নিজস্ব প্রতিবেদক: সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পরপারে পারি জমিয়েছেন। ৩১ ডিসেম্বর বুধবার তাঁর নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযা শেষে তাঁকে স্বামী বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের করের পাশে দাফন করা হয়। জানাযায় কত লোক হয়েছিলো তা কেউ পরিমান করে বলতে পারছেনা। জানাযায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রধান, মন্ত্রী, এম.পি, ও কুটনৈতিকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ শরীক হন। বেগম জিয়াকে দাফনের মধ্যে দিয়ে মহাকালের সমাপ্তি হলেও শুরু হলো মহাকাব্যের।
শুক্রবার বিকেলে রাজশাহীর পবা উপজেলার বড়গাছি ইউনিয়নের ভালাম উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে এ দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পবা-মোহনপুর আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী এডভোকেট শফিকুল হক মিলন এ সব কথা বলেন।
দোয়ার পূর্বে বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মিলন বলেন, আজ কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়া আজ আর আমাদের মাঝে নেই। তিনি মহান আল্লাহ তায়ালার ডাকে সাড়া দিয়ে চিরবিদায় নিয়েছেন। তিনি আল্লাহর দরবারে সকলের কাছে প্রিয় নেত্রীর রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া প্রার্থনা করেন।
তিনি আরও বলেন, “মহাকালের সমাপ্তি হলে মহাকাব্যের যাত্রা শুরু হয়ে গেছে, যা আজীবন চলতে থাকবে। যেমন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম লিখা হয়েছে। যাহা সারাজীবন চলতে থাকবে। তেমনি বেগম খালেদা জিয়ার নামও লিখা থাকবে এবং যুগের পর যুগ মানুষ তাঁকে স্মরণ করবে।
তিনি বলেন, আমরা এমন একজন মাকে হারিয়েছি, যিনি দেশের মানুষের জন্য আজীবন কাজ করে গেছেন।” দেশের স্বার্থে তার একনিষ্ঠ ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “মানুষের হৃদয়ে তার স্থান কতটা গভীর ছিল, তার প্রমাণ তার জানাজায় জনস্রোত। এরকম লক্ষ লক্ষ লোক একবার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জানাযায়, কয়েকদিন উদীয় তরুন নেতা হাদীর জানাযায় লক্ষাধীক লোক হয়েছিলো। তবে বেগম জিয়ার জানাযায় লোকের সংখ্যা কেউ গণণা করে বলতে পারবেনা বলে জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, বেগম জিয়া ছিলেন এদেশের গণমানুষের নেতা। তিনি কখনো জনগণের ক্ষতি করেনি। তিনি বিদেশে কোনদিন পালাননি এবং দেশের টাকা বিদেশে পাচার করেননি। ১৯৮১ স্বামী শহীদ হওয়ার পরে ১৯৮২ সালে রাজনীতি আসেন। এরপর দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান, পরে চেয়াপার্সন হন। এরপর তিনি দীর্ঘ চল্লিশ বছরের অধিক সময় তিনি দলের চেয়ারপার্সন ছিলেন।
তিনি আরো বলেন, বেগম জিয়া স্বৈরাচার এরশাদ সরকারকে বিতারিত করে ১৯৯১ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন। এরপর তিনি আরো দুইবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। এছাড়াও তিনি দুইবার বিরোধী দলীয় নেত্রী ছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মিলন আরো বলেন, বেগম জিয়া নেতাকর্মীদের শিখিয়ে গেছেন সংযত থাকতে। প্রতিহিংসাপরায়ন না হতে। দেশ গড়তে হলে সবাইকে নিয়েই গড়তে হবে বলে জানান তিনি। তিনি আরো বেগম স্বশরীরে চলে গেছেন। কিন্তু তাঁর আলোকবর্তিকা ছড়িয়ে রেখে গেছেন তিনি। যে আলোকবর্তিকায় বাংলাদেশ হবে উঁচুমানের বাংলাদেশ, যে আলোকবর্তিকায় বাঙলাদেশ হবে কৃষক, নারী জাগরণ ও শিক্ষার্থীদের। তিনি বলে পবা-মোহনপুরে কেউ চাঁদাবাজী, মাদক ব্যবসা ও সেবন এবং ভন্ডামী করতে পারবেনা বলে উল্লেখ করেন তিনি। বক্তব্যে তিনি বেগম জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁকে যেন বেহেস্তের উচ্চস্তর যেন স্থান আল্লাহ প্রদান করেন সে জন্য দোয়া করেন। সব শেষে বেগম জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
বড়গাছী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি জেকের আলীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পবা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ, বড়গাছী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সোহেল রানা,৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি তজিবর আলী, কৃষকদল সভাপতি খাইরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক বাবু আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সৈয়ফর আলী ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম। এছাড়াও বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনেরে শত শত নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সমাজুল ইসলাম মনা। #















