নিজস্ব প্রতিবেদক: তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবাওে নির্বাচন করার জন্য তিন আসনে মনোনয়ন উত্তোলন করেছিলেন। কিন্তু তার আগেই ৩০ ডিসেম্বর তিনি এভার কেয়ার হাসপাতালে সকলকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। সেজন্য আজকে তাঁর রুহের মাগহফিরাত কামনায় দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। ইতিপূর্বে এখানে বেগম জিয়ার সুস্থতার জন্য দোয়ার আয়োজন করা হয়েছিলো বলে শনিবার বিকেলে কেশরহাট পৌর এলাকাবাসীর আয়োজনে কেশরহাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মাদার অব ডেমোক্রেসি তিনবারের সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী,বিএনপির সাবেক চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং পবা-মোহনপুরের বিএনপি মনোনিত ধানের শীষের প্রার্থী এডভোকেট শফিকুল হক মিলন এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ১৯৪৫ সালে তিনি জন্ম গ্রহন করেছিলেন। আর ১৯৬০ সালে তাঁর মেজর জিয়াউর রহমানের সাথে মাত্র পনের বছল বয়সে বিয়ে হয়েছিলো। আর ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হলে মেজর জিয়াউর রহমান পাকিস্তানের হয়ে ভারতের বিপক্ষে যুদ্ধে অবতীর্ন হয়েছিলেন। সেই যুদ্ধে ভারত পরাজিত হয়ে ছিলো। সেনা সদস্য যাদের বাড়িতে আছে, আর সেই সদস্য যদি যুদ্ধে যায় তাহলে ঐ পরিবারের সদস্যদের অবস্থাটা কি হয় তা ঐ পরিবারের সদস্যরাই জানেন। বেগম জিয়া তখণ থেকেই তিনি নিজেকে প্রস্তুত করেছিলেন। মাত্র বিশ বছর বয়সে তিনি কঠিন সময় পার করেছেন। একজন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তা যদি সেই দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করেন। তাহলে সেই সদস্যর কি অবস্থা হতে পাওে তা সবাই অনুমান করতে পারে।
এরপর ১৯৭১ সালে শুরু হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ। এই যুদ্ধে অংশগ্রহন ও পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে বাঁচাতে মেজর জিয়াউর রহমান পূর্ব পাকিস্তানে চলে আসেন। এরপর তিনি কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। নিজ দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করেছিলেন। একজন সামরিক সদস্য যদি তার দেশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন তাহলে সে দেশ তাঁকে কি বলে আখ্যাদেয় তা সবাই জানে। সে অবস্থাতেই বেগম জিয়া চট্টগ্রামকে নিরাপদ মনে না করে সেখান থেকে জাহাজে করে চট্টগ্রামে চলে আসেন। সেখান থেকে তিনি তাঁর দুই সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় পৌঁছালে পাকিস্তানী বাহিনীর নিকট তাঁরা আটক হন। তাঁর স্ত্রী হয়ে তিনি দীর্ঘ নয়মাস সেখানে তিনি আটক ছিলেন। সেখানে তাঁকে অনেক নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। তবৃুও তিনি দমে যাননি। সেখান নিজেকে আরো দৃঢ়চিত্তের করে গড়ে তুলেছিলেন বলে জানান মিলন।
এরপর প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানেক ১৯৮১ সালের ৩০ মে হত্যা করা হয়েছিলো। সেদিন বিএনপির বড় বড় নেতারা প্রেসিডেন্ট হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ এর দলে চলে গিয়োছিলো। সে সময়ে বিএনপির অবস্থা অত্যন্ত খারাপের দিকে ধাবিত হচ্ছিল। সে সময়ে পার্টির অন্যান্য সদস্যদের অনুরোধে দলকে এবং দেশের মানুষকে বাঁচাতে দলের হাল ধরেছিলেন। প্রথমে তিনি সহ-সভাপতি হয়েছিলেন। পরে তিনি চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হন সেইথেকে তিনি দীর্ঘ ৪১ বছর একই পদে ছিলেন তিনি। তিনি এরপর স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন। সে সময়ে তিনি অনেক নির্যাতন সহ্য করেছেন। কারাবরণ করেছেন। কিন্তু অন্যায়ের সাথে তিনি আপোস করেননি। অন্য দলের মত বেইমানী ও মেনাফেকী করেননি। এজন্য তিনি আপোসহীন নেত্রী হিসেবে খেতাব পেয়েছিলে।
মিলন বলেন, এই স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে তিনি সফল হন। এরপর ১৯৯১ সালে নির্বাচন হলে জনগণ তাঁকে ভোট দিয়ে সংসদ সদস্য নির্চাচিত করে। সেইসাথে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহন করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়ে প্রেসিডেন্সি প্রথা বিলুপ্তি করে সংসদীয় প্রথা চালু করেন। প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় তিনি তাঁর স্বামীর রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার জ্যণ আপ্রান চেষ্টা করে গেছেন। তিনি মেয়েদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সুবিধার্থে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি আলেম ওলামাদের ভালবাসতেন।
সেই নেত্রীকে তিনি দীর্ঘ সোয়া ছয় বছর মিথ্যা মামলার সাজানো রায়ে কারাগারে রাখা হয়েছিলো। কারাগাওে থাকা অবস্থায় তাঁর মা ও বোন মারা যান। এর আগে তাঁকে তাঁর স্মৃতি বিজরীত বসত ভিটা উচ্ছেদ করা হয়েছিলো। এমনকি বুল্ডরোজার দিয়ে তাঁর বাড়ি মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া হয়েছিলো। শত নির্যাতন করেও তিনি তিনি দেশের মানুষকে ও দেশকে বাঁচাতে একটি স্লোগান দিয়েছিলেন দেশ বাঁচাও,দেশের মানুষ বাঁচাও। তাঁর এই কথা সে সময়ে বিএনপি নেতাকর্মী ও জনগণ বুঝতে পারেনি। পওে জনগণ হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে। খুনি হাসিনা দেশকে ভারতের নিকট বিক্রি কওে দিয়েছে। দেশেল মানুষের সকল প্রকার স্বাধীনতা খর্ব করেছিলো বলে উল্লেখ করেন তিনি। গত ৫আগস্ট ছাত্র-জনতাকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর সেই কথা অক্ষরে অক্ষরে ফলিত হয়েছে।
রেখে গেছেন মানুগুরুতর অসুস্থ হলেও তিনি দেশের বাহিরে যেয়ে চিকিৎসা করার অনুমতি পাননি। তাঁর কক্ষে তেলাপোকা, টিকটিকি ও ইঁদুর ছেড়ে দেয়া হতো। সেখান থেকে তিনি ধীরে ধীরে অসুস্থ হতে থাকেন। তিনি আর সম্পুর্নভাবে সুস্থ হতে পারেননি। তাঁর রুমে একটি এসি পর্যন্ত দেয়া হয়নি। তাঁকে চিকিৎসা করা জন্য ওদেশেল বাহিরে নেয়ার জন্য বললেও তাঁকে বিদেশে নিতে দেয়া হয়নি। এরপর গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর দেশের মানুষকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন।
তিনি বলেন, তাঁর মৃত্যু সবাইকে একতাবদ্ধ হতে শিখিয়ে গেছে। কারণ তাঁর জানাযায় বিশ্বের ২৬টি রাষ্ট্র থেকে নেতৃবৃন্দ এসেছিলেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পরে বিশ্বে এমন কোন নেতার জানাযায় এত লোক হয়নি বলে জানান তিনি। দেশে তাঁকে সর্বোচ্চ সম্মান দেয়া হয়েচে। আল্লাহ কাউকে সম্মান দিলে কেই তা কেড়ে নিতে পারেনা। জানাযায় দেশের সমস্ত আলেম ওলামা তাঁর খাটিয়া ধরে নিয়ে গিয়েছিলো। তাঁকে জানাযা শেষে তাঁর স্বামীর পাশে জিয়া উদ্যোনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশেই তাঁকে দাফন করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বেগম জিয়া, আরাফাত রহমান কোকো, জুলাই যুদ্ধে সকল শহীদ ও দীর্ঘ সতের বছরে স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সকল মৃত মুসলিম ব্যক্তির আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। সেইসাথে যারা অসুস্থ আছেন তাদের সুস্থতা কামনা করে আসছে নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে সবাইকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন। বক্তব্য শেষে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন কেশরহাট পৌর বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন আলো।
সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান এর সার্বিক তত্বাবধানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সদস্য ও মোহনপুর উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আব্দুস সামাদ, জেলা বিএনপির সদস্য আবু হেনা কামরুজ্জামান, মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামিমুল ইসলাম মুন, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আর রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক বাচ্চু রহমান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজিম উদ্দিন সরকার, কেশরহাট পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক খুশবুর রহমান।
আরো উপস্থিত ছিলেন, কেশরহাট পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মকবুল হোসেন, কেশরহাট পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বাবুল আক্তার ও মাহবুব আলম বুলবুল, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ওসমান আলী,সাবেক কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মোজাদ্দেদ জামানি সুমন, কেশরহাট পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের রাইসুল ইসলাম জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা রুমেনা ইসলাম, জেলা ওলামা দলের আহ্বায়ক তাজউদ্দিন আহমেদ ও মোহনপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক ও সদস্য সচিব মাহমুদুল হাসান রুবেল পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহীন আলম সহ বিএনপ, অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীবৃন্দ।
এছাড়াও তিনি রাতে বেগম জিয়ার আত্মার শান্তি কামনায় নওহাটা পৌর এলাকায় পবা ও মোহনপুর এলাকার সোনাতনী সম্প্রদায়ের প্রার্থনা সভায় যোগ দেন। এরপূর্বে সকালে তিনি কেশরহাটে আগত জনগণ ও দোকানদারদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। #















