বিটিসি আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরাক এবং এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ২১ বার হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জোট ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ভোরে দেওয়া এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি জানিয়েছে যে, তারা ড্রোন এবং রকেট ব্যবহার করে এই ধারাবাহিক আক্রমণগুলো পরিচালনা করেছে।
যদিও এই হামলাগুলোর ফলে ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট কোনো বিবরণ বিবৃতিতে প্রদান করা হয়নি, তবে গত এক দিনে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন উপস্থিতির ওপর এটিই ছিল অন্যতম বৃহত্তম হামলার ঘটনা।
ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর এমন তৎপরতা এই অঞ্চলে মার্কিন বিরোধী অবস্থানকে আরও সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান লক্ষ্য করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই পুরো মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে রয়েছে। সেই অভিযানে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ এ পর্যন্ত ১,৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তেহরান এবং তার মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাক এবং পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে আসছে।
ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বিমান চলাচল ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি ব্যাপক পরিকাঠামোগত ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
ইরাকি গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তাদের এই আক্রমণগুলো মূলত ইরানের ওপর চালানো মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের সরাসরি প্রতিশোধ।
বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে এবং প্রায় প্রতিদিনই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-পন্থী এই গোষ্ঠীগুলো এখন অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে হামলা চালাচ্ছে, যা মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার ফলে আঞ্চলিক দেশগুলোর স্থিতিশীলতা যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি একটি পূর্ণমাত্রার আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক কর্মকাণ্ড ও আগ্রাসন বন্ধ না হবে, ততক্ষণ তাদের এই ‘প্রতিরোধমূলক’ হামলা অব্যাহত থাকবে।
ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাকের এই কড়া বার্তার পর বাগদাদ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মার্কিন গোয়েন্দা নজরদারি এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি দেশই এই সংঘাতের সরাসরি বা পরোক্ষ প্রভাবে প্রভাবিত হচ্ছে এবং বৈশ্বিক কূটনৈতিক মহল পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও মাঠপর্যায়ে লড়াইয়ের তীব্রতা বেড়েই চলেছে। #















