নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সাফিনা পার্কে শিক্ষা সফরে এসে ওয়াটার ওয়েভ পুলে গোসল করতেই ১৫ বছর বয়সী আবিদ আহনাফ সোয়াদ প্রাণ হারিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঘটনাটি ঘটেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, বগুড়া ইকরা মডেল মাদ্রাসার নবম শ্রেণীর এই শিক্ষার্থী বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া পাড়া এলাকার আবু হাসিবের একমাত্র সন্তান। সহপাঠীদের সঙ্গে শিক্ষা সফরে পার্কে প্রবেশের পর দুপুরের দিকে সে নিখোঁজ হয়।
স্থানীয় ও পরিবার অভিযোগ করে বিটিসি নিউজকে বলেন, দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর বিকেলে ওয়াটার ওয়েভ পুলে সোয়াদকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলের গভীরে লাফ দেয়ার সময় সে নাক, বুক ও মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে পানিতে তলিয়ে যায়। সেখানে লাইফগার্ড বা কার্যকর উদ্ধারকর্মী না থাকায় তাকে দ্রæত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রেমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক সন্ধ্যা ৬টার সময় তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় ও অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, পার্ক কর্তৃপক্ষ নিখোঁজের ঘটনা জানার পরও দীর্ঘ দুই ঘণ্টা অবহেলা করেছেন এবং যথাযথ সহযোগিতা করেননি।
পুলিশ পগাদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসান বাসির বিটিসি নিউজকে বলেন, ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। তদন্ত চলছে এবং ঘাটতি পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাফিনা পার্ক ও রিসোর্টে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব অবহেলা, নিরাপত্তা বিঘ্ন, অনৈতিক কর্মকাÐ, মারামারি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। শঙ্কার বিষয় হিসেবে তারা উল্লেখ করেন, পার্ক কেন্দ্র করে আশপাশের মহাসড়কে যানজট ও দুর্ঘটনা বাড়লেও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
পার্কের অসংখ্য অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, আশপাশের কৃষি জমির ক্ষতি ও স্থানীয়দের ওপর অর্থ-ক্ষমতার দাপট ব্যবহার করে অভিযোগ দমন করার কথাও।
নিহতের মাদ্রাসার শিক্ষকরা বিটিসি নিউজকে জানান, যদি পার্ক কর্তৃপক্ষ সময়মতো সহযোগিতা করতেন, তবে হয়তো একটি জীবন বাঁচানো যেত। তারা এই ঘটনায় যথাযথ বিচার ও দায়ীদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে সাফিনা পার্কের ম্যানেজারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি প্রথমে ছাত্র মৃত্যুর বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং পরে ব্যস্ততা দেখিয়ে কথা বলতে অনিচ্ছুকতা প্রকাশ করেন, যা এলাকায় এবং সুশীল সমাজের মধ্যে সমালোচনার সৃষ্টি করেছে।
সাফিনা পার্ক ও রিসোর্টটি গোদাগাড়ীর দিগরাম খেজুরতলায় অবস্থিত। ২০১২ সালে ৪০ বিঘা জমির উপর শুরু হলেও মালিকানা বিরোধে ২০১৬-১৭ প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর ২০১৮ থেকে নতুন আঙ্গিকে প্রায় ১০০ বিঘা এলাকায় এটি পরিচালিত হচ্ছে। পার্ক পরিচালনা করছে একটি লিমিটেড কোম্পানী, বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান মিজান।
স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসন ও পার্ক কর্তৃপক্ষ দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না করলে সাধারণ মানুষের জীবন আরও বিপদগ্রস্ত হবে।
সংবাদ প্রেরক বিটিসি নিউজ এর নিজস্ব প্রতিনিধি মো. মাসুদ রানা রাব্বানী / রাজশাহী। #

