আরএমপি প্রতিবেদক: রাজশাহী মহানগরীতে ডিবি, বোয়ালিয়া, কর্ণহার, রাজপাড়া, কাশিয়াডাঙ্গা এবং পবা থানা পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় পৃথক পৃথক মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে গাঁজা, ইয়াবা ট্যাবলেট, দেশী চোলাই মদ উদ্ধার এবং মাদক বিক্রির নগদ ৫ হাজার ২শ ৫০ টাকাসহ ৭ জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে।
আরএমপি সূত্র জানায়, গতকাল ৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের অভিযানে মোট ৪৫০ গ্রাম গাঁজা, ৪৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৫ লিটার মদ উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মোছা: তাজমিনা (৫৩), মো: বুলবুল ইসলাম (৪৯), মো: টিয়ারুল ইসলাম ওরফে আশরাফুল (৩৮), নূর ইসলাম ওরফে শামীম (৩৫), মো: পারভেজ ইসলাম (২১), মো: ইমন ইসলাম (২৫) ও মো: বাদল আলী (১৯)। তাজমিনা কাশিয়াডাঙ্গা থানার পূর্ব রায়পাড়া এলাকার মো: জাহাঙ্গীর আলম পল্টুর স্ত্রী; বুলবুল বোয়ালিয়া থানার বাজে কাজলা খরবোনা এলাকার মো: ফজলুল হক মন্টুর ছেলে; টিয়ারুল কর্ণহার থানার বিরধরমপুর এলাকার মৃত খোরশেদ আলমের ছেলে; নূর রাজপাড়া থানার লক্ষীপুর ভাটাপাড়া এলাকার মো: ইনসানের ছেলে; পারভেজ রাজপাড়া থানার চণ্ডীপুর এলাকার মো: সজিবুল ইসলাম আসাদুলের ছেলে; ইমন পবা থানার মথুরা পশ্চিমপাড়া গ্রামের মো: রিপন ইসলামের ছেলে এবং বাদল একই থানা ও গ্রামের মো: মুন্তাজ আলীর ছেলে। সকলেই রাজশাহী মহানগরীর বাসিন্দা।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি.) সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় আরএমপির গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পুলিশ পরিদর্শক মো: গোলাম কবির ও তার টিম কাশিয়াডাঙ্গা থানার কোর্ট স্টেশন মোড়ে দায়িত্ব পালনকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একই থানার রায়পাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় গাঁজা বিক্রি করাকালে তাজমিনাকে আটক করা হয়। আটককালে শালীনতা বজায় রেখে তার দেহ তল্লাশি করে তাজমিনার কাছ থেকে ২০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার এবং মাদক বিক্রির নগদ ৪ হাজার ৪শ ৫০ টাকা জব্দ করা হয়। তাজমিনার বিরুদ্ধে আরএমপি’র বিভিন্ন থানায় ৬টি মাদক মামলা চলমান রয়েছে।
অন্যদিকে, একই দিন রাত সোয়া ৮ টায় বোয়ালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো: রবিউল ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এসআই মো: মহিউদ্দিন ও তার টিম বোয়ালিয়া থানার দরগাপাড়া মোড়ে দায়িত্ব পালনকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একই থানার বাজে কাজলা খরবোনা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় গাঁজা ও ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থানকারী বুলবুলকে আটক করা হয়। আটককালে তার বডি তল্লাশি করে ২০০ গ্রাম গাঁজা ও ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
অপরদিকে, একই দিন রাত সোয়া ১০ টায় কর্ণহার থানার অফিসার ইনচার্জ মো: হাবিবুর রহমানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এসআই মো: আইয়ুব আলী ও তার টিম কর্ণহার থানার নূনিয়ার টিকর হাওয়ার মোড়ে দায়িত্ব পালনকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একই থানার বিলধরমপুর মোড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় গাঁজা বিক্রি করাকালে টিয়ারুলকে আটক করা হয়। আটককালে তার দেহ তল্লাশি করে ৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয় এবং মাদক বিক্রির নগদ ৮শ টাকা জব্দ করা হয়। ইতিপূর্বে তার বিরুদ্ধে রাজশাহী জেলা ও আরএমপি’র কর্ণহার থানায় মোট ৩টি মাদক মামলা চলমান রয়েছে।
অপরদিকে, একই দিন সন্ধ্যা ৭ টায় রাজপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আব্দুল মালেকের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এসআই মো: আবুল হাসান ও তার টিম রাজপাড়া থানার দাশপুকুর মোড়ে দায়িত্ব পালনকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একই থানার ডিঙ্গাডোবা মোজাম্মেলের মোড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থানকারী নূর ইসলামকে আটক করা হয়। আটককালে তার দেহ তল্লাশি করে ২৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।
অপরদিকে, একই দিন বিকেল ৫ টায় কাশিয়াডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো: ফরহাদ আলীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এসআই মো: ফারুক আহম্মেদ ও তার টিম কাশিয়াডাঙ্গা থানার কাঠালবাড়িয়া মোড়ে দায়িত্ব পালনকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একই থানার গোলজারবাগ গুড়িপাড়া মোড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থানকারী পারভেজকে আটক করা হয়। আটককালে তার দেহ তল্লাশি করে ৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
একই দিন সন্ধ্যা সোয়া ৭ টায় পবা থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল মতিনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এসআই ননী গোপাল বর্মন ও তার টিম পবা থানার সাহপাড়া মোড়ে দায়িত্ব পালনকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একই থানার মথুরা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় দেশীয় মদ বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থানকারী ইমন ইসলাম ও বাদলকে আটক করা হয়। আটককালে ইমনের হাতে থাকা একটি প্লাস্টিকের বস্তা তল্লাশি করে ১৫ বোতলে ৩৭৫০ মি.লি. এবং বাদলের হাতে থাকা পলিথিন হতে ৫টি বোতলে ১২৫০ মি.লি.সহ সর্বমোট ৫ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা মাদক বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে এসব মাদকদ্রব্য নিজ নিজ হেফাজতে রাখার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক পৃথক মামলা দায়ের করে তাদেরকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
সংবাদ প্রেরক মো: গাজিউর রহমান, পিপিএম, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া), (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত), রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)। #















