বিটিসি আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের রাজধানী তেহরানের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তসহ পার্শ্ববর্তী শহরগুলোতে অত্যন্ত শক্তিশালী ও ‘ভয়াবহ বিস্ফোরণ’ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ইরানি ব্লগার ওয়াহিদ অনলাইন জানিয়েছেন, রাজধানীর পূর্ব শহরতলী পারদিস এবং নিকটবর্তী দামাভান্দ শহরসহ তেহরানের বিস্তীর্ণ এলাকা এসব বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে।
ব্লগারদের আরেকটি গোষ্ঠী ‘মামলেকাতে’ দামাভান্দ এলাকায় অন্তত তিনটি অত্যন্ত শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে নিশ্চিত করেছে। ইসরায়েল যখন ইরানের রাজধানী তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছে, ঠিক তখনই এই বিস্ফোরণগুলো ঘটল। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো হবে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর তথ্য অনুযায়ী, ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত বৃহত্তম বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো তেহরানের নিকটবর্তী দামাভান্দ বিদ্যুৎকেন্দ্র, যার উৎপাদন ক্ষমতা ২ হাজার ৮৬৮ মেগাওয়াট।
এ ছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের কেরমান বিদ্যুৎকেন্দ্র (১ হাজার ৯১০ মেগাওয়াট) এবং খুজেস্তান প্রদেশের রামিন স্টিম পাওয়ার প্ল্যান্ট (১ হাজার ৮৯০ মেগাওয়াট) দেশটির প্রধান বিদ্যুৎ উৎস। এই তালিকায় আরও রয়েছে বুশেহর উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত ইরানের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, যা থেকে প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। ট্রাম্পের হুমকির পরপরই দামাভান্দ এলাকায় বিস্ফোরণের খবর আসায় ধারণা করা হচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সম্ভবত ইরানের জ্বালানি গ্রিড অচল করে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
বর্তমানে তেহরানের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং বিস্ফোরণের তীব্রতায় অনেক এলাকায় জানমালার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। দামাভান্দ এলাকাটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সেখানে হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিদ্যুৎকেন্দ্র বা সামরিক স্থাপনা থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এই সংঘাত এখন সরাসরি ইরানের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। যদি দামাভান্দ বা এই জাতীয় বড় কেন্দ্রগুলো অকেজো হয়ে পড়ে, তবে পুরো ইরানে এক নজিরবিহীন বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এবং মার্কিন প্রশাসনের এই সমন্বিত পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ইরান ইতিমধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তাদের বিদ্যুৎ বা জ্বালানি অবকাঠামো আক্রান্ত হলে তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত সব মার্কিন স্থাপনায় পাল্টা আঘাত হানবে।
এমন এক উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে তেহরানের দোরগোড়ায় এই শক্তিশালী বিস্ফোরণগুলো পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য এক অশনিসংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এখন গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছেন যে, ৪৮ ঘণ্টার এই আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার আগেই বড় ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড শুরু হয়ে গেল কি না। #















