নরসিংদী প্রতিনিধি: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘দেশের মানুষ পরিবর্তন এবং শান্তিতে থাকতে চায়। আজকে কিছু মানুষ বলে অমুককে দেখেছি, তমুককেও দেখলাম, এবার অন্যকে দেখি। যারা এসব বলছেন, তাদেরকে এ দেশের মানুষ ৫০ বছর আগেই দেখেছে। এখন দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়, শান্তিতে থাকতে চায়।’
তারেক রহমান বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দিনগত রাতে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনি জনসভায় নরসিংদীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ২টা ১০ মিনিটে তিনি সমাবেশস্থলের নির্ধারিত মঞ্চে ওঠেন।

বিকেল থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিলে সমাবেশস্থল লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। তীব্র শীত উপেক্ষা করে মধ্যরাত পর্যন্ত মানুষ তারেক রহমানের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে।
তারেক রহমান বলেন, ‘একটি গোষ্ঠী স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল। সেদিন যদি তারা দেশের মানুষের স্বার্থের বিরোধিতা না করত, তাহলে লাখ লাখ মানুষকে শহীদ হতে হত না। লাখ লাখ মা-বোনের সম্মান নষ্ট হত না।’
তারেক রহমান বলেন, “আমি টানা ১৭ বছর পর বিদেশ থেকে দেশে ফিরে একটা কথা বলেছিলাম- ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’। সেই প্ল্যানের একটি অংশ হচ্ছে- এ দেশের বেকার যুবক। শিক্ষিত হোক, অল্প শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত—সব মানুষের জন্য আমরা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই। যেন এই মানুষগুলো নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে।”

তারেক রহমান বলেন, “নরসিংদী জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন অতীতে বিএনপিই করেছে। পলাতক সরকার ১৬ বছরে কিছুই করেনি। আমরা ক্ষমতায় গেলে এই জেলার রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করবো, পুনরায় খাল খনন প্রকল্প শুরু করবো, কৃষির উন্নয়ন করবো, সাধারণ মানুষের জন্যে কর্মের উন্নয়ন করবো। স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন করা হবে।”
সমাজের ও তরুণ সমাজের সদস্যদের উদ্দেশ্য তারেক রহমান বলেন, “যুব সমাজের যারা সদস্য, তরুণ সমাজের যারা সদস্য- আমরা তাদের অর্থনৈতিকভাবেও সক্ষম করে গড়ে তুলতে চাই। আপনারা লন্ডনে যান, অথবা এখান থেকে মধ্যপ্রাচ্যে বা পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে যান, আমরা আপনাদের ট্রেনিং দিয়ে পাঠাব, আপনাদের সেই দেশের ভাষা শিক্ষা দিয়ে পাঠাব, যেন ওই দেশে গিয়ে আপনারা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা দ্রুত করতে পারেন।”

তারেক আরও বলেন, “আপনারা যদি কোনো রকম দক্ষ না হয়ে সে দেশে যান, আয়-রোজগার কম হবে। কিন্তু যদি কোনো ট্রেনিং নিয়ে যান, তাহলে কী হবে? রোজগার বেশি হবে না? আমরা সেই ব্যবস্থা এ দেশের মানুষের জন্য করতে চাই।”
তারেক রহমান বলেন, “যেসব পরিবারকে আমরা ফ্যামিলি কার্ড দিতে চাই, এই কার্ডের মাধ্যমে আমরা হয় খাদ্য সহায়তা বা নগদ সহায়তা দেবো। যেন তারা সংসার সুন্দরভাবে চালিয়ে নিতে পারেন। কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ডের পাশাপাশি দেশের প্রত্যেক পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা কৃষকদের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মা-বোনদের পাশে দাঁড়াতে চাই।”
বিএনপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, “একইভাবে আরেক শ্রেণির মানুষের পাশে আমরা দাঁড়াতে চাচ্ছি, তারা কারা? তারা আমাদের আপনজন। এই মানুষগুলো আমাদের সুখ-দুঃখে সঙ্গে থাকেন। জীবনেও আমাদের সঙ্গে থাকেন, মৃত্যুর সময়ও আমাদের সঙ্গে থাকেন। অর্থাৎ আমাদের বিভিন্ন সারা দেশে যে মসজিদ-মাদ্রাসা আছে, সেখানকার খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিন সাহেবরা।”
তারেক রহমান বলেন, “আমরা এই মানুষগুলোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সম্মানীর ব্যবস্থা করতে চাই। যেন মসজিদের ইমাম, খতিব ও মুয়াজ্জিন সাহেবরা আত্মসম্মান নিয়ে সম্মানের সঙ্গে এই সমাজে বসবাস করতে পারেন। একটি দল স্বাধীনতা চলাকালে লক্ষ লক্ষ মা-বোনদের হত্যায় সহায়তায় করেছে, তারা এ দেশ চায়নি। এখন, আবার জান্নাতের টিকিটের বিনিময়ে তাদের মহিলা কর্মীরা ভোট চাইছে, বিকাশ, নগদ নাম্বার সংগ্রহ করে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। তাদের কার্যকলাপের ওপর সতর্ক নজর রাখতে হবে।”

ভোটারদের উদ্দেশ্য করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি তাহাজ্জুদ নামাজ পড়বেন নিজ এলাকায়, ফজর নামাজ পড়বেন ভোট কেন্দ্রের কাছের মসজিদে যাতে ওই দলটি ভোট কারচুপির সুযোগ না পায়। সিলেট থেকে নরসিংদীতে রাস্তায় আসার পথে সাধারণ মানুষের প্রচুর ভীড় হয়েছে, শুধু আমাদের সাথে দেখা করার জন্য, কথা বলার জন্য। মানুষ আমাদেরকে ভোট দেবে। আপনারা সঠিক দায়িত্ব পালন করুন, বিজয় ইনশাআল্লাহ ধানের শীষের হবে।”
নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর এলাহীর সঞ্চালনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনের প্রার্থী ড. আব্দুল মঈন খান, নরসিংদী-৪ আসনের প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সহ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সরদার শাখাওয়াত হোসেন বকুল, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ কেন্দ্রীয়, স্থানীয়সহ দলীয় নেতাকর্মীরা।
সংবাদ প্রেরক বিটিসি নিউজ এর নরসিংদী প্রতিনিধি মো. গোলাম মোস্তফা মামুন। #

















