BTC News | বিটিসি নিউজ

আজ- বুধবার, ২১শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২রা শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

আজ- ২১শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

প্রধান উপদেষ্টার হাতে নতুন পে-স্কেলের প্রতিবেদন, বেতনসহ বহু ক্ষেত্রে সুখবর

প্রধান উপদেষ্টার হাতে নতুন পে-স্কেলের প্রতিবেদন, বেতনসহ বহু ক্ষেত্রে সুখবর

বিশেষ (ঢাকা) প্রতিনিধি: নির্ধারিত সময়ের তিন সপ্তাহ আগেই প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে নতুন পে-স্কেল সংক্রান্ত প্রতিবেদন পেশ করেছে নবম জাতীয় বেতন কমিশন। প্রতিবেদনে বেতনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুবিধা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয় বেতন কমিশন বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

গত বছরের ২৭ জুলাই সরকার ২৩ সদস্যবিশিষ্ট নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে এবং ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ করে। ২০১৩ সালে অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের পর দীর্ঘ ১২ বছর পর এই কমিশন গঠিত হয়। কমিশনের প্রতিবেদন দাখিলের নির্ধারিত শেষ তারিখ ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। কমিশন তাদের জন্য নির্ধারিত বাজেটের মাত্র ১৮ শতাংশ ব্যয়ে প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।

প্রতিবেদন হাতে নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এটি একটি মস্ত বড় কাজ। মানুষ বহুদিন ধরে এর জন্য অপেক্ষা করছে। আউটলাইন দেখে বুঝলাম, খুবই সৃজনশীল কাজ হয়েছে।

এ সময় কমিশনপ্রধান জাকির আহমেদ খানে বলেন, গত এক দশকে বৈশ্বিক ও জাতীয় পর্যায়ে অর্থনীতির প্রায় সকল সূচকে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সময়োপযোগী ও যথাযথ বেতন কাঠামো নির্ধারণ না হওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের জন্য জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহ ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সুস্পষ্ট কার্যপরিধি নির্ধারণপূর্বক বিদ্যমান বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে কমিশন কাজ করে।

নির্ধারিত কার্যপরিধি অনুসরণ করে সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত সুপারিশ প্রণয়নের উদ্দেশ্যে কমিশন বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে অনলাইন ও অফলাইনে ১৮৪টি সভা করে এবং ২৫৫২ জনের মতামত ও প্রস্তাব গ্রহণ করে। পাশাপাশি বিভিন্ন সমিতি ও অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনাসভার আয়োজন করে ব্যাপক মতবিনিময় করা হয়। কমিশনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ছিল প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আর্থিক সংস্থান নির্ধারণ এবং এর বাস্তবায়নযোগ্যতা পর্যালোচনা করা।

কমিশন প্রধান জানান, প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে এক লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের ব্যয় হচ্ছে এক লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।

জানা গেছে, নতুন পে স্কেলে সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন ১০০ থেকে ১৪৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। এতে সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডে বেতন স্কেল ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে এবং সর্বোচ্চ বেতন স্কেল ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

পেনশনভোগীদের জন্যও বড় ধরনের সুবিধার কথা ঘোষণা করা হয়েছে প্রতিবেদনে। যারা মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পান, তাদের পেনশন শতভাগ বা দ্বিগুণ বৃদ্ধি করা হবে। ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকার পেনশনপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ এবং ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনপ্রাপ্তদের জন্য ৫৫ শতাংশ পেনশন বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে।

প্রবীণ পেনশনভোগীদের চিকিৎসা ভাতাও বাড়ানো হবে। ৭৫ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা ১০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে, যা বর্তমানে ৮ হাজার টাকা। অন্যদিকে ৫৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা ৫ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

কেবল মূল বেতন বা পেনশন নয়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আনন্দের খবর আসছে বৈশাখী ভাতায়ও। বর্তমানে মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বৈশাখী ভাতা দেয়া হলেও নতুন পে-স্কেলে তা বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ উৎসবের আনন্দ আরও বাড়িয়ে দিতে ভাতার পরিমাণ আড়াই গুণ বাড়তে পারে।

এদিকে প্রতিবেদন দাখিলকালে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এই প্রস্তাব বাস্তবায়নই এখন পরবর্তী কাজ। এ লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হবে, যে কমিটি বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে কাজ করবে।

কমিশনের প্রতিবেদনে নতুন নতুন প্রস্তাবনার মধ্যে রয়েছে— সরকারি কর্মচারীদের জন্য স্বাস্থ্যবীমা প্রবর্তন, পেনশন ব্যবস্থার সংস্কার, সরকারি কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড পুনর্গঠন, সার্ভিস কমিশন গঠন, বেতন গ্রেড ও স্কেলের যৌক্তিক পুনর্বিন্যাস, সরকারি দপ্তরসমূহে ভাতাসমূহ পর্যালোচনার জন্য কমিটি গঠন এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে মানবসম্পদ উন্নয়ন।

প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে, কোনো কর্মচারীর প্রতিবন্ধী সন্তান থাকলে, বেতন কমিশন সংশ্লিষ্ট মাসিক ২ হাজার টাকা ভাতা প্রদানের সুপারিশ করেছে, শর্ত থাকে যে, সকল ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ দু’জন সন্তান এই সুবিধা পাবে।

এতে আরও বলা হয়েছে, টিফিন ভাতার বর্তমানে প্রচলিত বিধানাবলি অব্যাহত থাকলে, তবে কমিশন ভাতার হার বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বর্তমানে প্রচলিত মাসিক টিফিন ভাতা ২০০ টাকার স্থলে ১ হাজার টাকা করা যেতে পারে।

প্রতিবেদন পেশকালে উপস্থিত ছিলেন, অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী, অর্থ সচিব খায়রুজ্জামান মজুমদারসহ কমিশনের সকল পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীন সদস্যবৃন্দ।

সংবাদ প্রেরক বিটিসি নিউজ এর বিশেষ (ঢাকা) প্রতিনিধি মো. আনোয়ার হোসেন। #

এইরকম আরও খবর

সর্বশেষ খবর

ব্রেকিং নিউজ
জামালপুরে ৩০ জন প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ, প্রতীক গ্রহণ করেননি এক স্বতন্ত্র প্রার্থী ইসলামপুরে যমুনা দূর্গম চর থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ এক যুবক আটক রাজশাহীতে হারানো ৫০টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর নগরীর নিরাপত্তা তদারকিতে রাতে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করলেন আরএমপি পুলিশ কমিশনার নড়াইলে দেশীয় অস্ত্রসহ যুবক গ্রেপ্তার চুয়াডাঙ্গায় ৮৪০ বোতল ইসকাফ সহ আটক-২ বেতন কমিশনের প্রতিবেদনে নতুন যেসব প্রস্তাবনা প্রধান উপদেষ্টার হাতে নতুন পে-স্কেলের প্রতিবেদন, বেতনসহ বহু ক্ষেত্রে সুখবর সিলেটে পৌঁছেছেন তারেক রহমান আ.লীগকে নির্বাচনে আনার প্রশ্নে এবার মুখ খুললেন সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা