বিটিসি স্পোর্টস ডেস্ক: বল দখলে অনেক এগিয়ে থাকলেও, পরিষ্কার সুযোগ খুব বেশি তৈরি করতে পারছিল না বার্সেলোনা। জাগল জয়ের ধারায় ছেদ পড়ার শঙ্কা। তবে শেষ দিকে চার মিনিটের মধ্যে জালের দেখা পেল তারা দুইবার। এস্পানিওলকে হারিয়ে লা লিগার শীর্ষস্থান মজবুত করল হান্সি ফ্লিকের দল।
এস্পানিওলের আরসিডিই স্টেডিয়ামে শনিবার রাতে কাতালান ডার্বিতে ২-০ গোলে জিতেছে শিরোপাধারীরা।
দ্বিতীয়ার্ধে একসঙ্গে বদলি নেমে, নির্ধারিত সময়ের শেষ পাঁচ মিনিটে গোল দুটি করেন দানি ওলমো ও রবের্ত লেভানদোভস্কি।
গোলদাতা তারা দুজন হলেও, এই জয়ে বড় অবদান আছে গোলরক্ষক জোয়ান গার্সিয়ারও। বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার পর নিজের সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে তার প্রথম ম্যাচ ছিল এটি। ম্যাচজুড়ে তাকে দুয়ো দেন এস্পানিওলের সমর্থকরা। প্রতিকূল পরিবেশেও গোটা ম্যাচে অসাধারণ পারফর্ম করেন তিনি। বেশ কয়েকটি দুর্দান্ত সেভ করে জাল অক্ষত রাখেন। ম্যাচ-সেরার পুরস্কারও জেতেন এই স্প্যানিয়ার্ড।
সব মিলিয়ে নতুন বছরের শুরুটা দারুণ হলো বার্সেলোনার। লা লিগায় টানা নবম জয়ে সাত পয়েন্টে এগিয়ে গেল তারা।
১৯ ম্যাচে ১৬ জয় ও এক ড্রয়ে বার্সেলোনার পয়েন্ট ৪৯। এক ম্যাচ কম খেলে ৪২ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে আছে রেয়াল মাদ্রিদ।
ম্যাচে প্রায় ৬৯ শতাংশ পজেশন রেখে গোলের জন্য ১৫টি শট নিয়ে ৬টি লক্ষ্যে রাখতে পারে বার্সেলোনা। এস্পানিওলের ১৪ শটের ৭টি লক্ষ্যে ছিল।
আগের পাঁচটি লিগ ম্যাচে জয়ী এস্পানিওল ২০তম মিনিটে প্রথম ভালো সুযোগ পায়। সতীর্থের থ্রু বল ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন রবের্তো ফের্নান্দেস। ওয়ান-অন-ওয়ানে তার শট ঠেকান গার্সিয়া। লক্ষ্যে ম্যাচের প্রথম শট এটি।
আট মিনিট পর দারুণ নৈপুণ্যে বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে শট নেন লামিনে ইয়ামাল, দূরের পোস্টের বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যায় বল। গোলের জন্য বার্সেলোনার প্রথম শট এটি।

৩৭তম রাফিনিয়ার ফ্রি-কিকে বক্সে লাফিয়ে উঠে ঠিকমতো হেড করতে পারেননি ফেররান তরেস। দুই মিনিট পর দুর্দান্ত সেভে বার্সেলোনাকে বাঁচান গার্সিয়া। কার্লোস রোমেরোর ক্রসে কাছ থেকে পেরে মিয়ার হেড জালের দিকেই যাচ্ছিল। দারুণ ক্ষিপ্রতায় লাফিয়ে এক হাতে বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে পাঠান এই মৌসুমেই এস্পানিওল থেকে বার্সেলোনায় যোগ দেওয়া গোলরক্ষক।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ইয়ামালের শট ঠেকান এস্পানিওলের গোলরক্ষক। প্রথমার্ধে গোলের জন্য তিন শটের এই একটিই কেবল লক্ষ্যে রাখতে পারে বার্সেলোনা।
৬৪তম মিনিটে আবারও গার্সিয়ার দৃঢ়তায় রক্ষা পায় বার্সেলোনা। তাদের দুই ডিফেন্ডারের বাধা এড়িয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন ফের্নান্দেস। এগিয়ে আসেন গার্সিয়া। তার পাশ দিয়ে বল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এস্পানিওল স্ট্রাইকার। হাত বাড়িয়ে দারুণভাবে বল আটকে দেন স্প্যানিশ গোলরক্ষক।
পরক্ষণেই একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন আনেন বার্সেলোনা কোচ ফ্লিক। তরেস, জেরার্দ মার্তিন ও রাফিনিয়ার বদলি হিসেবে লেভানদোভস্কি, পেদ্রি ও ওলমোকে নামান তিনি।
৭১তম মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত বার্সেলোনা। খুব কাছ থেকে এরিক গার্সিয়ার শট হাত বাড়িয়ে ঠেকিয়ে দেন এস্পানিওল গোলরক্ষক। পরের মিনিটে সুযোগ আসে আরেকটি। ইয়ামালের পাসে বক্সে ঠিকমতো শট নিতে পারেননি পেদ্রি।
৭৬তম মিনিটে আরেকটি সেভ করেন গার্সিয়া। দূরের পোস্টে রোমেরোর নিচু শট ঝাঁপিয়ে ব্যর্থ করে দেন তিনি।
অবশেষে ৮৬তম মিনিটে গোলের দেখা পায় বার্সেলোনা। ফের্মিন লোপেসের পাস বক্সের বাইরে পেয়ে জোরাল শটে দূরের পোস্টের ওপরের কোণা দিয়ে জালে পাঠান স্প্যানিশ মিডফিল্ডার ওলমো।
আর নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে সব অনিশ্চয়তার ইতি টেনে দেন লেভানদোভস্কি। এই গোলেও অবদান রাখেন লোপেস। সঙ্গে লেগে থাকা প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারের চ্যালেঞ্জ সামলে ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে কাট-ব্যাক করেন তিনি। ছয় গজ বক্সের বাইরে থেকে পায়ের টোকায় জালে পাঠান অভিজ্ঞ পোলিশ স্ট্রাইকার।
এবারের লা লিগায় ৩৭ বছর বয়সী এই তারকার গোল হলো ৯টি। গত ২২ নভেম্বরের পর এই প্রথম লিগে গোল পেলেন তিনি।
এই মৌসুমে লা লিগায় দ্বিতীয়ার্ধের শেষ ১৫ মিনিটে মোট ১২ গোল করল বার্সেলোনা, যা এই সময়ের মধ্যে কোনো দলের সর্বোচ্চ।
১৮ ম্যাচে পঞ্চম হারের তেতো স্বাদ পাওয়া এস্পানিওল ৩৩ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচ নম্বরে আছে। #















