বিটিসি আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গ্রিনল্যান্ড নিয়ে জটিল ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তির কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক রুটের সঙ্গে আলোচনার পর ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই আলোচনা থেকেই ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তির বিষয়টি উঠে এসেছে। এই আলোচনা খুবই ফলপ্রসূ হয়েছে।
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে মার্কিন পরিকল্পনার বিরোধিতা করার জন্য ইউরোপের আটটি দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক বসানোর যে হুমকি ট্রাম্প দিয়েছিলেন, তার থেকেও তিনি সরে এসেছেন।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি গ্রিনল্যান্ড নিয়ে শক্তি প্রয়োগ করবেন না। ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প বলেন, আলোচনা এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে আরো তথ্য প্রকাশ করা হবে।
আলোচনা চলাকালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ সরাসরি তার কাছে প্রতিবেদন দেবেন বলেও জানান তিনি।

ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন এক বিবৃতিতে বলেন, দিনটি যেভাবে শুরু হয়েছিল, তার চেয়ে ভালোভাবেই শেষ হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, ‘এখন আসুন, বসে দেখি কীভাবে আমরা ডেনমার্ক রাজ্যের সীমানাকে সম্মান জানিয়ে আর্কটিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা উদ্বেগগুলো সমাধান করতে পারি।’

সিএনবিসিকে ট্রাম্প বলেন, সম্ভাব্য এই চুক্তি চিরস্থায়ী হতে পারে এবং এতে খনিজ সম্পদের অধিকার ও পরিকল্পিত ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমরা গ্রিনল্যান্ড নিয়ে, বস্তুতপক্ষে গোটা আর্কটিক বা উত্তর মেরু অঞ্চল নিয়ে ভবিষ্যত্ চুক্তির একটা ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করছি। আমরা যদি এই সমাধানে পৌঁছাতে পারি, তাহলে তা আমেরিকা ও ন্যাটো দেশের পক্ষে খুবই ভালো বিষয় হবে।’

ট্রাম্প বলেছেন, ‘এই চুক্তিতে সবাই খুশি হবেন। এটা দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি হবে। সবার জন্য ভালো হবে, বিশেষ করে নিরাপত্তা ও খনি-সংক্রান্ত বিষয়ের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের ভালো হবে।’
ট্রাম্প মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে বলেন, ‘এই চুক্তি নিয়ে সবাই খুব খুশি। আমাদের যা চাই, আমরা তা পাচ্ছি।’

ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে জানিয়েছেন, চুক্তিতে খনিসংক্রান্ত অধিকার দেওয়ার বিষয়টি থাকতে পারে। দূরপাল্লার মিসাইল থেকে বাঁচার জন্য গোল্ডেন ডোম ডিফেন্স সিস্টেম নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলো ট্রাম্পের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে পারে।’
রুটে জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠকে গ্রিনল্যান্ডের ওপর ডেনমার্কের সার্বভৌমত্বের মূল বিষয়টি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

তিনি ফক্স নিউজকে বলেন, ‘আজ রাতে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আমার কথোপকথনে এই বিষয়টি আর আসেনি’। এর আগে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড ইজারা নেওয়ার ধারণা নাকচ করে দিয়ে বলেছিলেন, ‘মালিকানা রক্ষা করা হয়, ইজারা নয়’।
‘সার্বভৌমত্ব নিয়ে আলোচনা নয়’

ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড-সম্পর্কিত বিষয়গুলোতে কেবল এই দুটি দেশই সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।
তিনি বলেছেন, ডেনমার্ক রাজ্যের অবস্থান সম্পর্কে ন্যাটো সম্পূর্ণরূপে অবগত।

আমরা রাজনৈতিক সবকিছু নিয়ে আলোচনা করতে পারি; নিরাপত্তা, বিনিয়োগ, অর্থনীতি। কিন্তু আমরা আমাদের সার্বভৌমত্ব নিয়ে আলোচনা করতে পারি না। আমাকে জানানো হয়েছে যে এটিও হয়নি।
তার মতে, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড-সম্পর্কিত বিষয়গুলিতে কেবল ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডই সিদ্ধান্ত নিতে পারে। #















