বিটিসি আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দক্ষিণ স্পেনে যাত্রীবাহী দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহতের সংখ্যাও বেড়েছে। দেশটির সিভিল গার্ড জানিয়েছে, গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটি স্পেনের সবচেয়ে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কোরদোবা শহরের কাছে আদামুজ এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
স্পেনের রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মাদ্রিদগামী একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে বিপরীত দিকের লাইনে উঠে গেলে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি ট্রেনের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ হয়। দুটি ট্রেন প্রায় ৪০০ যাত্রী ও কর্মী ছিলেন।
জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর ১২২ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে ৪৮ জন এখনো হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। হাসপাতালে থাকা আহতদের মধ্যে পাঁচজন শিশু। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন ১১ জন প্রাপ্তবয়স্ক ও এক শিশু।
স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে বলেছেন, নিহতের সংখ্যা এখনো চূড়ান্ত নয়।
দুর্ঘটনার কারণ জানতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। তিনি ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত অস্বাভাবিক’ বলে বর্ণনা করেন। মাদ্রিদে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করা সব রেল বিশেষজ্ঞই এই দুর্ঘটনায় ‘চরমভাবে বিস্মিত’।
রেল নেটওয়ার্ক অপারেটর আদিফ জানায়, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে দুর্ঘটনাটি ঘটে। মালাগা থেকে উত্তর দিকে মাদ্রিদের উদ্দেশে যাত্রা শুরুর প্রায় এক ঘণ্টা পর, কোরদোবার কাছে সোজা রেলপথে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়।
পরিবহনমন্ত্রী জানান, সংঘর্ষের তীব্রতায় দ্বিতীয় ট্রেনটির বগিগুলো পাশের একটি বাঁধের দিকে ছিটকে পড়ে। নিহত ও আহতদের অধিকাংশই ছিলেন দ্বিতীয় ট্রেনটির সামনের বগিতে। ওই ট্রেনটি মাদ্রিদ থেকে দক্ষিণের হুয়েলভা শহরের দিকে যাচ্ছিল।
দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রেনটি ছিল ‘ফ্রেচ্চিয়া ১০০০’ মডেলের, যা সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ৪০০ কিলোমিটার গতিতে চলতে সক্ষম। ইতালির রেল কোম্পানি ফেরোভিয়ে দেল্লো স্তাতোর একজন মুখপাত্র রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া বগির ভেতর আটকে পড়াদের উদ্ধার করা ছিল অত্যন্ত কঠিন।
কোরদোবার ফায়ার সার্ভিস প্রধান ফ্রান্সিসকো কারমোনা স্প্যানিশ রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটিভিইকে বলেন, জীবিত কাউকে পৌঁছাতে আমাদের একজন নিহতকে সরাতেও হয়েছে। কাজটি খুবই কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ।
ঘটনাটি ঘিরে স্পেনজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তদন্ত শেষে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানানো হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। #















