হাওয়ার্ড টাফটের শাসনামলে মার্কিন কূটনীতিকরা একটি জটিল ভূমিবিনিময় পরিকল্পনা উত্থাপন করেন, যার অধীনে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করা হতো এবং বিনিময়ে ডেনমার্ককে অন্যত্র কিছু ছাড় দেওয়া হতো। ডেনমার্ক প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করে এবং পরিকল্পনাটি দ্রুত ভেস্তে যায়।

শীতল যুদ্ধের শুরুতে প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যানের প্রশাসন ডেনমার্ককে গ্রিনল্যান্ড কেনার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ১০ কোটি ডলারের স্বর্ণ দেওয়ার প্রস্তাব করে। যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তি ছিল, দ্বীপটির বিরাট কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সেখানে নির্মিত মার্কিন বিমানঘাঁটি ইউরোপগামী সামরিক বিমানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ভরার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।

ডেনমার্ক ট্রুম্যানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও যুক্তরাষ্ট্র সামরিক প্রবেশাধিকার বজায় রাখে। সেই উপস্থিতি আজও রয়েছে গ্রিনল্যান্ডের দূরবর্তী পিটুফিক স্পেস ঘাঁটিতে, যা মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের সর্বউত্তরের সামরিক স্থাপনা। #

এইরকম আরও খবর

সর্বশেষ খবর

ব্রেকিং নিউজ