আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার আদমদীঘিতে মামলা তুলে না নেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে আসামীসহ তার লোকজন দেশীয় ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাদিনী তার স্বামী সন্তানকে কুপিয়ে জখম ও বসতবাড়িতে ভাংচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে।
হামলায় বাদিনী উম্মে হাফিজা বাড়িতে বেড়াতে আসা তার ছোট বোন বিধবা উম্মে হাবিবা উর্মি (৩৬) কে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৪জনকে আটক করে পুলিশ।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যায় আদমদীঘি উপজেলার উজ্জলতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, আদমদীঘি উপজেলার উজ্জলতা গ্রামে ২০২৫ সালের ২৬ আগষ্ট পুর্বশক্রার জেরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবর রহমানের ছেলে ফয়সাল ইসলাম তালুকদার লিটনের ছেলে ফারসিদ তালুকদারকে একই গ্রামের এখলাস হোসেন, একরাম ফকির ও কহির ফকিরসহ কয়েকজন মিলে পথরোধ করে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় ফারসিদ তালুকদারের মা উম্মে হাফিজা বাদি হয়ে আদমদীঘি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
সম্প্রতি পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করলে আদালত আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করেন। এদিকে মামলা তুলে নেয়ায় জন্য আসামী ও তার লোকজন বাদিনী উম্মে হাফিজা তার স্বামীসহ পরিবারের লোকজনকে নানা ভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ইফতারের আগ মুর্হুতে ওই মামলার বাদিনীর স্বামী ফয়সাল ইসলাম তালুকদার লিটন ঈদ মার্কেট করে উজ্জলতা গ্রামের বাড়িতে ফেরার পথে দুলালী বেগমের বাড়ির সামনে পৌঁছামাত্র ওঁৎ পেতে থাকা একই গ্রামের কহির ফকির, দুলালী বেগম, এখলাস, সিরাজুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে মারপিট শুরু করে এসময় লিটনের স্ত্রী. ছেলে মেয়ে ও বেড়াতে আসা শালিকা উম্মে হাবিবা উর্মি এগিয়ে আসলে হামলাকারিরা তাদের উপড় চড়াও হয়ে মারপিট করতে লাগলে তারা পালিয়ে জনৈক শফিকুল ইসলামের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। সেখানে ধাওয়া করে তাদেরকে কুড়াল, হাসুয়া ও লাঠি দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে।
হামলায় বাদিনী উম্মে হাফিজা তার স্বামী ফয়সাল ইসলাম তালুকদার লিটন, তার ছেলে ফারসিদ তালুকদার, মেয়ে নুসরাত জাহান নিহা, ও দুলাভাইয়ের বাড়িতে বেড়াতে আসা উম্মি হাবিবা উর্মি মারাত্মক জখমপ্রাপ্ত হয়।
এসময় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে আদমদীঘি হাসপাতাল ও পরে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে বোনের বাড়িতে বেড়াতে আসা উম্মে হাবিবা উর্মি রাত ১১ টায় মারা যায়।
আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসার সুযোগে হামলাকারিরা বাদিনীর বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুরের ঘটনা ঘটায়।
এ ঘটনায় আজ শনিবার (২১) মার্চ দুপুরে নিহতের বোন উম্মে হাফিজা বাদি হয়ে আদমদীঘি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ সকালে হামলাকারি কহির ফকির, দুলালী বেগম, আইয়ুব হোসেন ও এখলাস হোসেনকে আটক করেছেন।
আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ আতাউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অপর আসামীদের গ্রেপ্তারে তৎপরতা চলছে। #















