বিটিসি আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে পরবর্তী দফার আলোচনা শিগগিরই অনুষ্ঠিত হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ তেহরানের ‘অবিচ্ছেদ্য অধিকার’ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আস্থা তৈরিতে সময় লাগবে।
গতকাল শুক্রবার ওমানে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার আলোচনার শুরুটা ভালো ছিল বলেও উল্লেখ করেন আব্বাস আরাঘচি। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
আল জাজিরা নেটওয়ার্কের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ আমাদের অবিচ্ছেদ্য অধিকার এবং এটি অবশ্যই অব্যাহত থাকবে। এমনকি বোমা হামলা চালিয়েও তারা আমাদের সক্ষমতা ধ্বংস করতে পারেনি।’
সাক্ষাৎকারে আরাঘচি আরও বলেন, ‘আমরা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়ে একটি আশ্বস্তকর চুক্তিতে পৌঁছাতে প্রস্তুত। ইরানের পারমাণবিক সমস্যার সমাধান শুধুমাত্র আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব।’
মাস্কাটে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুনরায় শুরু হওয়া পারমাণবিক আলোচনার একদিন পর আরাঘচি এই মন্তব্য করলেন। উল্লেখ্য, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে তেহরানের প্রাণঘাতী পদক্ষেপের পর ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে একটি বিমানবাহী রণতরী বহর মোতায়েন করেছে।
গত বছর জুনে ইরানের ওপর ইসরায়েলের নজিরবিহীন বোমা হামলা এবং ১২ দিনের যুদ্ধের কারণে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর শুক্রবারের বৈঠকটিই ছিল প্রথম কোনো আলোচনা। সেই যুদ্ধের সময় মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালিয়েছিল।
আরাগচি শুক্রবারের আলোচনাকে ‘ভালো শুরু’ হিসেবে মন্তব্য করলেও জোর দিয়ে বলেন, ‘আস্থা তৈরির জন্য এখনো দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, ওয়াশিংটন যদি ইরানের ভূখণ্ডকে লক্ষ্যবস্তু বানায়, তবে ইরান এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালাবে।
আব্বাস আরাঘচি জানান, মাস্কাটের আলোচনাটি ওমানের মধ্যস্থতায় ‘পরোক্ষভাবে’ হয়েছে, তবে সে সময় মার্কিন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে করমর্দনের একটি ‘সুযোগ’ ছিল। দুপক্ষই ‘শিগগিরই’ পরবর্তী ধাপের বৈঠক করতে সম্মত হয়েছে, তবে তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি।
আব্বাস আরাঘচি স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কখনো আলোচনার বিষয় হতে পারে না, কারণ এটি একটি প্রতিরক্ষা ইস্যু।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তেহরানের সমর্থনের বিষয়টি আলোচনার অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিল। এই বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ইসরায়েল চাপ দিয়ে আসছে। তবে তেহরান বারবার পারমাণবিক ইস্যুর বাইরে আলোচনার পরিধি বাড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। #















